সাইফু পিঁপড়া : যারা খেয়ে ফেলে যে কোনো প্রাণীকে
ODD বাংলা ডেস্ক: পরিশ্রমী প্রাণীদের তালিকায় রাখা হয় পিঁপড়াকে। এমনই এক পিঁপড়ার প্রজাতির নাম সাইফু পিঁপড়া। এরাও পরিশ্রমী ও দলবদ্ধ। তবে সাধারণ পিঁপড়ার মতো নয়। বরং মারাত্মক মাংসাশী। এক ঝাঁক পিঁপড়া কোনো একটি প্রাণীকে নিমিষেই মেরে-খেয়ে ফেলতে পারে।
সাইফু পিঁপড়া নামে এই পিঁপড়াকে ড্রাইভার পিঁপড়াও বলা হয়। এরা সর্বদা দলবেঁধে বসবাস করে। ঝাঁকে ঝাঁকে চলাফেরা করে। প্রজাতিভেদে এদের উপনিবেশ কয়েক মিলিয়ন পিঁপড়া নিয়ে গঠিত হয়। প্রাণী বিষয়ক একাধিক গবেষণায় জানানো হয়েছে, কম হলেও এদের প্রতিটি ঝাঁকে প্রায় পাঁচ কোটি পিঁপড়া থাকে।
এদের কয়েক কোটি পিঁপড়া দল বেঁধে যে কোনো বড় প্রাণীকে খেয়ে ফেলে। এ কারণেই এদের মাংসাশী পিঁপড়া বলে অভিহিত করা হয়। এ গোত্রের পিঁপড়াগুলোর সম্পর্কে মজার বিষয় হলো এরা কখনোই একা ভ্রমণ করে না। সর্বদাই দলবেঁধে ভ্রমণে নামে।এ কারণে এরা মানুষসহ অন্যসব প্রাণীর জন্য হুমকি স্বরূপ। ভ্রমণের সময় এদের পথে যে বা যারা বাধা হয় সেটিকেই খেয়ে ফেল।
প্রাচীন জীবাশ্ম থেকে জানা যায়, আজ থেকে প্রায় সাত কোটি বছর আগে এই ধরনের পিঁপড়ার অস্তিত্বের প্রমাণ মিলেছে। মূলত দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে এদের খুঁজে পাওয়া যায়।
সাহসীসব প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম এই পিঁপড়া। তাদের মধ্যে কেউ একাও যদি বিপদে পড়ে তাহলে সে একাই তার মোকাবেলা করে।
সাইফু পিঁপড়া মূলত Dorylus গোত্রের পিঁপড়া। এরা মাটিতে, পাথরের নিচে অথবা মাটির উপরে বাড়ি বানিয়ে থাকে। এ ছাড়া মাটির ওপরে অবস্থিত গাছের ডাল, নুড়ি, বালু বেশি যেখানে থাকে সেখানেও আবাসস্থল তৈরি করে।
এ প্রজাতির পিঁপড়া, রানী এবং তার উপনিবেশ ২০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। তবে পুরুষ পিঁপড়ারা রানীর সঙ্গে মিলনের পরই মৃত্যু ঘটে। শ্রমিক পিঁপড়ারা এক বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। শ্রমিক সাইফুরা সব ধরনের কাজ করে থাকে।





Post a Comment