যেভাবে পেঙ্গুইন বয় খ্যাত জেসন নিজেকে স্বাভাবিক প্রমাণ করেছে

 


ODD বাংলা ডেস্ক:   মানুষ কঠোর পরিশ্রম, অধ্যাবসায় আর মনোবল দিয়েই পৃথিবী জয় করেছে। এর অনেক প্রমাণ রয়েছে আমাদের সমাজে। এমনকি জন্মগতভাবে, দুর্ঘটনাজনিতভাবে কিংবা কোনো রোগের কারণে অনেকেই শরীরের কোনো না কোনো অঙ্গ হারিয়ে জয় করেছেন পৃথিবী।

স্বাভাবিক মানুষের চেয়েও তারা ভালোভাবে জীবনযাপন করেন। এমন অনেকের কথাই তো জেনেছেন। আজ এমন একজন অদম্য মনোবলের মানুষের কথা জানাবো যিনি মনের জোড়েই নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে বিশ্ব জয় করেছেন। নাম তার জেসন ব্রট। বাল্টিমোর ইউনাইটেড স্টেটস-এর একটি স্বায়ত্বশাসিত নগরী। এটি মেরিল্যান্ডের সবথেকে বড় শহর।


এখানকার বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সী জেসন ব্রট। জন্ম থেকেই বিকলাঙ্গ সে, তার দুই হাত খুবই ছোট। তিনি অনেক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছেন। তারপরও থেমে থাকেন নি তিনি। জীবনের এই সীমাবদ্ধতা নিয়ে নেই ক্লান্তি বা বিষন্নতা। স্বাভাবিক জীবন-যাপন, উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনা নিয়ে সমাজের আট-দশজন মানুষের মতো তিনিও একজন।


তার হাত দুটি কাঁধের সঙ্গে সংযুক্ত, তার দেহের ৮০ শতাংশ ট্যাটু আঁকা। জিভ দুই ভাগ করা। দেখতে পেঙ্গুইনের মতো। তার ডাক নাম দিয়েছেন 'ইলাস্ট্রেটেড পেঙ্গুইন।'ইলাস্ট্রেটেড পেঙ্গুইন নামটি কেবল তার হাতের কারণেই বেছে নিয়েছেন।  তার দুটি বড় ভাই এবং একটি বড় বোন রয়েছে। তার উচ্চতা ৩ ফুট ৩ ইঞ্চি।


জেসন ব্রট নিজের হাত দুটি না থাকা সত্ত্বেও, তিনি জোর দিয়ে বলেন যে তিনি অন্যদের থেকে খুব ভালো জীবনযাপন করেন, যেহেতু তিনি নিজের খাবার নিজে খেতে পারেন, নিজের পোশাক নিজে পরতে পারে। এমনকি স্কেটবোর্ডে চালাতে পারেন। তাছাড়া তিনি একজন সংগীতশিল্পী। ছোটবেলা থেকে কঠোর উপহাস ও হুমকির শিকার হয়। 


তার গল্পটি আপনার হৃদয়কে স্পর্শ করবে। তাকে নিয়ে বিভিন্ন বই লেখা হয় এবং তার ছবি দেয়া হয় বইয়ে। এই সম্পর্কে তিনি অনুরোধ করেছেন, যে তাকে নিয়ে এটা না করতে। দ্য উইজার্ড অফ ওড টিভির এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার জীবনযাপন সম্পর্কে জানান। তিনি আরো বলেন, তিনি বেশ কিছু দিন ধরে অসুস্থ। তার কিডনির সমস্যা দেখা দিয়েছে।


আর এজন্য তার গত পাঁচ বছর ধরে ডায়ালাইসিসে করতে হয়। ডায়ালাইসিস করার পর তিনি আগের মতো কাজ করতে পারেন না। এখন বায়োনিক কিডনি বের হয়েছে। অপারেশনের মতো করেই এই বায়োনিক কিডনি প্রতিস্থাপন সম্ভব। এর কার্যকারিতাও সাধারণ কিডনির মতোই। রক্ত চলাচলও হবে ওই কিডনির মধ্য দিয়েই।


তিনি আরো বলেন, জেসন ব্রট যখন বাড়ি থেকে বের হয় তখন লোকজন তার দিকে তাকিয়ে থাকে। তবে তিনি তাতে কিছু মনে করেন না। কারণ তিনি মনে করেন এই সব দিকে তাকালে তিনি আর সামনের দিকে আগাতে পারবন না। তাই তিনি তার জীবনের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে চান। তিনি বলেন আমি জানি আমি কিছুটা অদ্ভুত দেখতে। তবে আমি আমার জীবনে অনেক সুখী। 

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.