নির্ভয়ে কুমিরের সঙ্গে খেলেন ডগন গোত্রের মানুষরা

 


ODD বাংলা ডেস্ক:  কুমির পৃথিবীর সবচেয়ে পরাক্রমশালী শিকারি প্রাণীগুলোর একটি। সর্বোচ্চ শক্তিশালী চোয়ালের অধিকারী প্রাণীটি কামড়ের সময় প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে প্রায় ১৭০০ কেজি পর্যন্ত বল প্রয়োগ করতে সক্ষম। গোপনে ওত পেতে থাকা এবং ক্ষিপ্রগতিতে আক্রমণ করার ক্ষমতা এদেরকে প্রায় সব প্রাণীর কাছে মূর্তমান আতংক করে তুলেছে। 

তবে আফ্রিকার কিছু মানুষের সঙ্গে প্রাণীটির গড়ে উঠেছে এক অসাধারণ বন্ধুত্ব। ডগন গোত্র আফ্রিকার সবচেয়ে ঐতিহ্যপূর্ণ গোত্রগুলোর একটি। মালির যে অঞ্চলটিতে এদের বসবাস, তা ডগন রাজ্য নামে পরিচিত। ডগন রাজ্যে কুমির একটি পবিত্র প্রাণী হিসেবে বিবেচিত। 


কথিত আছে, ডগনদের একজন পূর্বপুরুষকে কুমির নদীতে ভেসে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছিল। সে সময় থেকেই এরা কুমিরকে নিজেদের প্রতিবিম্ব মনে করে। ডগনদের বিশ্বাস একজন ডগন শিশুর জন্মের বিপরীতে একটি কুমির শিশুরও জন্ম হয়। ফলে কুমির প্রতি আতিথেয়তা এদের সামাজিক কর্তব্যে পরিণত হয়েছে। 


মানুষখেকো পৃথিবীব্যাপী প্রাণীটির ব্যাপক কুখ্যাতি রয়েছে। তবে বিস্ময়করভাবে এখানকার কুমিরগুলো অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির। কিছু কুমির এতোটাই বন্ধুসুল্ভ যে ডগন শিশুরা এদের পিঠে চড়ে ঘুরে বেড়ায়। কুমির অধ্যুষিত খালগুলোতে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে সাঁতার কাটে। মালির পার্শ্ববর্তী দেশ বুর্কিনা ফাসোতেও কুমির ও মানুষের এক অসাধারণ মেলবন্ধন গড়ে উঠেছে। 


দেশটির বাজুলে নামক গ্রামটি বন্ধুসুল্ভ কুমিরদের জন্য বিশ্বখ্যাত। শত শত বছর ধরে এখানকার মানুষ কুমিরের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করে আসছে। গ্রামবাসীর ভাষ্যমতে, প্রাচীনকালে এখানকার বাসিন্দারা যখন হৃদটি থেকে জল সংগ্রহে আসতো, কুমির কখনোই তাদের আক্রমণ করতো না। কুমিরগুলো নিরাপদে জল সংগ্রহ করতে দেয় বলেই, গ্রামবাসীর বংশধারা চলমান রয়েছে। 


এখানকার মানুষ শিশুকাল থেকেই কুমিরদের সঙ্গে সৌহার্দপূর্ণ আচরণ করতে শেখে। ফলে কুমিরগুলো হয়ে উঠেছে শিশু-কিশোরদের খেলার সাথী। বুর্কিনা ফাসো থেকে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরে চাঁদের গেল্টা ডি'আর্কেই হৃদে আরেক দল শান্তিপ্রিয় কুমিরের বসবাস। সাহারা মরুভূমির এই ধু ধু প্রান্তরে কুমিরের দেখা পাওয়া অত্যন্ত বিস্ময়কর। 


বিদিয়েত যাযাবরগণ তাদের উটগুলোকে জল পান করানোর উদ্দেশ্যে এখানে নিয়ে আসে। এরা মনে করে, কুমিরদের রক্ষা করা এদের জন্য পবিত্র দ্বায়িত্ব। যদিও এই মহান দ্বায়িত্বের সঠিক কারণ এদের অজানা। হৃদটির পার্শ্ববর্তী স্যাবু গ্রামের ৪০০ মানুষের জন্য কুমিরের যত্ন নেয়া ধর্মীয় সংস্কৃতির অংশ। এই গ্রামে কথিত আছে, বহুকাল আগে এদের একজন পূর্বপুরুষ তৃষ্ণায় মৃতপ্রায় অবস্থায় পৌঁছান। 


একটি কুমির লেজের সাহায্যে জল পান করিয়ে সেই পূর্বপুরুষের প্রাণরক্ষা করে। সেই সময় থেকেই কুমির গ্রামটির উপাস্য প্রাণী হয়ে উঠে। রোগব্যাধি মুক্ত জীবন এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে গ্রামবাসী মাঝে মাঝেই কুমিরদের জন্য ছাগল ও মুরগি উৎসর্গ করে থাকেন। এখানেও কুমিরের সঙ্গে মানুষের সহাবস্থান অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ। 


গ্রামের বাসিন্দারা নির্ভয়ে কুমিরগুলোকে স্পর্শ করতে পারেন। অফ্রিকার এই অঞ্চলটির কুমির-কেন্দ্রিক উপকথাগুলোর সত্যতা নিয়ে সংশয় থাকতে পারে। তবে কুমিরের সঙ্গে এ ধরনের সম্পর্ক প্রাণীর প্রতি মানুষের ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। অসাধারণ এই ভালোবাসা জয় করেছে হিংস্রতাকেও।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.