আর বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করে না? জানুন করণীয়

 


ODD বাংলা ডেস্ক:  সবার জীবনই যে এক নিয়মে চলে তা কিন্তু নয়। কারো কারো জিবনে সুখের কোনো শেষ নেই, আবার কারো কারো জীবনে সুখের দেখাই মেলে না। দুঃখে ভরপুর থাকে তাদের জীবন। এই অবস্থায় অনেকেই ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন। জিবে অনেক না পাওয়ার বেদনা তারা মেনে নিতে পারেন না। তাইতো বারবার তারা মৃত্যু নিয়ে ভাবেন।

দেখা যায়, তারা কিছুতেই মাথা থেকে মৃত্যুচিন্তা দূর করতে পারে না। এমনকি তারা বেঁচে থাকার এমন কোনো যথেষ্ট কারণও খুঁজে পান না। ভাবেন তারা একদম একা এবং তাকে কারো প্রয়োজন নেই। আসলে যারা আত্মহত্যার কথা ভাবেন, তাদের কাছে এই লক্ষণ বা ভাবনাগুলো নতুন বা অস্বাভাবিক নয়। সারা পৃথিবীতেই কোটি কোটি মানুষ এই ধরনের চিন্তার মধ্যে দিয়ে যান। এই তালিকায় এমন অনেকেরই নাম আছে যারা আত্মহত্যা করেছেন।


যদি এই লক্ষণগুলো আপনার মধ্যেও থাকে তবে আজই সতর্ক হন। মনে রাখবেন, আপনি একা নন। আপনাকে অনেকেরই প্রয়োজন। তাই এসব চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। এছাড়াও এসব চিন্তা মাথায় আসলে আর কী কী করবেন চলুন তা জেনে নেয়া যাক- 


>> কথা বলুন কাছের মানুষের সঙ্গে। আত্মহত্যার চিন্তার সঙ্গে আসে অদ্ভুত এক একাকিত্ব যা বলে বোঝানো কঠিন। অনেক ক্ষেত্রেই কাকে বলা যাবে তাও বুঝে ওঠা যায় না। অনেক কাছের মানুষও আত্মহত্যার চিন্তার সমাধান হিসেবে পার্থিব সাফল্য ও কারণকে তুলে ধরেন। যা কখনো কখনো আক্রান্তকে আরো দূরে ঠেলে দেয়। এই সমস্যায় সমাধান হতে পারেন মনোবিদ।


>> এই ধরনের চিন্তা এলে চেষ্টা করুন সুরক্ষিত কোনো স্থানে যাওয়ার। এমন কোনো স্থান যেখানে আপনি কিছুটা হলেও স্বস্তি পেতে পারেন। এমনকি, একটি ঘরে দম বন্ধ লাগলে পাশের ঘরে গিয়ে বসাও হতে পারে উপকারী।


>> কোনো একটি অভ্যাস তৈরি করুন যা উদ্বেগের মুহূর্তে আপনাকে শান্ত করতে পারে। এটিকে গ্রাউন্ডিং টেকনিক বলা হয়। অল্প করে হেঁটে আসা, পোষ্যকে আদর করা বা নির্দিষ্ট কিছু গান শোনার মতো অভ্যাস কৃত্রিমভাবে তৈরি করা যেতে পারে।


>> অনেক ক্ষেত্রেই আত্মহত্যার প্রবণতার পেছনে থাকে গভীর মানসিক অবসাদ। আবার মানসিক অবসাদ থেকে পালাতে অনেকেই নেশার শরণাপন্ন হন। এটি মারাত্মক বিপজ্জনক প্রবণতা। আত্মহত্যার চিন্তা এলে সচেতন ভাবে মাদক ত্যাগ করুন, এমনকি বাদ দিন মদ্যপানও।


>> অনেকের ক্ষেত্রেই আত্মহত্যার চিন্তা আসে পরোক্ষভাবে, এসব ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে একটি নির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি তৈরি করা যেতে পারে। মনে রাখুন শরীরের অন্য কোনো অঙ্গে ব্যথা বেদনা হলে যেমন তার জন্য চিকিৎসকের কাছে যাওয়াই দস্তুর, তেমনই মনের ক্ষেত্রেও যেকোনো অসুবিধায় প্রয়োজন মনোবিদের সহায়তা।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.