এশিয়ার শীর্ষ ধনী, জীবিকার তাগিদে করেছেন রাজমিস্ত্রীর কাজ
ODD বাংলা ডেস্ক: বিশ্বের ধনীদের তালিকায় রয়েছে নানান দেশের মানুষ। তবে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি কে? নিশ্চয় বলবেন বিল গেটস বা জেফ বেজোস। উত্তরটা সম্পূর্ণ ঠিক নয়। এই তালিকায় রয়েছেন আরো অনেকে। যারা কেউ কেউ সংবাদের শিরোনামে আসতে চান না। আড়ালে থাকতেই পছন্দ করেন। চীনা ধনকুবের ঝং সানসুইয়ের কথা খুব কম লোকই শুনে থাকবেন। বদমেজাজি বলে তার একটা দুর্নাম আছে। মানুষের সঙ্গে মিশতে দেখা যায় না।
তবে তার কোম্পানির লাল-মুখের জলের বোতলের চাহিদাও আকাশচুম্বী। কিন্তু এই নিঃসঙ্গ জংই এখন এশিয়ার সেরা ধনী। তার খনিজ জলের কোম্পানি নাংফু স্প্রিংয়ের শেয়ার দর বেড়ে যাওয়ার পর তিনি এই খেতাব অর্জন করেন। ওয়ানতাই বায়োলজিকেল ফার্মেসি নামের তার একটি ওষুধ কোম্পানিও আছে।
মহামারিতে তার এই কোম্পানির করোনাভাইরাস পরীক্ষার কিটের ব্যাপক চাহিদা দেখা গেছে। তার সম্পদের মোট মূল্য হবে সাড়ে আট হাজার কোটি ডলার। এই গ্রহের সপ্তম-শীর্ষ ধনী তিনি। চীনাভিত্তিক ধনকুবের তালিকা তৈরিকারী হুরুন রিপোর্টের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি এমন খবর দিয়েছে।
১৯৫৪ সালে ঝিজিয়াংয়ের ঝুজি শহরে জন্মগ্রহণ করেন ঝং সানসুই। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি পেরনোর আগেই জীবিকার সন্ধান করেছেন তিনি। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় রাজমিস্ত্রী, কাঠমিস্ত্রীর কাজ করেছেন। এরপর নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে অনেক কিছুই করেছেন ঝং সানসুই। ঝিজিয়াং টিভি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চীনা বিভাগ থেকে স্নাতক শেষ করেন। এরপর তিনি ঝিজিয়াং ডেইলি-তে যোগ দেন। সেখানে পাঁচ বছর রিপোর্টার হিসেবে কাজ করেন। এই সময়ে তিনি কয়েকশো উদ্যোক্তার সাক্ষাত্কারের নেন। তাদের কথা থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেও এমন কিছু করার কথা ভাবতে শুরু করেন।
ঝেজিয়াং ডেইলি ছেড়ে দেয়ার পর, ঝং সুসুয়ান কম দামে সোনা কিনে ব্যবসা করতে চেয়েছিলেন। তাই হাইনানেও গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে সফলতা না পেয়ে মাশরুম চাষ করেন। তাতেও সফলতার মুখ দেখেননি ঝং সানসুই। এরপর কচ্ছপের ওষুধ দিয়ে সফলতা পান। ঝং সানসুইয়ের উদ্যোক্তা মানসিকতার কথা যখন আসে, তখন বহিরাগতরা প্রযুক্তির প্রতি তার শ্রদ্ধার প্রশংসা করেন। ঝং সানসুই একবার বলেছিলেন যে, প্রথমে বিনিয়োগের ক্ষেত্র খুঁজে বের করতে হবে। এরপর সেখানে কাজ শুরু করা।
ঝং সানসুই খুবই হৃদয়বান মানুষ। কারো বাড়িতে মধ্যরাতে আলো জবলতে দেখলে সেখানে খোঁজ নেন। প্রয়জনে সাহায্য করেন সবাইকে। তবে এসব কিছুই তিনি প্রচার করেন না। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশটির গণমাধ্যমে ‘নিঃসঙ্গ নেকড়ে’ বলে খ্যাত এই ধনকুবের। তাকে জনসমক্ষে যেমন দেখা যায় না, তেমনি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেয়ার ক্ষেত্রে তার প্রবল অনীহা।
ইতিহাসে দ্রুততম সময়ে সম্পদ সঞ্চয়ীদের মধ্যেও তিনি একজন। হুরুনের প্রতিবেদনে বিশ্বের শীর্ষ দশ ধনীর তালিকায় নাম লেখানো প্রথম কোনো চীনা নাগরিক তিনি। ফেসবুকের মার্ক জুকারবার্গ ও আমেরিকান বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেটের পরেই এখন তার অবস্থান বলে ধরা হচ্ছে। ১৯৬৬ থেকে ৭৬ সাল পর্যন্ত চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব চলার সময় তার বয়স ছিল ১২ বছর।
খুবই অল্পবয়সে শিক্ষাজীবন থেকে তাকে ছিটকে পড়তে হয়েছে তাকে। পরবর্তীতে তিনি রাজমিস্ত্রী, কাঠমিস্ত্রী ও সংবাদপ্রতিবেদকের চাকরি করেন। এক বিরল সাক্ষাৎকারে চীনা গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, নিজের ব্যক্তিত্ব নিয়ে তোষামোদের অভ্যাস আমার নেই। আমি মানুষের সঙ্গে মিশতে অপছন্দ করি এবং ড্রিং করার অভ্যাসও নেই।





Post a Comment