৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধার উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার কাহিনী

 


ODD বাংলা ডেস্ক:  বয়স একটা সংখ্যা মাত্র, এটা সবাই শুনেছি, তাই না? তবে কখনো কি শুনেছেন, কোনো মানুষ তার ৯০তম জন্মদিনে এসে তার জীবনের প্রথম ব্যবসা শুরু করেছেন? কি অবাক হচ্ছেন? শুনে হয়তো মনে হচ্ছে সংসারের অভাব বা ছেলেমেয়েরা ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেয় না, তাই এই বয়সে রাস্তায় নেমেছেন। না, মোটেই তা নয়! আজ জানাবো ৯০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প।

ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের চণ্ডীগড় জেলার মেয়ে রবিনার সঙ্গে থাকেন তার বৃদ্ধা মা। রবিনা চার বছর আগে একদিন মায়ের সঙ্গে গল্প করছিলেন। কথা প্রসঙ্গে মায়ের কি করতে ভালো লাগে জানতে চান তিনি। জীবনে কোনো আক্ষেপ আছে কি না? এসব কথা উঠে আসে। কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর মাথা নেড়ে বৃদ্ধা মা জানান, জীবনে কখনো নিজে উপার্জন করতে পারেননি, এটাই তার একমাত্র আক্ষেপ। সেদিন বৃদ্ধার কাছে গল্পটা এখানেই শেষ হয়ে গেলেও, মেয়ের কাছে শেষ হয়নি।


তিনি মায়ের জন্য কিছু একটা করার কথা ভাবলেন। তবে কি করবেন তিনি। তখন হঠাৎ করেই তার মনে হলো মা খুব ভালো রান্না করতে পারেন। বাড়ির কোনো উৎসব বা অনুষ্ঠানে কখনোই দোকান থেকে মিষ্টি কিনতে হয়নি।চমৎকার সব মিষ্টি বানাতেন তিনি। এছাড়াও বানাতে পারেন নানা রকম সুস্বাদু আচারও। ছোটবেলায় দেখতেন মায়ের রান্না খেয়ে অতিথিরা বেশ প্রশংসাও করতেন। তবে ভীষণ লাজুক মা কখনোই অতিথিদের সামনে আসছেন না।


দিনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়ে দিতেন রান্নাঘরেই। যেই ভাবা সেই কাজ। মায়ের কাছে গিয়ে নিজের ব্যবসা শুরুর প্রস্তাব রাখেন তিনি। তবে এই বয়সে ব্যবসার কথা শুনে প্রথমে চমকে যান বৃদ্ধা। পরে নাতনি এবং মেয়ের জরাজুরিতে ৯০ বছর বয়সেই নিজের ব্যবসা শুরু করতে রাজি হন। প্রথম দিনের কিছু বরফি এবং বিভিন্ন ধরনের আচার বানিয়ে কাছের একটি বাজারে নিয়ে যান। আর সেদিন  কিছুক্ষণের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায় সব। বৃদ্ধা হাতে পান দুই হাজার টাকা।


৯০ বছরের জীবনে তার প্রথম উপার্জিত টাকা। টাকাটা হাতে নিয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন তিনি। যে বয়সে মানুষ বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর প্রতীক্ষা করেন, সেই বয়সেই কি না পেয়ে গেলে পৃথিবীতে আরো কয়েকটা বছর মনের আনন্দে বেঁচে থাকার মতো জীবনের আরেকটা রং। সেদিন বৃদ্ধার মনে জন্ম নিলো নতুন এক আত্মবিশ্বাসের। এরপর তিনি নিজেই কাস্টমারদের কাছ থেকে অর্ডার নিতে শুরু করেন। এমনকি বরফি বানিয়ে সেগুলো পাঠিয়ে দেন দোকানে দোকানেও।  অবশ্য প্যাকিং বা অন্যান্য কাজে সহযোগিতা করেন মেয়ে ও নাতিন। গত চার বছর ধরে একই রকম উৎসাহ নিয়ে কাজ করে চলেছেন তিনি।


এখন তার বয়স ৯৪ বছর। আর এই বয়সে এসেও নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া ৯৪ বছরের এই যুবতীর নাম হরভজন কৌর। যিনি দেখিয়ে দিয়েছেন বার্ধক্য আসলেই শরীরে নয়, মনে! এখন হরভজন কৌর নামের এই বৃদ্ধ মায়ের রয়েছে ছোট্ট একটি প্রতিষ্ঠান, যার নাম হরভজনস আর এর  ট্যাগ লাইন হচ্ছে বাচপান ইয়াদ আজায়ে অর্থাৎ শৈশব মনে পড়ে যাবে। তবে ছোট হলেও, তার এই প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই সবার মাঝেই আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কিছুদিন আগে ভারতীয় বিজনেস আইকন আনন্দ মহিন্দ্রা হরভজন কৌরের একটি ভিডিও টুইট করে লিখেছেন।


স্টার্টআপ শব্দটি শুনলেই আপনার হয়তো মাথাতে আসে কেউ সিলিকন ভ্যালি বা বেঙ্গালুরুতে গিয়ে কোটি কোটি টাকা ঢালছেন। তবে এবার থেকে এসবের বাইরেও আপনাকে যোগ করতে হবে আরো একটি নাম। ৯৪ বছর বয়সী এক নারী, যিনি নিজের বয়সকে তুড়িতে হারিয়ে করছেন নিজের ব্যবসা। আমার কাছে তিনি এই বছরের সেরা উদ্যোক্তা আমাদের ভিডিওগুলো ভাল লাগলে আমাদের ফাপরবাজ পেজে লাইক দিতে পারে এবং আমাদের ইউটিউব চ্যানেল ফাপরবাজ

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.