ক্রিসমাসের শুভেচ্ছায় কেন বাদ পড়ল ‘হ্যাপি’!
ODD বাংলা ডেস্ক: হ্যাপি নিউ ইয়ার, হ্যাপি বার্থডে, হ্যাপি দিওয়ালি বলতে শুনেছেন। শুভেচ্ছা জানাতে আমরা একে অন্যকে এমনই বলি। কিন্তু বড়দিনের শুভেচ্ছা জানাতে গেলেই ‘মেরি ক্রিসমাস’ বলা হয়। কিন্তু কেন ক্রিসমাসের শুভেচ্ছায় বাদ পড়ল হ্যাপি’?
বড়দিনের শুভেচ্ছা জানাতে যদি কেউ ‘হ্যাপি ক্রিসমাস’ বলে বসেন, তাহলে পাশ থেকে কেউ ভুল ধরিয়ে দেন, ‘হ্যাপি নয়, মেরি হবে।’ এমনটাই চলে আসছে বছরের পর বছর ধরে। এর কারণ কী?
এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে বলে রাখা দরকার, ক্রিসমাসের আগে থেকে পুরোপুরি বাদ পড়েনি ‘হ্যাপি’। এখনও ইংল্যান্ডে ব্যাপকভাবেই ক্রিসমাসের আগে ‘হ্যাপি’ বসানো হয়। এমনকি ব্রিটেনের রানি নিজেও বড়দিনের শুভেচ্ছা জানাতে হ্যাপি ক্রিসমাসই বলেন। তার কারণ নাকি রানির মতে, মেরিটা যথেষ্ট পরিমাণে ভদ্র শব্দ নয়। ইংল্যান্ডের কিছু স্বঘোষিত সম্ভ্রান্ত পরিবার এখনও মেরি শব্দটা ব্যবহার করে না। তাদের মতে, এটা একেবারে অসভ্য গুণ্ডাদের ভাষা। হ্যাপিটাই ভদ্রলোকের ব্যবহার করার উপযুক্ত। সে দেশের অনেক চার্চেও সেই রীতিই চলছে।
মজার কথা, এই ‘মেরি ক্রিসমাসের পেছনেও রয়েছে ইংল্যান্ডের চার্চের ভূমিকা। সাধারণ মানুষের মধ্যে খ্রিস্টধর্ম জনপ্রিয় করার জন্যই নাকি, পাদ্রিদের উদ্যোগে এক সময়ে হ্যাপির বদলে ক্রিসমাসের আগে মেরি বসানো হয়।
মোটের ওপর ‘মেরি ক্রিসমাস’ একেবারে সাধারণ মানুষের ভাষা। আর ‘হ্যাপি ক্রিসমাস’ তুলনায় রক্ষণশীলদের শুভেচ্ছাবার্তা হিসাবেই থেকে গিয়েছে ইংল্যান্ডে। তবে ১৫৩৪ সালে বিশপ জন ফিশার একটি চিঠি লিখেছিলেন ক্রোমওয়েলকে। সেখানে ‘মেরি ক্রিসমাসই লেখা হয়েছিল।
উনিশ শতকের গোড়ার দিকে ইংল্যান্ডসহ ইউরোপের নানা অঞ্চলে ‘মেরি ক্রিসমাস’ই শুভেচ্ছাবার্তা হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে যায়। পরে আমেরিকাতেও ছড়িয়ে পড়ে এই রীতি। ক্রিসমাস-কার্ডে ব্যাপকভাবে লেখা হতে থাকে ‘মেরি ক্রিসমাস’। সেটাই এখন গোটা পৃথিবীতে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে এরই মধ্যে অল্প করে হলেও হাতেগোনা কিছু মানুষের মধ্যে টিকে রয়েছে ‘হ্যাপি ক্রিসমাস’-বার্তা।





Post a Comment