আত্মহত্যা রোধে কাজ করে যাচ্ছেন বদরুল
ODD বাংলা ডেস্ক: তুলনামূলক হারে বাড়ছে আত্মহত্যার সংখ্যা, করোনাকালে বেড়েছে বহুগুণ। সরকারি ও বেসরকারিভাবে আত্মহত্যার প্রবণতা রোধে নেই জোড়ালো কোনো পদক্ষেপও। চ্যালেঞ্জ জেনেও আত্মহত্যা প্রবণতারোধে কাজ করে যাচ্ছেন ‘সুইসাইড প্রোটেক্টিং স্কোয়াড বাংলাদেশ’ এর সহ প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক বদরুল মোর্শেদ আসাদ।
পারষ্পরিক সহমর্মিতা রুখতে পারে আত্মহত্যা এই স্লোগান নিয়ে ২০১৮ সালে স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্নে যারা ছিল তারা কেউ আর এখন এই সংগঠনটির সঙ্গে জড়িত নেই। নিজেদের ক্যারিয়ার ও সংগঠনের কাজকে চ্যালেঞ্জিং মনে করে অনেকে হাল ছেড়ে দিয়েছেন। তবে আশাহত হননি এই তরুণ।
আলাপচারিতায় বদরুল মোর্শেদ জানান, অনলাইনে কারও হতাশাজনক স্ট্যাটাস দেখলে ও মেনশন পেলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আমাদের সদস্যরা ওই ব্যাক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে। প্রয়োজন হলে তার সঙ্গে দেখা করে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেই আমরা। আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যক্তির কথা মনোযোগ সহকারে শুনে সমাধান বের করার চেষ্টা করি।’
তিনি আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ আত্মহত্যাপ্রবণ স্ট্যাটাস দিলে আমরা তাৎক্ষণিক তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি। তাকে ফোন কল বা ও ভিডিও কলের মাধ্যমে কাউন্সিলিং করা হয়। প্রয়োজনের তার সঙ্গে দেখা করে কাউন্সিলিং করি আমরা। তার কথা শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।
ফেসবুক পাবলিক গ্রুপ, ফেসবুক আইডি ও পেজের মাধ্যমে নিয়মিত সচেতনতামূলক পোস্ট শেয়ার করে এই সংগঠনের সদস্যরা। এমনকি ক্যারিয়ার গঠন, প্যারেন্টিং, পারিবারিক শিক্ষা ও সন্তান পালনে করণীয় শীর্ষক ওয়ার্কশপের মাধ্যমে সচেতনতামূলক বার্তা দেয় এই সংগঠন।
বদরুল মোর্শেদ বলেন, ‘সারা দেশে স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী আছে যারা অফলাইন ও অনলাইনের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা অনলাইনের মাধ্যমে অন্তত ৪৫০ জনকে সেবা প্রদান করেছি। আত্মহত্যার চিন্তা করেছে এমন ১৬৭ জনকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি।’
আত্মহত্যা প্রবণতা রোধের মতো কঠিনতম কাজ করে যাচ্ছেন বদরুল মোর্শেদ। তার বেড়ে ওঠা শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার মালিঝিকান্দা গ্রামে। ঢাকার এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেছেন।
সুইসাইড প্রোটেক্টিং স্কোয়াড বাংলাদেশ এর পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বদরুল মোর্শেদ বলেন, ‘সারা দেশের প্রতিটি প্রান্তে সচেতনতা তৈরি করতে চাই সভা ও সেমিনারের মাধ্যমে। ভবিষ্যতে একটা ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার করার ইচ্ছা আছে।’
‘এমন একটা প্ল্যাটফর্ম করতে চাই যেখানে মানুষ যোগাযোগ করে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ও প্যারেন্টিং, ক্যারিয়ার ও জীবন ভিত্তিক পরামর্শ পাবেন। হতাশাগ্রস্ত ও আত্মহত্যাপ্রবণ মানুষের কল্যাণে আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই।’
আমাদের এই কাজ নিয়ে অনেকেই হাসাহাসি করেন। অনেকেই আমাকে সুইসাইড এনালিস্ট বলে তিরস্কার করেন। তবে আমি আনন্দ পাই মানুষের সাহায্য করে। আপনারাও এ বিষয়ে সচেতন হন ও অন্যদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনুন।
বদরুল মোর্শেদের দাবি, সরকার দেশের প্রতিটি উপজেলা বা জেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করুক বিনামূল্যে ও সচেতনতা তৈরি করতে কাজ করুক।
২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে সারাদেশের স্কুল ও কলেজগুলোতে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা, আত্মহত্যা প্রতিরোধ, সাইবার বুলিং, স্কুল ভায়োলেন্স ও বুলিংসহ যৌতুক প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির পরিকল্পনা আছে তাদের।
খুব শিগগিরই ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সেবা চালু করবে সুইসাইড প্রোটেক্টিং স্কোয়াড বাংলাদেশ। তাদের সঙ্গে যারা কাজ করতে আগ্রহী, তাদেরকে সব সময় পাশে থাকার আহবান জানিয়েছেন জানিয়েছেন ‘সুইসাইড প্রোটেক্টিং স্কোয়াড বাংলাদেশ’ এর সহ প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক বদরুল মোর্শেদ আসাদ।





Post a Comment