চিঠি পাঠানোর জন্য পায়রা কেন বিশ্বস্ত
ODD বাংলা ডেস্ক: অনেক অনেক দিন আগের কথা। তখন কোনো আধুনিক প্রযুক্তি ছিল না,ছিল না ই-মেইল,ছিল না স্যাটেলাইট। সে সময়ের যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে বর্তমানকালের কোনো তুলনাই চলে না। সে সময় কবুতরের গতিবিধি মানুষের অনুসন্ধানী মনকে নাড়া দিলো। তারা দেখল, কবুতর সকালবেলা যেকোনো স্থানে চলে যাক না কেন, বিকেলে বা সন্ধ্যায় ঠিকই আবার নিজের বাসস্থানে ফিরে আসে।
পায়রাদের প্রাকৃতিকভাবে ফিরে আসার যোগ্যতার কারণে, ওরা মানুষের বার্তাবাহক হয়ে ওঠে। ওরা ছিল বার্তাবাহক হিসেবে বেশ কার্যকর। এভাবেই কবুতর হয়ে ওঠে প্রাচীনকালের যোগাযোগ অন্যতম মাধ্যম। ফলে কবুতরের মাধ্যমে অনায়েসে এক জায়গা থেকে কোনো চিঠি সঠিক জায়গায় সঠিক জনের কাছে পৌঁছানো হতো।
এখন এক ক্লিকেই বার্তা পৌঁছে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে। নেটমাধ্যমের দৌলতে এখন ইমেল, হোয়াটসঅ্যাপের মতো অনেক আধুনিক প্রযুক্তি আমরা ব্যবহার করে থাকি। ফলে পায়রা দিয়ে বার্তা পাঠানোর বিষয়টি যেন এখন একটা গল্পকথার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু একটা সময় ছিল যখন কোনো দুর্গম প্রান্ত যেখানে পত্রবাহকরা পৌঁছতে পারতেন না, সেখানে বার্তা পাঠাতে পায়রাই ছিল একমাত্র সম্বল। এ জন্য তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। বার্তা পাঠানোর জন্য সেনাবাহিনীতেও পায়রাকে একটা যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হত। এই প্রথা তিন হাজার বছর আগে থেকে মিশরীয়রা প্রথম ব্যবহার করেন। পরে ধীরে ধীরে অন্যরাও এই প্রথা রপ্ত করে। রোমানরা দুই হাজার বছর আগে তাদের সেনাবাহিনীকে সহায়তার জন্য পায়রা ব্যবহার করেছিলেন। জুলিয়াস সিজার তাঁর সাম্রাজ্যকালে পায়রাদের বার্তাবাহক হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। চেঙ্গিস খান তাঁর সাম্রাজ্যের দূরবর্তী স্থানগুলোতে যোগাযোগ করতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করতেন। এ ছাড়াও প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরেও ফ্রান্স, জার্মানি এবং রাশিয়া প্রচুর পরিমাণে পায়রা নির্দিষ্ট করে রেখেছিল।
তবে প্রশ্ন হচ্ছে- কাক, টিয়া, কাকতুয়ার মতো অনেক পাখিই তো আছে যারা সহজে মানুষের আদবকায়দা রপ্ত করতে পারে। কিন্তু তাদের এই কাজে ব্যবহার না করে কেন শুধু পায়রাকেই পত্রবাহক হিসেবে ব্যবহার করা হত?
কারণ অবশ্যই আছে। এই পায়রার মধ্যে রাস্তা চেনার একটা অদ্ভুত ক্ষমতা আছে। পায়রাকে যে কোনো জায়গায় ছেড়ে দিলে সে ঠিক রাস্তা চিনে ঘরে ফিরে আসবে। তা ছাড়া পাখিরা ম্যাগনেটোরিসেপশনের মাধ্যমে বুঝতে পারে তারা পৃথিবীর কোন জায়গায় আছে। সূর্যের অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে পায়রারা ঘরে ফেরার রাস্তা ঠিক খুঁজে নিতে পারে।
শুধু রাস্তা চেনার ক্ষমতাই নয়,গতির জন্যও পায়রাকে পত্রবাহক হিসেবে কাজে লাগোনোর জন্য বেছে নেওয়া হত। ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেগে উড়তে পারে পায়রা। এক দিনে হাজার কিলোমিটার পথ উড়ে যেতে পারে। শুধু তাই নয়, ছয় হাজার ফুট উচ্চতাতেও উড়তে পারে পায়রা। এসব কারণের জন্যই পায়রাকে পত্রবাহক বা বার্তাবাহক হিসেবে বেছে নেওয়া হত।
বেতার-তারবার্তা এবং দূরদর্শনের বিকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পায়রা ব্যবহার সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। তবুও মানুষ ভুলে যায়নি যোগাযোগের ইতিহাসে বার্তা নিয়ে ছুটে চলা সেই পায়রাদের গল্পকথা।





Post a Comment