যৌনতার ফাঁদ, বেডরুমে বেসামাল বৃদ্ধ! তারপর...
ODD বাংলা ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি অ্যাপ ব্যবহার করে মাত্র ১৫ বছর বয়সী একটি মেয়েকে যৌনতার ফাঁদে ফেলেছিলেন সিঙ্গাপুরের ৫৭ বছর বয়সী এক পুরুষ। গত বছর পরিচয়ের পর ওই ব্যক্তি মেয়েটিকে নানা রকম আপত্তিকর ভিডিও, ছবি পাঠান। এক পর্যায়ে তাকে প্রস্তাব দেন- প্রতিবার তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে ২০০ ডলার করে দেয়া হবে। টেলিগ্রাম নামের অ্যাপ ব্যবহার করে তারা অসংযত আলোচনা ও কথোপকথন চালিয়ে যেতে থাকে। এতে তারা সেক্স টয় কিভাবে ব্যবহার করতে হয় তা নিয়েও আলোচনা করে।
এক পর্যায়ে তারা ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাত শুরু করে। ওই ব্যক্তির বাসভবনে আসা-যাওয়া শুরু করে ওই বালিকা। উদ্দেশ্য, যৌন সম্পর্ক স্থাপন।
বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর ৫৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে কম বয়সী একটি মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন, ২১ বছরের নিচে বয়সীকে বিরক্তিকর ও আপত্তিকর জিনিস পাঠানোর দায়ে ১০ মাস চার সপ্তাহের জেল দিযেছে আদালত। আরো দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। আপত্তিকর ছবি এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক বালিকার সঙ্গে পুরোপুরি যৌন সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়ে শাস্তির বিষয় আমলে নিয়েছে আদালত। এ খবর দিয়েছে সিঙ্গাপুরের অনলাইন স্ট্রেইটস টাইমস।
অভিযুক্ত ব্যক্তি বা ওই বালিকা- কারো নাম, পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। নির্যাতিত মেয়েটি বর্তমানে চিলড্রেন অ্যান্ড ইয়াং পারসন্স অ্যাক্টের অধীনে সুরক্ষিত আছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত বছর ৩০ শে আগস্ট ওই ব্যক্তি ও বালিকা পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। এক পর্যায়ে যৌনতার বিনিময়ে ওই বালিকাকে অর্থের প্রলোভন দেখায় ওই ব্যক্তি। তাকে সেক্স টয় ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করে। এরপরই ওই ব্যক্তি টেলিগ্রাম ব্যবহার করে তাকে পাঠায় চারটি রগরগে যৌন দৃশ্য সম্বলিত ছবি। এতে একজন নারী কিভাবে একজন পুরুষকে সেক্স টয় ব্যবহার করতে হয়, তা প্রদর্শন করেন।
আদালতে ডেপুটি পাবলিক প্রসিকিউটর এমিলি কোহ বলেছেন, ওই বালিকা যাতে ওই ব্যক্তির ওপর এসব ‘এক্ট’ পারফরম করে সেজন্য তাকে উদ্বুদ্ধ করতে ওই ব্যক্তি এসব ছবি পাঠিয়েছিলেন। এক্ষেত্রে অর্থের লোভ থাকায় তার প্রস্তাবে রাজি হয়ে গেছে মেয়েটি।
মেয়েটিকে তিনি আরো জানিয়েছিলেন যে, তারা দু’জন সাক্ষাত করতে চান। এ জন্য একটি হোটেলের কক্ষ ভাড়া নিতে চান তিনি। জানতে চান, মেয়েটি কোনো কাজ করছে নাকি এখনও স্কুলে পড়াশোনা করে। নির্যাতিত বালিকা জানায়, সে একজন ছাত্রী। এ সময়ে ওই ব্যক্তি বলে, তাদের খুব অন্তরঙ্গ হওয়া প্রয়োজন। ফলে ২০২০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় ডিকসন রোডে হোটেল ৮১’তে তারা সাক্ষাত করতে রাজি হয়। কিন্তু হোটেলে কক্ষ ভাড়া নিতে গিয়ে ওই বালিকা তার এনআরআইসি উপস্থাপন করতে পারেনি। ফলে ওই হোটেল তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়।
এরপর তারা আবার ছুটে যায় জালান বেসারে হেইসিং হোটেলে। সেখানেও একই কারণে তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। এ অবস্থায় ওই বালিকা তাকে বুদ্ধি দেয় যে, তাদের উচিত ওই ব্যক্তির মারসিলিং ড্রাইভের বাড়িকে ব্যবহার করা। তার বুদ্ধিতে ওই ব্যক্তি নিজের মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি চলে যান। তার আগে ওই বালিকাকে কিছু অর্থ দিয়ে আসেন, যাতে সে গাড়ি ভাড়া করে ওই ব্যক্তির বাড়ি যেতে পারে। বালিকাটি তার বাড়ি যায়। সেখানে টয়লেটের মধ্যে তারা যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয়। এরপর বেডরুমে সেক্স টয় ব্যবহার করে আবার যৌনতায় মেতে ওঠে। শেষে ওই বালিকাকে একবারে ২৫০ ডলার ধরিয়ে দেন ওই ব্যক্তি। এই অর্থ নিয়ে ওই বাড়ি ত্যাগ করে মেয়েটি।
কিন্তু অর্থের বিনিময়ে যৌন সম্পর্কের বিষয়টি পুলিশে রিপোর্ট করে দেয় ওই মেয়েটি। এ অবস্থায় গত বছর ১৫ই সেপ্টেম্বর নিজের বাড়ি থেকে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার আইনজীবী আজরি ইমরান তান আদালতে বলেছেন, নিজের কর্মকা-ের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন তার মক্কেল।





Post a Comment