সাড়ে তিন হাজার বছরের প্রাচীন সেতু ব্যবহৃত হয় এখনো
ODD বাংলা ডেস্ক: প্রযুক্তির কল্যাণে বর্তমানে আধুনিক সেতু নির্মিত হচ্ছে পৃথিবীর দেশে দেশে। এখন কয়েক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সেতুও লক্ষ্য করা যায় হরহামেশাই। অবশ্য মানুষ প্রাচীন কাল থেকেই জল পথ অতিক্রম করতে সেতু নির্মাণের বিভিন্ন কৌশল আবিষ্কার করেছে। তবে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছরের পুরাতন সেতু টিকে আছে এখনো এমন তথ্য জানলে অনেকেই অবাক হবেন। শুধু তাই নয় সেই সেতু এখনো ব্যবহৃত হচ্ছে।
এমনই একটি বিস্ময়কর স্থাপত্য আরকাডিকো বা কাজার্মা সেতু। এটি গ্রিসের পেলোপনিসের তিরিনস থেকে এপিডাউরোস পর্যন্ত আধুনিক সড়কের কাছে অবস্থিত। সেতুটি গ্রিক ব্রোঞ্জ যুগে ১৩০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের দিকে নির্মিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়, যা প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর আগের। আরকাডিকো সেতু এখনো টিকে আছে এবং ব্যবহার করা হয়। প্রাচীন যেসব সেতু এখনো ব্যবহৃত হয়, এটি সেগুলোর মধ্যে অন্যতম।
আরকাডিকো সেতুটি মূলত একটি আর্চ সেতু। এটি সাইক্লোপিয়ান স্থাপত্য ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছিল। সাইক্লোপিয়ান স্থাপত্য হলো মাইসিনিয়ান স্থাপত্যে পাওয়া এক ধরনের পাথরের কাজ, যা বিশাল চুনাপাথরের বোল্ডার দিয়ে নির্মিত। যেখানে চুনাপাথরের বোল্ডার, ছোট ছোট পাথরের টুকরো দিয়ে চুন বা আঠা জাতীয় দ্রব্য ছাড়াই শক্তভাবে স্থাপত্য নির্মাণ করা হয়েছিল।
এ সেতুটির দৈর্ঘ্য ২২ মিটার, প্রস্থ ৫ দশমিক ৬ মিটার এবং উচ্চতা ৪ মিটার। এটির ভিত উপরের অংশ থেকে প্রায় এক মিটার চওড়া। জল প্রবাহের জন্য নিচের অংশে একটি ছোট কালভার্টের খোলা স্থান রয়েছে। উপরের রাস্তার প্রস্থ প্রায় ২ দশমিক ৫ মিটার। আধুনিক একটি গাড়ি এমন চওড়া সেতুর উপর দিয়ে সহজেই পার হয়ে যেতে পারে। তবে প্রাচীন এ স্থাপত্যের উপরে যাওয়ার পথটি এখন গাছপালায় আচ্ছাদিত।
প্রাচীন এ সেতু নির্মাণের স্থাপত্যশৈলী, সংযোগ সড়ক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, প্রাচীনকালে এটি মূলত ঘোড়ায় টানা গাড়ি পার হওয়ায় জন্য ব্যবহৃত হতো। আরকাডিকো ব্রিজ হলো আরকাডিকোর কাছে প্রাচীনকালে নির্মিত চারটি পরিচিত মাইসেনিয়ান আর্চ ব্রিজগুলোর মধ্যে একটি।
এখানে এ জাতীয় সবকটি সেতুই প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর আগে নির্মিত। সেতুগুলো একই নকশায় তৈরি করা হয়েছিল। এগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো পেট্রোজেফাইরি সেতু। এটি আরকাডিকো সেতুর ১ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। অবাক করা বিষয় হলো পেট্রোজেফাইরি সেতুটি প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর পর এখনো স্থানীয়রা ব্যবহার করেন।





Post a Comment