হট্টিমা : নানা নামে তার পরিচয়
ODD বাংলা ডেস্ক: নানা রং বা বৈশিষ্ট্যর পাখির সমাহার দেখা যাবে এ দেশের পথে প্রান্তরে। তবে বিগত চার থেকে পাঁচ দশক আগেও যেসব পাখি দেখা যেত তার অনেকটাই এখন চোখে পড়ে না। ফলে দু-চারটি পাখি হঠাৎ চোখে পড়লেও তাদের চেনা যায় না। সেসব পাখি চিনতে প্রবীণদের সাহায্য নিতে হয়। এমন একটি পাখি হট্টিমা।
অঞ্চলভেদে কোথাও কোথাও এ পাখির নাম খরমা, কোথাও ছোট হাঁটুভাঙ্গা আবার কেউ কেউ তাকে চেনেন হট্টিমা নামে। অবশ্য পাখিটি বগুডি বা ছোট শিলাবাটান নামেও পরিচিত। হট্টিমার ইংরেজি নাম Eurasian stone-curlwe বা Eurasian thick-knee। এর বৈজ্ঞানিক নাম Burhinus oedicnemus।
আকার ভেদে এই পাখির দৈর্ঘ্য ৪০ থেকে ৪৫ সে.মি., ওজন ২৮০-৫২৫ গ্রাম। এটি জলচর পাখি। এরা BURHINIDAE পরিবারের অন্তর্গত।
এরা বড় হলুদ চোখ লম্বা পায়ের পাখি। ঠোঁট মাথার চেয়ে ছোট, শক্ত, সোজা, প্রশস্ত ও নাকের ছিদ্র লম্বা। ডানা লম্বা ও সূচালো। এদের পায়ের পেছনে কোনো আঙুল নেই। তবে মাঝের আঙুলের নখ প্রশস্ত। এদের পিঠ বালু-বাদামি ও দেহের নিচের অংশ হালকা বালু-বাদামি। পেট সাদা। ছেলে ও মেয়ে পাখির চেহারা অভিন্ন।
খরমা বা মোটা হাঁটু মরুভূমি, প্রস্তরময় পাহাড়, খোলা শুকনা বনভূমি, নদীর পাড়ে, ক্ষুদ্র ঝোঁপের ছোট ছোট ভূখণ্ড, ফলের বাগান ও শুকনো গ্রামের কুঞ্জবনে বিচরণ করে। অধিকাংশ সময় জোড়ায় বা ছোট ঝাঁকে থাকে। এরা আঙুলের মাথায় ভর দিয়ে রাতে হেঁটে হেঁটে পাথর, শুকনো নদীতট ও খোলা বনতলে ঠোকর দিয়ে খাবার খায়। খাদ্যতালিকায় পোকা, কেঁচো, খোলসহীন শামুক, ছোট সরীসৃপ ও ইঁদুর রয়েছে। দিনে এরা শীতল বা ছায়াময় জায়গায় বিচরণ করে। এদের গলার স্বর কর্কশ। পিক-পিক-পিক-পিক--উই উচ্চ শব্দ করে গলা চেঁচিয়ে ডাকে। ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত এদের প্রজননকাল।
প্রজননকালে ঘাস বা বালু বা পাথরের নিচে কোনো কিছু না বিছিয়ে মাটিতে ২-৩টি ডিম পাড়ে। মেয়েপাখি ডিমে তা দেয়। তবে পুরুষপাখি ডিমে তা না দিলেও সারাক্ষণ পাহারায় থাকে। ডিম থেকে ছানা বের হওয়ার পর দুজনই পরিচর্যা করে।
খরমা আমাদের দেশে অনিয়মিত পাখি। দেশের রাজশাহী বিভাগ ও খুলনা বিভাগে নিয়মিত দেখা যায়। এ ছাড়াও ইউরোপ, আফ্রিকা ও ভারতজুড়ে পাওয়া যায়। এরা বিশ্বে বিপদমুক্ত হলেও ভারতে অপ্রতুল-তথ্য শ্রেণিতে রয়েছে। ভারতের বণ্যপ্রাণী আইনে এই প্রজাতি সংরক্ষিত।





Post a Comment