ব্ল্যাক মাম্বা : যেন পৃথিবীর যমরাজ

ODD বাংলা ডেস্ক: ব্ল্যাক মাম্বা বা কালো মাম্বা এলাপিড পরিবারভুক্ত এক প্রজাতির বিষধর সাপ। এটি আফ্রিকার সবচেয়ে বিপজ্জনক ও ভয়ংকর সাপ। আফ্রিকার একটি বড় অঞ্চলজুড়ে এই সাপের বিস্তৃতি লক্ষ করা যায়।

পৃথিবীতে প্রায় তিন হাজার ৪০০ প্রজাতির সাপ রয়েছে। এর মধ্যে এমন কিছু সাপ রয়েছে যাদের ছোবলে মৃত্যুহার শত ভাগের কাছাকাছি। এমনই এক বিষধর, ভয়ংকর একটি সাপ হলো ব্ল্যাক মাম্বা। আফ্রিকা অঞ্চলের সবচেয়ে ভয়ংকর সাপ এই ব্ল্যাক মাম্বা। আফ্রিকা অঞ্চল ছাড়াও জিম্বাবুয়ে, কেনিয়া, ইথিওপিয়া, অ্যাঙ্গোলা, উগান্ডা, নামিবিয়া, জাম্বিয়া, মোজাম্বিক ও সোয়াজিল্যান্ডে ব্ল্যাক মাম্বা দেখা যায়। সাপটির মুখের ভেতরের কালো রঙের কারণে একে ব্ল্যাক মাম্বা বলা হয়ে থাকে।

ব্ল্যাক মাম্বা বিশ্বের সবচেয়ে বিষাক্ত প্রজাতির সাপগুলোর মধ্যে একটি। বিশ্বের সবচেয়ে পাঁচটি বিষাক্ত সাপের মধ্যে এই সাপটি নিজের জায়গা করে নিয়েছে।  কিং কোবরার পর এটি হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিষাক্ত সাপ। অর্থাৎ ব্ল্যাক মাম্বা হলো পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম সাপ। এই সাপ সাধারণত দুই মিটার লম্বা হয়ে থাকে। তবে প্রায় সাড়ে চার মিটার পর্যন্ত লম্বা সাপও দেখা যায়। ব্ল্যাক মাম্বার দেহের ওজন প্রায় এক দশমিক ছয় কেজি।

ব্ল্যাক মাম্বা সাপটি পৃথিবীতে সবচেয়ে গতিধর সাপ। প্রতি ঘণ্টায় ব্ল্যাক মাম্বা ১৬ হতে ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে সক্ষম। আবার সাপটির আক্রমণাত্মক চালচলনের জন্যও এর রয়েছে বিশেষ খ্যাতি। ব্ল্যাক মাম্বার ছোবলকে মৃত্যুর চুম্বন বলা হয়ে থাকে। যেখানে ১০ হতে ১৫ মিলিগ্রাম বিষ একটি মানুষের প্রাণনাশের জন্য যথেষ্ট, সেখানে এই ব্ল্যাক মাম্বা সাপটির ছোবলে গড়ে প্রায় ১০০ হতে ১২০ মিলিগ্রাম বিষ নিঃসৃত হয়।

ব্রিটিশ প্রাণিবিদ অ্যালবার্ট গ্যানথার ১৮৬৪ সালে প্রথম এই ব্ল্যাক মাম্বা সাপের বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যাখ্যা করেন। একটি প্রাপ্তবয়স্ক ব্ল্যাক মাম্বার গায়ের রং হলদে-বাদামি, ধূসর অথবা খাকিও হয়ে থাকে। ব্ল্যাক মাম্বার মাথাটা আকারে বেশ বড়, অনেকটা কফিনের আকৃতির। দেখতে হালকা-পাতলা এই ব্ল্যাক মাম্বা সাপটি বেশ শক্তিশালীও হয়ে থাকে। ব্ল্যাক মাম্বা মাটি থেকে মাথা বেশ খানিকটা ওপরে তুলে চলতে সক্ষম।

ছোটখাটো কোনো কিছু শিকার করলে দেখা যায় এ সাপটি শিকারকে ততক্ষণ জাপটে ধরে রাখে, যতক্ষণ না শিকার নড়াচড়া বন্ধ করে। অর্থাৎ না পরা পর্যন্ত জাপটে ধরে রাখে। কিন্তু বড় কোনো শিকার ধরলে তাকে ছোবল দিয়ে ছেড়ে দেয় ব্ল্যাক মাম্বা। এদের কোনো কান না থাকলেও মাটি থেকে আসা যেকোনো কম্পন এরা খুব সহজেই অনুভব করতে পারে। এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যমতে, সবচেয়ে বেশি আয়ুষ্কালের ব্ল্যাক মাম্বাটি ১৪ বছর বেঁচে ছিল। কিন্তু গবেষকরা মনে করেন যে, সত্যিকার অর্থে ব্ল্যাক মাম্বা প্রজাতিটির গড় আয়ু আরও অনেক বেশি।

যুগ যুগ ধরে সাপ নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে গবেষকরা যে সব তথ্য উপাত্ত দিয়েছেন তাতে বোঝা যায়, এই ব্ল্যাক মাম্বা সাপের শক্তি ও বিষ প্রয়োগ সবকিছুই এক অন্যরকম।

ভয়ংকর এই ব্ল্যাক মাম্বা সাপের কাহিনী তাইতো বিশ্বজোড়া এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী সেটি নিঃসন্দেহে বলা যায়।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.