বৃষ্টি নয় এই ‘অদ্ভুত’ কারণেই ছাতার আবিষ্কার
ODD বাংলা ডেস্ক: প্রায় চার হাজার বছর আগে ছাতা আবিষ্কৃত হয়েছিল। তবে কোথায় এবং কারা প্রথম ছাতা আবিষ্কার করেছিল এই নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। প্রাচীন মিশর, গ্রিস এবং চীনের চিত্রকর্মে ছাতার নিদর্শন পাওয়া যায়। তবে চীনকেই ছাতার প্রকৃত জন্মস্থান হিসেবে ধরা হয়।
মজার ব্যাপার হলো, প্রাচীন এই ছাতা বা প্যারাসল কিন্তু বৃষ্টির আক্রমণ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে আবিষ্কৃত হয়নি। এগুলো এমনভাবে নকশা করা হতো যেন সূর্যের তাপের বিপরীতে ব্যবহারকারীকে ছায়া প্রদান করতে পারে। পরবর্তীতে চীনারা প্রথম তাদের ছাতাকে ‘ওয়াটারপ্রুফ’ করে তোলে, যাতে সেগুলো মানুষকে বৃষ্টি থেকেও সুরক্ষিত রাখতে পারে। তারা তাদের কাগজের প্যারাসলগুলোর উপর মোম লাগিয়ে বার্ণিশ করে, যেন সেগুলোকে বৃষ্টির মধ্যে ব্যবহার করা সম্ভব হয় এবং বৃষ্টির পানিতে কাগজগুলো ছিঁড়ে না যায়।
ছাতা আবিষ্কারের কাহিনী অনেক পুরাতন হলেও অষ্টাদশ শতক পর্যন্ত ছাতার আকৃতি ছিল অনেক বড় এবং ওজনও ছিল বেশি। যেহেতু ছাতার রডগুলো ছিল কাঠের বা তিমি মাছের কাঁটার এবং হাতল ছিল প্রায় দেড় মিটার লম্বা তাই ছাতার গড় ওজন বেশি ছিল। আনুমানিক ৪-৫কেজি।
বিশ্বের প্রথম ছাতার দোকান ‘জেমস স্মিত এ্যান্ড সন্স’ চালু হয় ১৮৩০ সালে এবং এই দোকান লন্ডনের ৫৩ নিউ অক্সফোর্ড স্ট্রিটে আজো চালু আছে। ১৮৫২ সালে স্যামুয়েল ফক্স স্টিলের চিকন রড দিয়ে রানী ভিক্টোরিয়ার জন্য ছাতা তৈরি করেন। ইংল্যান্ড বিশেষ করে লন্ডনে প্রচুর বৃষ্টি হয় জন্য সেখানে ব্যাপকভাবে ছাতার ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। যে কারণে লন্ডন ছাতার শহর হিসাবে পরিচিত। একসময় বিশ্বের অনেক দেশ বৃটিশদের কলোনি ছিল। আর সেই কারণে তারা বিভিন্ন দেশ থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে অনেক কম খরচে ছাতা তৈরি করতে পারতো।
সে সময় তারা সোনা, রুপা, চামড়া, বিভিন্ন প্রাণীর শিং, বেত ও হাতির দাঁত দ্বারা ছাতার হাতল তৈরি করতো। ১৭১৫ সালে মারিয়াস নামক এক পারস্যে নাগরিক পকেট ছাতা আবিষ্কার করার কৃতিত্ব দাবি করেন। এরপর উনিশ শতকের দিকে ছাতাকে বিভিন্ন ডিজাইনের এবং সহজে বহনযোগ্য করা হয়। ১৮৫২ সালে গেজ বা গেড নামে একজন প্যারিস নাগরিক স্বয়ংক্রিয় সুইসের সাহায্যে ছাতা খোলার পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।
১৯২০ সালে জার্মানির বার্লিন শহরের হ্যানস হাপট নামক এক ব্যক্তি ছাতা তৈরিতে অভিনব পরিবর্তন আনেন । তিনি ছোট সাইজের সহজে পকেটে বহনযোগ্য ছাতা তৈরি করেন। ১৯৩৬ সালে লর্ড ও লেডি নামক এই ছাতা জার্মানিদের মাঝে ব্যাপকভাবে সাড়া ফেলেছিল। ১৯৫০ সালের দিকে জার্মানির এই নিরিপস্ কোম্পানির ছাতার ডিজাইন ও আকার ভ্রমণকারীদের মাঝে খুব সমাদৃত হয়েছিল।
১৯৬০ সালে পলেষ্টার কাপড়ের ছাতা পৃথিবীজুড়ে ব্যাপক হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিল। উপহার হিসাবেও ছাতা এই সময় খুবই সমাদৃত হয়েছিল। বিংশ শতকের শেষের দিকে ছাতার আর এক ধরনের পরিবর্তন আসে। একসময় ছাতার রং কালো থাকলেও এখন বাহারী রঙ্গের ছাতা তৈরী হচ্ছে। এ্যালুমিনিয়াম, ফাইবার গ্লাস ইত্যাদি ব্যবহার করে অনেক আকর্ষনীয় ডিজাইনের ছাতা এসেছে বাজারে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে খোলা ও বন্ধের আলাদা সুইচ চমক এনেছে জনগনের মাঝে। ছাতার কাপড়, রং, সাইজ ও ডিজাইনে এসেছে অনেক ধরনের পরিবর্তন। অষ্টাদশ শতকে বৃষ্টি থেকে বাচার জন্য ছাতা ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে রোদ কিংবা বৃষ্টি সবসময়ই ছাতা ব্যবহৃত হচ্ছে।
বর্তমানে ছাতা একটি পৃথক শিল্পে পরিণত হয়েছে এবং এর একটি স্বকীয় বাজার রয়েছে। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ছাতা তৈরি হয় চীনে। আর চীনের একটি শহর, সোংজিয়া “ছাতার রাজধানী” হিসেবে পরিচিত হয়। এখানে রয়েছে এক হাজারেরও বেশি ছাতার কারখানা, যেখানে প্রতি বছর প্রায় অর্ধবিলিয়ন ছাতা, অর্থাৎ চীনের মোট উৎপাদনের ৩০ শতাংশ ছাতা তৈরি হয়। এখানে একজন ছাতা কারিগরই দিনে তৈরি করেন ৩০০টির বেশি ছাতা।





Post a Comment