মনকে শান্ত ও সুন্দর করবে যেসব কাজ

 


ODD বাংলা ডেস্ক:  কথায় বলে, সকালের সূর্য দেখে আন্দাজ করা যায়- দিনটি কেমন যাবে। ঠিক তেমনি মানব জীবনেও এমন কিছু ব্যাপার আছে। আসলে দিনের শুরুটা যদি সুন্দরভাবে করা যায় তবে হয়ত সারা দিনটা ভালো কাটানো সম্ভব হয়। তাই দিনের শুরু করতে যেসব কাজ আপনি করতে পারেন।

কিছু কাজ রয়েছে, যার মাধ্যমে আপনি আপনার দেহ-মনকে সুস্থ্য রাখতে পারেন। আর এ জন্য প্রতিদিনের সকালে অন্তত এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় ব্যয় করুন।


ভৈরব রাগ


‘ভৈরব রাগ’ ভারতীয় রাগশাস্ত্রে বর্ণিত একটি প্রাচীন রাগ।  একে বলা হয় আদি রাগ। দক্ষিণ ভারতীয় সঙ্গীত পদ্ধতিতে এই রাগের নাম মায়ামালবগৌড়। বর্তমানকালে সকালের রাগ হিসেবে ভৈরব পরিবেশন করা হয়। এই রাগের ভেতরে থাকে গম্ভীর এবং গভীর প্রশান্তির ছায়া। এই রাগের উভয় রূপ মনকে ভক্তিমার্গে আপ্লুত করে। তাই সকালে শুনতে পারেন এই রাগ। আজকাল ইউটিউিবে সার্স করলে আপনি সহজেই পেয়ে যাবেন এই রাগ।


বাশির সুর


মনকে শান্ত, স্থির রাখতে পারলে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে শান্তি বজায় থাকে। এতে অনেক সময় কঠিন পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। তবে মনকে শান্ত রাখতে আপনি বাশির সুর শুনতে পারেন। অবশ্যই এই অভ্যাস আপনার মনকে শান্ত রাখতে পারবে। ইউটিউিবে সার্স করলে আপনি সহজেই পেয়ে যাবেন অনেক সুন্দর সুন্দর বাশির সুর।


গান


ভালো মানের কিছু গান আমাদের দেশাত্মবোধের জন্ম দেয়। নিজ দেশের সংস্কৃতিকে ধারণ করে। তাই সকালের শুরুতে অন্তত একটি ভালো মানেন গান শুনে নিন।  


মেডিটেশন বা ধ্যান


মেডিটেশন মনের শক্তিকে কাজে লাগাতে শেখায়। নিয়মিত মেডিটেশনে ব্রেনের নিউরনগুলোর মধ্যে সংযোগ ঘটায়, শরীর শিথিল হয় এবং শরীরের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করার দায়িত্ব থেকে থেকে মন মুক্তি পায়। মনকে শান্ত রাখার একটি কৌশল হতে পারে ধ্যান। ধ্যান, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, যোগব্যায়াম, প্রকৃতির কাছে যাওয়া ইত্যাদি মনকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে।


ব্যায়াম


মনকে শান্ত রাখতে শরীরের যত্ন নিতে হবে। নিয়মানুবর্তী জীবনযাপনের অভ্যাস করতে হবে। ব্যায়ামের বিকল্প নেই। পাশাপাশি রাতে জেগে থাকা, দিনে ঘুমানো এ ধরনের অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে।


খাবার


খাদ্যের প্রধান ছয়টি উপাদান: শর্করা, আমিষ, স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাবার, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও জল। এগুলো খাবারের তালিকায় সঠিক অনুপাতে উপস্থিত থাকলে তাকে সুষম খাদ্য বলে। আপনার খাদ্য তালিকায় সুষম খাবার থাকলে তা আপনার জীবনের জন্য অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ এক ভূমিকা রাখবে।


স্নান


সব ধর্মের মতেই, স্নান হলো সমস্ত দেহ ধৌত করার মাধ্যমে পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের একটি পন্থা। ধর্মীয় উপাসনা এবং আচার-আনুষ্ঠান পালনের পূর্বশর্ত হচ্ছে স্নান। এই স্নান আপনার মন তথা জীবনের সৌন্দর্য সৃষ্টিতে সহায়তা করতে পারে। প্রতিদিন যথা সময়ে গোছল আপনার প্রতিদিনকে সুন্দর করে তুলতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ।  


সামাজিক দক্ষতা ভালো রাখা


আসলে মনকে শান্ত রাখতে হলে সামাজিক দক্ষতা ভালো থাকতে হবে। এই ক্ষেত্রে দুটো বিষয় রয়েছে। একটি হলো, কার্যকরী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে। দুই, সমস্যা সমাধানের কৌশল রপ্ত করতে হবে। এই দুটো যখন একজন মানুষের মধ্যে থাকবে, তখন তিনি কোনো অস্থিরতায় ভুগবেন না এবং দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা সমাধান করতে পারবেন।


লক্ষ্য স্থির করা


জীবনে কাজের লক্ষ্য স্থির করতে হবে। তাহলে নিজেকে শান্ত রাখা যাবে।  


ব্যর্থতা মেনে নেওয়া


ব্যর্থতা জীবনের অংশ। এটি মেনে নেওয়ার ক্ষমতা তৈরি করতে হবে। ভাবতে হবে, সফলতার একটি ধাপ ব্যর্থতা। পরাজয় হলেও সেটি থেকে কীভাবে উঠে দাঁড়াতে হবে, সেটি শিখতে হবে।


পরিবারকে সময় দেওয়া


আমরা অনেক সময় ক্যারিয়ার, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এগুলোর দিকে তাকাতে গিয়ে পরিবার ও সমাজকে সময় দিতে পারি না; আনন্দ উপভোগ করতে পারি না। এটা অনেক সময় আত্মঘাতী হয়ে যায়। কিন্তু এটি না করে পরিবার ও নিজের কাছের মানুষদের সময় দিতে হবে। এটি উদ্বেগ কমিয়ে মনকে শান্ত রাখতে কাজে দেবে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.