শিক্ষকতা ছেড়ে ব্যবসা, দম্পতি এখন ৮৮ হাজার কোটির মালিক
ODD বাংলা ডেস্ক: পৃথিবীতে কেউ সাফল্যের চামচ নিয়ে জন্মায় না। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সবকিছু অর্জন করতে হয়।
কথায় আছে, ‘পরিশ্রম সাফল্যের চাবিকাঠি’। পরিশ্রমের দ্বারা ভাগ্যের চাবিকাঠি এমনভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব, যা অলস মানুষের কাছে অলৌকিক বলে মনে হয়। যে কোনো ক্ষেত্রে সফলতার প্রথম শর্ত হল প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রম।
মানুষ যদি তার লক্ষ্যে অটুট থাকে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করে, তবে একদিন সে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছতে পারে। যেমনটাই করেছে অস্ট্রেলিয়ার এই দম্পতি। ওই দম্পতির নাম ক্লিফ ওবরেচ্ড এবং মেলানিয়া পারকিন্স। ক্লিফ ওবরেচ্ড বয়স ৩৫ বছর। আর ক্লিফ ওবরেচ্ড বয়স ৩৪ বছর। তারা দু’জনে প্রায় ৮ বছর আগে স্টার্ট-আপ সংস্থা গড়ে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্বে পা রেখেছিলেন। এখন বিশ্বজুড়ে তাদের ব্যবসা প্রায় এক হাজার ২০০ কোটি ডলার। যা প্রায় সাড়ে ৮৮ হাজার কোটি টাকা।
ক্লিফ ওবরেচ্ড এবং মেলানিয়া পারকিন্স। গ্রাফিক ডিজাইনিং প্ল্যাটফর্ম ক্যানভার যুগ্ম-প্রতিষ্ঠাতা। গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় দ্বিতীয় ধনী নারীর স্বীকৃতি পেয়েছিলেন ৩৪ বছরের মেলানিয়া। তখনো ক্লিফের সঙ্গে তার বিয়ে করেনি। চলতি বছরের প্রথম দিকে তারা বিয়ের করেন। দুইজনের এক সঙ্গে পথ চলা শুরু অবশ্য তারও অনেক আগে। ২০১৩ সালে ক্যানাভা প্রতিষ্ঠার সময় থেকে।
মেলানিয়ার গ্রাফিক ডিজাইনিংয়ের কোনো প্রথাগত শিক্ষা ছিল না। অস্ট্রেলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কমিউনিকেশন নিয়ে পড়ার সময় ডিজিটাল মিডিয়া এবং গ্রাফিক ডিজাইনিং সম্পর্কে তার আগ্রহ তৈরি হয়। এরপর নিজের উদ্যোগে আবার পড়াশোনা শুরু করেন। ওই বিষয়ে অনেক দক্ষতা অর্জন করে। আর এই দক্ষতার কারণে ২০০৮ সালে ওই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে আংশিক সময়ের শিক্ষক হিসেবে বিষয়টি পড়ানোর আমন্ত্রণ জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর সময়ই বাজার চলতি ডিজাইনিং সফটওয়্যার গুলোর নানা খামতি নজরে পড়েছিল মেলানিয়ার। ততদিনে ক্লিফের সঙ্গে আলাপ হয়েছে তার। নানা পরিকল্পনার পরে দু’জনে মিলে গড়ে তোলেন ক্যানাভা। আর এক সহ-প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন প্রাক্তন গুগল আধিকারিক ক্যামেরন অ্যাডামস। সম্প্রতি বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম স্টার্ট-আপ-এর স্বীকৃতি পেয়েছে তাদের সংস্থা। ক্যানাভা ৩০ শতাংশ অংশিদারিত্ব রয়েছে এই দম্পতির কাছে। মেলানিয়া সংস্থার সিইও। ক্লিফ চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও)।
ক্লিফ সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আমাদের সিদ্ধান্ত যে ঠিক ছিল তা এখন প্রমাণিত। আমরা চাই বিশ্বের বৃহত্তম কোম্পানির কর্ণধার হতে। আমরা ঠিক লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছি।





Post a Comment