৩৬ সেকেন্ডের ভিডিওতে ভাইরাল, এখন তিনি বিশ্ব বিখ্যাত বাবুর্চি

 


ODD বাংলা ডেস্ক: নুসরেত গোকচে একসময় ছিলেন একজন সামান্য কসাই। আজ তিনি পৃথিবীর বিখ্যাত কোটিপতি বাবুর্চিদের একজন। বর্তমানে তিনি সারা বিশ্বে সল্ট বে নামে সর্বাধিক পরিচিত। সল্ট বের শৈশব কেটেছে অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে। তার জন্ম তুরস্কের আনাতোলিয়ার এরজুরুমের এক অসচ্ছ্বল কুর্দি পরিবারে। বাবা ছিলেন খনিশ্রমিক। অর্থের অভাবে তিনি লেখাপড়াও করতে পারেন নি।


মাত্র ১৪ বছর বয়সেই নেমে পড়েন অর্থ উপার্জনের জন্য। প্রথমেই কাজ নেন তুরস্কের ইস্তাম্বুলের এক কসাইখানায়। সেখানে তিনি শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ শুরু করেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই মাংস কাটার কাজ পুরোপুরি আয়ত্ত করে ফেলেন। এ কাজ করতে করতে বেশ কিছু অর্থ জমিয়ে ফেলেন তিনি। সেই টাকা দিয়ে বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন। 


২০০৭ সালের দিকে কসাইয়ের কাজ ছেড়ে দিয়ে চলে যায় আমেরিকা ঘুরতে। সেখানে গিয়ে তিনি বিনা পারিশ্রমিকে কাজ নেন একটি রেস্তোরাঁয়। আসলে মাংস কাটার কাজে তার আগে থেকেই আগ্রহ ছিল। সল্ট বে চেয়েছিলেন এ কাজে আরো দক্ষতা অর্জন করতে। তাই বিনা পারিশ্রমিকে রেস্তোরাঁয় মাংস কাটার কাজ করতে আপত্তি করেন নি।


প্রায় তিন বছর তিনি কাটিয়েছিলেন বিদেশে। ততদিনে মাংস কাটা এবং রান্নার কাজে বেশ দক্ষ হয়ে উঠেছিলেন। অবশেষে ২০১০ সালে দেশে ফিরে আসেন। তারপর নিজের দেশে স্থান হলে নিজেই একটি রেস্তোরাঁ খুলে ফেলেন। ২০১৪ সালে সেটিকে বিস্তৃত করে পাশের দেশ দুবাইতে একটি শাখা খুলেন। ততদিনে নিজের দেশে এবং পার্শ্ববর্তী দেশে তিনি বেশ খ্যাতি অর্জন করে ফেলেছেন। 


তবে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা পেতে তার আরও কিছু সময় লেগে যায়। ২০১৭ সালের ৭ জানুয়ারি মাসে ‘অটোমান স্টে’ শিরোনামে ৩৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করার মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, নিজস্ব শৈলীতে মাংস কাটছেন ও গোখরা সাপের ভঙ্গিমায় মাংসের ওপর লবণ ছড়িয়ে দিচ্ছেন তিনি। ভিডিওতে তার মাংস কাটার নৈপুণ্য দেখে মুগ্ধ হয়ে যায় বিশ্ববাসী। আপলোডের কিছুক্ষণের মধ্যেই ভিডিওটি এক কোটি ভিউ অর্জন করে। তারপর থেকে তিনি রাতারাতি তিনি পেয়ে যান তারকা বাবুর্চির খেতাব।


সল্ট বের ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ারের সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ। এই বিশাল তারকাখ্যাতি কারণে তিনি ব্যবসাতেও আকাশস্পর্শী সফলতা অর্জন করেছেন। বর্তমানে ইস্তাম্বুল, দুবাই ছাড়াও নিউ ইয়র্ক এবং লন্ডনের মতো কয়েকটি দেশের বড় বড় শহরে তিনি রেস্তোরাঁর শাখা খুলছেন। সেগুলো থেকে আয় করেন মোটা অংকের টাকা।


ম্যারাডোনা,মেসি, নেইমার, বেকহ্যাম থেকে শুরু করে অস্কারজয়ী হলিউড তারকা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওরা তার রেস্তোরাঁর নিয়মিত অতিথি। এসব সেলিব্রিটিদের নিজ হাতে আপ্যায়ন করেন সল্ট বে। হলিউডসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিখ্যাত সেলিব্রিটিরা তার সঙ্গে বসে লবণ ছেটানোর দৃশ্য দেখেছেন এবং মুগ্ধ হয়েছেন।


সল্ট বের রেস্তোরাঁয় পরিবেশন করা খাবারের দাম অত্যাধিক। তারপরও বহু অর্থ খরচ করে অনেকেই খেতে যান তার রেস্তোরাঁয়। শুধুমাত্র রেস্তোরাঁর অসাধারণ স্বাদের খাবার এবং সল্ট বের বিশেষ ভঙ্গিমা নিজের চোখে দেখার জন্য। 


এসবের বাইরে ব্যক্তি জীবনে সল্ট বে একজন পরোপকারী এবং দানশীল মানুষ। তুর্কি গনমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, এরজুরুমের প্যালালি গ্রামে তিনি প্রায় এক মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করে চার হাজার বর্গমিটার আয়তনবিশিষ্ট একটি মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণ করেছেন। এছাড়া তিনি নিজ শহরে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।


আসলে পরিশ্রম আর দক্ষতাকে কাজে লাগাতে পারলে পৃথিবীতে যে সবই করা সম্ভব তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ইস্তাম্বুলের সল্ট বে। এরকম নিশ্চয় আরো উদাহরণ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আমাদের দেশেও।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.