৩৬৬ বছরের পুরনো কাঠের গির্জার শৈল্পকতা এখনও অবাক করে

 


ODD বাংলা ডেস্ক:  দেখে মনে হতে পারে একটি পুরোনো আবাসিক বাড়ি। কিন্তু এটি কোনো বাড়ি নয়। এটি একটি চার্চ। রাশিয়ার ক্রাসনায়া লায়গায় ১৬৫৫ সালে নির্মিত হয়েছে চার্চটি। এটি  সম্পূর্ণ কাঠের তৈরি। পুরনো হলেও চার্চটি এখনো চালু আছে। চার্চটি যখন নির্মিত হয়, তখন রাশিয়ার জার ছিলেন পিটার দ্য গ্রেটের পিতা অ্যালেকসি মিখাইলোভিচ। তিনি ১৬৪৫ থেকে ১৬৭৬ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার জার ছিলেন। ১৬৮২ সালের ২৭ এপ্রিল থেকে ১৭২৫ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পিটার দ্য গ্রেট রাশিয়ার জার ছিলেন।

রাশিয়ার সম্রাট প্রথম পিটার কে বলা হয় পিটার দ্য গ্রেট। আধুনিক রাশিয়ার জনক এই পিটার দ্য গ্রেট। এই রাজাকে নিয়ে রয়েছে হাজারো বিতর্ক। নিজের পুত্রকেই হত্যা করেছিলেন তিনি। অর্থোডক্স চার্চের স্বায়ত্বশাসন হ্রাস করেন তিনি। পুরুষের দাড়ির উপর কর আরোপ করে পিটার দ্য গ্রেট। রক্ষণশীলতা ভেঙ্গে আধুনিক রাশিয়া তৈরী করেন তিনি। রাশিয়াকে পশ্চিম ইউরোপের সব থেকে উন্নত ও শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার কৃতিত্ব তার।  


তবে অ্যালেকসি মিখাইলোভিচের আগে রাশিয়ায় কিয়েভের প্রিন্স ভ্লাদিমিরের আগ্রহে দশম শতাব্দীর শুরু থেকে গির্জা তৈরি শুরু হয়। কাঠ দিয়ে আর খুব ছোট করে এই গির্জাগুলো নির্মাণ করা হত। এর মূল কারণ ছিল এসব অঞ্চলে ছোট ছোট গ্রাম ছিল সেসময়। লোকসংখ্যাও ছিল কম। এজন্য আয়তনে ছোট করেই তৈরি করা গির্জাগুলো। তবে বিভিন্ন জায়গায় পরবর্তীতে অনেকেই বড় আকৃতির গির্জা তৈরি করেছেন।


সেসময় প্রিন্স ভ্লাদিমির খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে রাশিয়ার মানুষকে সভ্য করার চেষ্টা করেছিলেন। সে লক্ষ্যেই ছোট ছোট গ্রামগুলোতেও গির্জা নির্মাণ করেন। তার প্রজেক্টে ছিল একটি গ্রীষ্মকালীন গির্জা, শীতকালীন গির্জা এবং বেল টাওয়ার। এসব গির্জা নির্মাণ করেছেন স্থানীয়রাই। তাদের একমাত্র হাতিয়ার কুড়াল। স্থানীয় বন থেকে পাইন গাছ এনে ব্যবহার করেছেন। ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠা এই কাঠ অত্যন্ত শক্তিশালী এবং শতাব্দী ধরে বেঁচে থাকতে সক্ষম। একটির সঙ্গে আরেকটি কাঠ জোড়া দিয়ে মূল কাঠামোটি তৈরি করা হয়েছে।  ভিত্তি স্থাপনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে নদীর পাথর। 


সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেশিরভাগ গির্জা পরিবর্তন হয়েছে ইট পাথরের দেয়ালে। ১৮৩০ সালে এক জাপানি পর্যটক তার লেখা বইয়ে লিখেছিলেন, রাশিয়ানরা তাদের কাঠের তৈরি গির্জা নিয়ে খুবই গর্বিত। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে টিকে থাকা এসব গির্জা তাদের ঐতিহ্যকে ধারণ করে। ১৯১৭ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় অনেক গির্জা ধ্বংস হয়ে যায়। পরবর্তীতে সেগুলো ঠিক করা সম্ভব হয়নি। কেননা আগের মতো কাঠ দিয়ে এগুলো নির্মাণ করা এতটাও সহজ ছিল না। সেগুলো সংস্কার করা হয় ইট, বালি, কংক্রিটের দেয়ালে। 

একমাত্র ক্রাসনায়া লায়গায় অবস্থিত কাঠের গির্জাটি এখনো সচল রয়েছে। প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো এই গির্জায় এখনো নিয়মিত প্রার্থনা করেন স্থানীয়রা। এমনকি বিশেষ দিনগুলোতে দূর দুরান্ত থেকেও মানুষ এখানে আসেন প্রার্থনা করতে। সারা বছরই পর্যটকদের এখানে ভিড় লেগেই থাকে কমবেশি।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.