সুন্দরী প্রতিযোগিতার মুকুট ৮৬ বছর বয়সী নারীর মাথায়
ODD বাংলা ডেস্ক: একজন নারী যদি ভালো ক্রিকেটার হতে চান, তাকে দারুণ ক্রিকেটীয় নৈপুণ্য দেখাতে হয়। নৃত্যশিল্পীকে দেখাতে হয় চমৎকার আর নিখুঁত নৃত্যশৈলী। জনপ্রিয় অভিনেত্রী হতে হলে তাকে দারুণ অভিনয়ে দর্শকের মন জয় করতে হয়। তাদের কারো কারো নাম সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়লেও, কাউকেই বিশ্বের সেরা বলার সুযোগ নেই।
তারা বড়জোর কোনো ইন্ডাস্ট্রি কিংবা দেশ অথবা নিজ নিজ জগতে সেরা হন। অথচ প্রতিবছর রীতিমতো প্রতিযোগিতার আয়োজন করে একজন নারীকে বিশ্বের আবার কখনো মহাবিশ্বের (ইউনিভার্স) সেরা নারী উপাধি দিয়ে দেয়া হয়।
হ্যাঁ, বলছি মিস ওয়ার্ল্ড, মিস আর্থ, মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার কথা। এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন ৮৬ বছর বয়সী একজন নারী। তিনি বয়সকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে জিতে নিয়েছে মুকুট। নাম তার সালিনা স্টেইনফেল্ড। তিনি এই বয়সে সুন্দরী প্রতিযোগিতার মুকুট জিতে নিয়েছেন!
তাও আবার কোনো সাধারণ সুন্দরী প্রতিযোগিতা নয়, এই প্রতিযোগিতা অংশ নেয়া সবাই ইহুদি নারী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইহুদিদের ওপর জার্মানির নেতা অ্যাডলফ হিটলারের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও গণহত্যা থেকে বেঁচে যাওয়া নারীদের সম্মান জানাতে প্রতিবছর ইসরায়েলে এই আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতার নাম ‘মিস হলোকাস্ট সারভাইভার’।
গত বছর মহামারির কারণে এই প্রতিযোগিতা হয়নি। তবে এবছর গত মঙ্গলবার এই প্রতিযোগিতা হয়েছে। এতে বিজয়ী হয়েছেন সালিনা স্টেইনফেল্ড। তার জন্ম রোমানিয়ায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সেখানেই নাৎসি বাহিনীর আক্রমণের শিকার হন তিনি। ১৯৪৮ সালে নাৎসি বাহিনীর ব্যাপক গণহত্যার পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলে পাড়ি জমান এই নারী। যদিও তত দিনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির পতন ঘটে গেছে। তখন থেকে তিনি ইসরায়েলের বসবাস করে আসছেন।
এই প্রতিযোগিতায় এবারের আয়োজনে ১০ জন নারী অংশ নেয়। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী নারীদের বয়স ৭৯ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে সবার। সবাই নাৎসি বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞের শিকার। কারও জন্ম রোমানিয়ায়, কারও সাবেক যুগোস্লাভিয়ায়, কারও বর্তমান ক্রোয়েশিয়ায়। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে তারা সবাই ইসরায়েলে থিতু হয়েছেন। জেরুজালেমের একটি জাদুঘরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সেজেগুজে ও রঙিন গাউন পরে মঞ্চ মাতিয়েছেন তারা।
প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন ৮৭ বছরের কুকা পালমন। নাৎসি গণহত্যার মুখে তিনি রোমানিয়া থেকে ইসরায়েলে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ব্যক্তিজীবনে দুই সন্তান, চার নাতি-নাতনি এবং দুই প্রপৌত্র-প্রপৌত্রী রয়েছে তার।
কুকা পালমন বলেন, 'এই বয়সে এসে এমন একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।'
একজন প্রতিযোগীর নাতনি ডানা পাপো বলেন, এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে সবাই দেখতে পেয়েছে তারা এখনো কত সুন্দর। তবে তরুণ বয়সে ভয়াবহ পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে গেছেন তারা। এখনো সেই ভয়াল স্মৃতি তারা বয়ে নিয়ে চলেছেন। ডানা পাপো বলেন, এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাদের সম্মান জানানো হয়েছে।





Post a Comment