শ্রী যেমনই হোক,গানের পাখির দাম আকাশ ছোঁয়া
ODD বাংলা ডেস্ক: পাখিদের গান গাওয়া অনেকটা আমাদের কল্পনার ব্যাপার। পাখিদের শিষই অনেক সময় আমাদের কাছে সুরেলা বা গান মনে হয়। পাখির গান নিয়ে বাংলায় রচিত হয়েছে অনেক অনেক গান। যেমন ধরুন- বুলবুল পাখি ময়না টিয়ে, আয় না যা না গান শুনিয়ে। আসলেই কি এই পাখিগুলো গান গাইতে পারে। তারপর একসময়ের জনপ্রিয় এক বাংলা গানে ছিল ‘পাখিদের পাঠশালা’-র কথাই ধরুন না।
আরো পড়ুন: সাপ দিয়ে স্পা: গা শিউরে ওঠা অনুভূতিতে শরীরে আসে আরাম
তবে সত্যিই কিন্তু এমন একটি পাখি আছে। যেটি তার ঠোঁট দিয়েই এক ধরনের শব্দ তৈরি করে। যা তালে তালে একধরনের বাদ্যযন্ত্রের মতো মনে হয়। বাংলার বুকে এমন পাখির অস্তিত্ব না থাকলেও ভারত মহাসাগর পেরিয়ে দক্ষিণে গেলেই এমন পাখির সন্ধান পাওয়া যাবে। হয়তো দেখা যাবে কোনো নেড়া গাছের ডালে বসে একমনে আরেকটা ডাল দিয়ে তাল ঠুঁকছে। অবাক লাগবে নিশ্চই এমন একটা পাখির হদিশ পেলে! তবে অস্ট্রেলিয়ার উত্তর উপকূল থেকে পাপুয়া-নিউগিনি জুড়ে ছড়িয়ে আছে এমনই এক অদ্ভুত কাকাতুয়ার বাসস্থান। চলতি ভাষায় যে পাখির নাম পাম কাকাতুয়া।
এমনকি এটি পৃথিবীর সবচেয়ে দামি পাখিও বটে। কালো রঙের এই প্রজাতির কাকাতুয়া গুলো পঞ্চাশ থেকে ষাট সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে আর ওজন হয়ে থাকে আটশ' থেকে বারোশ গ্রাম। এদের মাথায় খুব সুন্দর একটি ঝুঁটি রয়েছে। এদের ঠোঁটগুলো বেশ লম্বা এবং বিশেষভাবে বাঁকানো, যার ফলে এরা শক্ত ধরনের যে কোনো বীজ ভেঙ্গে খেতে সক্ষম। এইরকম একটা কাকতুয়ার বাজারমূল্য প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা।
এই পাম কাকাতুয়াই একমাত্র পাখি যে খাদ্য বা বাসস্থানের প্রয়োজন ছাড়াই এক ধরনের যন্ত্র তৈরি করে। এই পুরুষ কাকাতুয়ারা তাদের শক্ত ঠোঁট দিয়ে গাছের ডাল কেটে তৈরি করে ঠিক ড্রামস্টিকের মতো একটি দণ্ড। আর সেই ডাল গাছের গায়ে ঠুঁকে তাল তৈরি করে। অবশ্য উদ্দেশ্য যে একেবারে নেই, তা নয়। পুরুষ পাম কাকাতুয়া এই তাল তৈরি করে নারীদের আকর্ষণ করার জন্য। একমাত্র প্রজনন ঋতুতেই পাম কাকাতুয়াদের এভাবে তাল তৈরি করতে দেখা যায়। এছাড়াও এই কাকাতুয়া অন্য যে কোনো প্রাণী অথবা মানুষের কণ্ঠস্বর হুবহু নকল করতে সক্ষম। অর্থাৎ মানুষের মতোই এরা কথা বলতে পারে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ পেলে।
আরো পড়ুন: আফ্রিকায় সন্ধান মিলল বামন জিরাফের
তবে পাম কাকাতুয়ার সংখ্যা নিয়ে সম্প্রতি বেশ উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞরা। যদিও পরিবর্তিত জলবায়ুর কোনো প্রভাব এখনও পাম কাকাতুয়ার প্রজননচক্রের উপর পড়েনি। সাধারণত দুই বছরে একটিমাত্র ডিম পাড়ে, এই কারণে এদের বংশ বৃদ্ধির হার খুবই কম। তবে ক্রমাগত দাবানল এবং ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অনেক ডিম নষ্ট হয়ে যায়। এমনও দেখা গিয়েছে, একটি দম্পতি ১০ বছরেও কোনো সন্তানের জন্ম দিতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে তাদের সংরক্ষণের উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে হয়তো আর কিছুদিনের মধ্যেই হারিয়ে যেতে চলেছে প্রাণীজগতের এক বিস্ময়।
এরা প্রায় নব্বই বছর বাঁচে। আর প্রথম ডিম পারে বয়স যখন ২০ থেকে ২৫ বছর। এদের প্রিয় খাদ্য তালিকায় রয়েছে চীনা বাদাম, নারকেল সিম এবং এই জাতীয় বীজ। পৃথিবীর বিভিন্ন সার্কাসে দুর্লভ এই কাকাতুয়ার খেলা দেখে অনেকেই অবাক হয়ে যান।





Post a Comment