দক্ষিণ আমেরিকার দুবাই বলা হচ্ছে যে দেশকে

 


ODD বাংলা ডেস্ক: দক্ষিণ আমেরিকার একটি দেশের নাম গায়ানা। দেশটির প্রায় ৪৩ শতাংশ মানুষ হিন্দু ধর্মাবলম্বী। গায়ানার অধিকাংশ মানুষের চেহারা ভারতীয়দের মতো। অধিকাংশ মানুষ কথাও বলে হিন্দি, ভোজপুরিসহ নানা ভারতীয় ভাষায়। তবে এর অফিশিয়াল ভাষা ইংরেজি। এটি দক্ষিণ আমেরিকার একমাত্র দেশ, যার অফিশিয়াল ভাষা ইংরেজি। 


ভারতীয় সংস্কৃতির আধিক্যের পেছনে একটি দুঃখজনক ইতিহাস আছে। গায়ানা একশত পঞ্চাশ বছর ব্রিটিশদের অধীনে ছিল। সে সময় ক্রীতদাস ও শ্রমিক হিসেবে উপমহাদেশ থেকে অনেক মানুষ নিয়ে যাওয়া হয়। ধীরে ধীরে তারা গায়ানার মূল স্রোতে মিশে যায়। গায়ানার জাতির পিতা ছিলেন একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিক। তিনি দেশটির স্বাধীনতা সংগ্রামে ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে তিনি গায়েনার প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। 


প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের রানী এই ছোট দেশটি। অসংখ্য রেইনফরেস্ট রয়েছে এখানে। এছাড়া এদেশে রয়েছে প্রচুর জলপ্রপাত। বিশ্বের সবচেয়ে বড় সিঙ্গেল জলপ্রপাত কেইটিউর এই দেশেই অবস্থিত। এর উচ্চতা নায়াগ্রার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি। প্রায় আট হাজার প্রজাতির গাছ এবং দুই হাজার প্রজাতির প্রাণীর বসবাস রয়েছে দেশটিতে। এখানে এমনও প্রাণী এবং গাছ আছে, যা বিশ্বের আর কোথাও নেই। অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে, দেশটির ৮০ ভাগ এলাকা জুড়ে ঘন বন রয়েছে। এসব বনে এখনো কোনো বসতি গড়ে ওঠেনি।


২০১৫ সালের আগে দেশটির অর্থনীতি কৃষি প্রধান ছিল। চিনি রপ্তানি, কাঠ সংগ্রহ, চিংড়ি সংগ্রহ ছিল এখানকার মানুষের অন্যতম জীবিকা। তবে ২০১৫ সালে তেলের খনি আবিষ্কৃত হওয়ায় বর্তমানে দেশটির অর্থনীতি তেল রপ্তানি নির্ভর হয়ে উঠেছে। প্রচুর তেলের মজুদ রয়েছে এখানে। তাই একে এখন দক্ষিণ আমেরিকার দুবাই বলা হচ্ছে। তবে তেলকে কেন্দ্র করে দেশটিতে দুর্নীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সীমান্ত বিরোধও বেড়েছে। 


বর্তমানে বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ এটি। দেশটিতে দ্য ওমেই নামের সোনার খনি রয়েছে। এই খনিতে ৩৭ লাখ আমস সোনা আছে বলে ধারণা করা হয়। গায়ানার  শিক্ষার হার ৯৬ প্রায় শতাংশ। তবে এখানে শিক্ষার ব্যয় অনেক বেশি। তাই খুব কম লোকই উচ্চশিক্ষা নিতে পারেন। 


গায়ানার রাজধানীর জর্জটাউন একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। এখানে দেশেটির বেশিরভাগ লোক বসবাস করে। ব্রায়ান লারা সহ বিখ্যাত অনেক খেলোয়াড়ের জন্মস্থান এই শহরে। দেশটিতে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। মিনিবাসে করে জনগণ যাতায়াত করে। বিশ্বের অন্যতম লম্বা ভাসমান সেতুর অবস্থান এখানে। ডেমেরারা নদীর উপরে এই সেতুর নাম ডিমেরারা হারবার ব্রিজ। গায়ানাতে নদীর পরিমাণ অনেক বেশি। তাই একে জলের দেশ বলা হয়।


বিশ্বের অন্যতম উঁচু গির্জা সেন্ট জর্জস ক্যাথেড্রাল গায়ানাতেই অবস্থিত। এই গির্জাটি কাঠের তৈরি। এটির অন্যন্য সৌন্দর্যয় ও নির্মাণশৈলী দেখতে বিপুলসংখ্যক পর্যটক এখানে ভিড় করে। গায়ানার জনগণ নিজের সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এখানে লাভ ম্যারেজকে ভালো চোখে দেখা হয় না। বেশির ভাগ মানুষই অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ করে থাকে। মেয়েরা নিজ হাতে সন্তান লালন-পালন করতে ভালোবাসেন।


এখানে সমকামিতা নিষিদ্ধ। কেউ নিষেধাজ্ঞা না মানলে তাকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও খনিজ সম্পদে ভরপুর এ দেশটি বেশ সম্ভাবনাময়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে এর জন্য অবশ্যই অভ্যন্তরীণ অস্থির রাজনীতির আর দুর্নীতি দূর করতে হবে। তবেই গায়ানা দক্ষিণ আমেরিকার প্রভাবশালী ও ধনী দেশে পরিণত হবে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.