Odd বাংলা ডেস্ক: মাইক্রোসফটের সত্য নাদেলা, গুগলের সুন্দর পিচাই বিশ্বকে কার্যত শাসন করছেন। এবার সেই তালিকায় আরও ভারতীয় বংশোদ্ভূত। নাম পরাগ আগরওয়াল, ট্যুইটারের সিইও হিসাবে যুক্ত হয়েছে। Twitter এর নতুন CEO হলেন পরাগ আগরওয়াল।
সত্য নাদেলা
ভারতের হায়দ্রাবাদ থেকে যাত্রা শুরু হয়েছিলো, একইসঙ্গে প্রতিশ্রুতিশীল ও সাদামাটা এক যাত্রা। ২৫ বছর পার হয়ে গেছে। যাত্রা এসে থেমেছে সিলিকন ভ্যালিতে, মাইক্রোসফটের সদর দপ্তরে। ততদিনে ‘যাত্রা’র আগে ‘জয়’ শব্দটি বসিয়ে দেবার সব আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানের একটিতে সাধারণ চাকুরে হিসেবে ঢোকা ব্যক্তিটি আজ প্রতিষ্ঠানের সিইও। কোনো ম্যাজিক নয়, দীর্ঘ ২২টি বছর নিজেকে প্রতিটি ধাপে প্রমাণ করে করে মেধা ও অধ্যবসায়ের গুণেই মাইক্রোসফটের প্রধানের নামটি আজ সত্য নাদেলা।
সুন্দর পিচাই
পিচাই চেন্নাইয়ে বড় হয়ে এবং জহর বিদ্যালয়-এ পড়াশোনা করেন। তিনি ভানা বাণী বিদ্যালয় থেকে দ্বাদশ শ্রেণী শেষ করেন। এরপরে ভারতীয় প্রযুক্তিবিদ্যা প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রী অর্জন করেন। পিচাইয়ের অধ্যাপক সুপারিশ করেন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করার জন্য কিন্তু তিনি এর পরিবর্তে এমএস এবং এমবিএ ডিগ্রী পশ্চাদ্ধাবন করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাদান বিজ্ঞান ও প্রকৌশল এর উপর এমএস করেন এবং বহার্তন স্কুল অফ দি ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়া থেকে এমবিএ করেন।' পিচাই গুগলে যোগদান করেন ২০০৪ সালে। তিনি গুগলের ক্লায়েন্ট সফটওয়্যার, প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্টে নেতৃত্ব দেন; গুগল ক্রোমেও কাজ করেছেন তিনি। ক্রোম অপারেটিং সিস্টেম, সেইসাথে গুগল ড্রাইভেও পরবর্তীকালে তিনি কাজ করেছেন। এছাড়াও তিনি জিমেইল এবং গুগল মানচিত্রের মত বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের উন্নয়নও তত্ত্বাবধান করেন।
১৯ নভেম্বর ২০০৯ তারিখে, পিচাই ক্রোম ওএসের একটি নমুনা প্রদর্শন করেন; ২০১১ ক্রোমবুক সালে ট্রায়াল এবং পরীক্ষার জন্য মুক্তি পায় এবং ২০১২ সালে যা সর্বসাধারণের কাছে মুক্তি পায়। ২০ শে মে ২০১০ তারিখে, তিনি গুগলের নতুন ভিডিও কোডেক ভিপি 8-এর ঘোষণা করেন এবং নতুন ভিডিও ফরম্যাট, ওয়েবম চালু করেন।
২০১৪ সালে মাইক্রোসফটের সিইও হওয়ার জন্য পিচাইকে প্রস্তাব করা হয়েছিল, যা অবশেষে সত্য নাদেলাকে দেওয়া হয়।
২০১৫ সালের ১০ আগস্ট সুন্দর পিচাইকে গুগলের পরবর্তী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে তিনি ওয়েব সার্চ জায়ান্টের পেরেন্ট সংস্থা অ্যালফাবেটেরও সিইও পদে অভিষিক্ত হন।
এবার সেই তালিকাতেই এলেন পরাগ আগরওয়াল
মাত্র ৩৭ বছর বয়স পরাগের। বিশ্বজুড়ে সেরা ৫০০টি সংস্থার সিইওদের মধ্যে তিনিই সর্বকনিষ্ঠ। পরাগের জন্মতারিখ খোলসা না করা হলেও মেটা প্লাটফর্ম-এর সিইও মার্ক জুকারবার্গের চেয়ে তাঁর বয়স কম বলে জানানো হয়েছে। জুকারবার্গের জন্ম ১৯৮৪ সালের ১৪ মে।
পরাগকে অভিনন্দন জানিয়ে ডর্সি টুইট করে লিখলেন, ‘টুইটারের সিইও হিসেবে আমি পরাগকে সম্পূর্ণ বিশ্বাস করি। গত ১০ বছর ধরে ওর কাজ সবকিছু বদলে দিয়েছে। এবার সময় হয়েছে ওর নেতৃত্ব দেওয়ার’ প্রসঙ্গত, ডর্সির পদত্যাগের পর সর্বসম্মতিক্রমে সিইও নির্বাচিত হয়েছেন মুম্বই আইআইটি থেকে স্নাতক পাশ করা পরাগ। আসুন দেখে নেওয়া যাক কীভাবে শীর্ষে উঠলেন তিনি।
১) আইআইটি বম্বে থেকে কম্পিউটার সায়েন্স এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক।
২) এরপর আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে পিএইচডি।
৩) মাইক্রোসফট রিসার্চ এবং ইয়াহু রিসার্চে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতা।
৪) ২০১১ সালের অক্টোবরে টুইটারে যোগ।
৫) প্রথমে ‘ডিস্টিনগুইশড’ সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। এর সঙ্গে আয়-ব্যয় ও সায়েন্স টিমের সঙ্গেও কাজ করতে হয়েছে।
৬) ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে টুইটার ব্যবহারকারীর সংখ্যা বিশাল পরিমাণে বাড়ার নেপথ্যে তারই অবদান বলে মনে করা হয়।
৭) ২০১৮ সালে টুইটারের সিটিও পদে নিযুক্তি।
৮) ২০১৯ সালে জ্যাক ডর্সি পরাগকে প্রোজেক্ট ব্লু-স্কাই এর প্রধান নিযুক্ত করেন। টুইটারে ভুল তথ্যের প্রতিকার করতেই এই প্রোজেক্ট ব্লুস্কাই
৯) ২৯ নভেম্বর ২০২১, টুইটারের নতুন সিইও পরাগ আগরওয়াল
এই তালিকায় আরও একজন আছেন। তাঁকে ভুলে গেলে চলবে না। তিনি হলেন অ্যাডবের প্রধান শান্তনু নারায়ণ। Adobe সংস্থাটি এখন এই ভারতীয়র নেতৃত্বেই এগিয়ে চলেছে।





Post a Comment