গর্ভবতীদের পিষে মেরে উল্লাস করতেন এই নারী!
ODD বাংলা ডেস্ক: যুবকদের ফুটন্ত পানিতে ফেলে হত্যা করা হত। এমনকি বাদ যেত না গর্ভবতীরাও। তাদের পেটে লাথি মেরে এবং চাবুকাঘাত করে হত্যা করতেন অত্যাচারী এক নারী। তিনি মাকড়সার মত তার জাল চারদিকে ছড়িয়ে রেখেছিলেন। যুবক-যুবতী থেকে বিধবা বা বৃদ্ধ কেউই তার হাত থেকে রক্ষা পেত না।
বিষয়টি অনেকটা কাল্পনিক মনে হলেও বাস্তবে এমনই এক নারী ছিলেন। যিনি ইতিহাসের এক জঘন্যতম নারী। ১৮ শতকের দিকে রাশিয়ায় ক্রিতদাসদের উপর অত্যাচারের প্রথা ছিল সাধারণ বিষয়। তবে যে নারী সম্পর্কে বলা হচ্ছে, তিনি এই বিষয়টি স্রেফ আনন্দ উপভোগের জন্য করতেন-
দারিয়া সাল্টিকোভা, নারী নামের এক কলঙ্কের নাম। যিনি মানুষকে হত্যা করে বড়ই আনন্দ পেতেনে। মৃত্যু যন্ত্রণায় যখন সবাই কাতরাতে থাকত এই বর্বর নারী তখন আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠতেন। ক্রিতদাসদের কাউকে ফুটন্ত তেলের মধ্যে ছেড়ে দিতেন আবার কাউকে গরম পানিতে।
বিভৎস এসব দৃশ্য দেখে তিনি হাসতেন। তার মধ্যে দয়া মায়ার বালাই ছিল না। গর্ভবতী নারীদেরও ছাড়তেন না তিনি। তাদের পেটে লাথি মারতে মারতে হত্যা করতেন মা ও শিশুকে। এভাবে প্রায় ১৩৮ ক্রিতদাস-দাসীকে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করেছেন তিনি। একজন উচ্চ শ্রেণির সিরিয়াল কিলার ছিলেন সাল্টিকোভা।
একদিন তার এক ক্রিতদাস আরেক গর্ভবতী দাসীকে বাঁচানোর চেষ্টা করে। অতঃপর রেগে গিয়ে অত্যাচারী এই নারী চাবুকের আঘাতে ক্ষত বিক্ষত করে দেয় গর্ভবতী নারীকে। যন্ত্রণায় যখন ওই নারী কাতরাচ্ছেন তাকে মৃত্যু যন্ত্রণা দিতে সাল্টিকোভার নির্দেশে আরেকজন পেটের উপর উঠে নাচতে শুরু করে।
কতটা ভয়াবহ দৃশ্য, একবার কল্পনা করেই দেখুন! আরেকটি ঘটনার প্রচলন রয়েছে, অনেকেই এই নারীকে রাক্ষসী বলেও ডাকতেন। একবার তার এলাকার পাশ দিয়েই একজন যাচ্ছিলেন এক রাতের মধ্যেই সে উধাও হয়ে যায়। তার চুল পর্যন্তও আর গ্রামবাসী খুঁজে পায়নি।
দারিয়া সাল্টিকোভা শুধু একজন উচ্চবংশের নারীই ছিলেন না বরং উঁচু স্তরের সিরিয়াল কিলারের মর্যাদা পান। তারই মতো উচ্চ বংশীয় অত্যাচারী ছিলেন হাঙ্গেরিয়ান নারী এলিজাবেথ বাথোরি এবং নিউ ওরলিনস ডয়িনির ডেলফিন লালোরি। সাল্টিকোভার নির্যাতনের ধরন একে সময় ভিন্ন হত। কখনো তিনি গরম পানিতে ফুটিয়ে হত্যা করতেন আবার কখনো শিশুদেরকে ঘরে বন্দী করে রাখতেন।
কোলের বাচ্চাদের আগুনে পুড়িয়ে মারা ছিল তার নেশা। এমনকি ঠাণ্ডার মধ্যে নগ্ন অবস্থায় অনেক মানুষকেই রাখা হত। যতক্ষণ না তারা মৃত্যুবরণ করতেন। নির্যাতনের এসব নমুনা দেখে তিনি আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়তেন। তিনি এসব দেখে নিজের আত্মাকে শান্তি দিতেন। কারণ ব্যক্তিগত জীবনে তিনি মোটেই সুখী ছিলেন না।
খুনী হিসেবে সাল্টিকোভার যাত্রা...
রক্ত নিয়ে খেলার পূর্বে তার জীবন ছিল খুবই মর্যাদাসম্পন্ন। তবে তিনি হঠাৎই কেনো এতটা নৃশংস হয়ে উঠলেন? ১৭৩০ সালে সাল্টিকোভা ধর্ণাঢ্য এক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ধর্মীয় বিভিন্ন কাজে নিয়মিত মন্দিরে গিয়ে পূজা অর্চনা দেয়ার মধ্য দিয়েই তার ছোটবেলা কেটেছে। এরপর পারিবারিকভাবে গ্রেব সাল্টিকোভের সঙ্গে তার বিয়ে হয় অল্প বয়সেই।
তার স্বামী ছিলেন রাজপরিবারের ছোট ছেলে। তখন পুরো রাজ্যই সামলাচ্ছিলেন গ্রেব। সাল্টিকোভার যখন ২৬ বছর অর্থাৎ ১৭৫৫ সালে তার স্বামী মারা যান। পুরো রাজ্য ভার চলে আসে তার উপর। ৬০০ জন ক্রিতদাস-দাসী ছিল তার দেখাশুনার জন্য। পাশাপাশি এত বড় রাজ্যের রানী তিনি। এত সব পেয়ে তিনি তখন খুশিতে উন্মাদ প্রায়। হঠাৎই তার আচরণে পরিবর্তন আসে।
কারণে কিংবা অকারণে ক্রিতাদাসদের উপর নির্যাতন করা শুরু করলেন তিনি। তার ভয়ে তটস্থ থাকত সবাই। এই বুঝি কারো প্রাণ গেল! প্রতিদিনই সাল্টিকোভা মানুষের রক্তে গোসল করতেন। এরপর হঠাৎই তার জীবনে উঁকি মারে নতুন প্রেম। তার প্রথম ভালোবাসার মানুষটির নাম ছিল নিকোলাই টুচেভ। অতঃপর কী ঘটল? জানা যাবে শেষ পর্বে। ডেইলি বাংলাদেশের সঙ্গেই থাকুন।





Post a Comment