প্রাণী হয়েও মানুষের কেন লেজ নেই, জানেন কি?
ODD বাংলা ডেস্ক: মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। আর জীব বলতে যাদের প্রাণ আছে তাদেরকেই বোঝায়। প্রাণীকূলের সবারই তো প্রাণ আছে সঙ্গে তাদের লেজও আছে। যেমন- পাখি, স্তন্যপায়ী প্রাণী, সরীসৃপ এমনকি মাছেরও লেজ আছে।
আবার মানুষের কাছের প্রজাতির প্রাণীরও লেজ আছে। তবে মানুষের কেন লেজ নেই? এমন প্রশ্ন অনেকের মনেই থাকতে পারে। এর উত্তর দিয়েই সাজানো হয়েছে আজকের লেখা-
লেজের বিবর্তন কমপক্ষে ৫০০ মিলিয়ন বছর পূর্বে। লেজের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়েছে অনেক। গেকো বা টিকটিকি জাতীয় সরীসৃপ শরীরের ফ্যাট জমা করতে লেজ ব্যবহার করে। পাখি উড়ার সময় বায়ু চালিত করতে লেজ ব্যবহার করে। আবার র্যাটল সাপ প্রজাতি শিকারিদের ভয় দেখাতে তাদের লেজ ব্যবহার করে। তবে বেশিরভাগ স্তন্যপায়ী প্রাণী লেজ ব্যবহার করে মূলত ভারসাম্য রক্ষা করতে।
বিবর্তনের ধারায় মানুষের যত কাছাকাছি প্রজাতি এসেছে তাদের লেজ বিলুপ্ত হয়েছে। যেমন গরিলার লেজ নেই। শিম্পাঞ্জী কিংবা উল্লুক প্রজাতিরও লেজ নেই। আর মানুষের ক্ষত্রে এর অস্তিত্ব নেই তা না বললেও চলে। মানুষের কেন লেজের অস্তিত্ব নেই? আমাদের হাঁটার ধরনের দিকে লক্ষ্য করলেও এ বিষয়ে অনেকটা ধারণা পাওয়া যায়।
মানব জাতির কাছাকাছি কিছু প্রাণী বুক মাটির দিকে তির্যকভাবে রেখে মাথা নিচের দিকে রেখে চলে। তবে গিবনের মতো কয়েকটি প্রাণী মানুষের ন্যায় সোজা হয়ে হাঁটতে পারে। সোজা হয়ে চলার অনেক সুবিধা আছে। চার পায়ে চলা প্রাণীদের প্রতি পদক্ষেপে অনেক শক্তি ব্যয় করতে হয়। তবে মানুষ কিংবা অন্য দু’পায়ে হাঁটা প্রাণী চলার সময় মহাকর্ষের সুবিধা পায়।
আমরা যখন হাঁটি তখন মাধ্যাকর্ষণ আমাদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। যে কারণে আমাদের হাঁটার সময় সমস্ত চার পায়ে চলা প্রাণীর চেয়ে প্রায় ২৫ শতাংশ কম শক্তি ব্যয় হয়। মানুষের মাথার ওজন যদি গড়ে সর্বোচ্চ পাঁচ কেজি ওজনের হয় তারপরও হাঁটার সময় কোনো অসুবিধা হয় না। কারণ হাঁটার সময় মাথা সোজা শরীরের উপরে থাকে, সামনের দিকে ঝুঁকে নয়।
আর তাই মানুষের মাথা সামনের দিকে ঝুঁকে না থাকায় ভারসাম্য রক্ষায় অতিরিক্ত অঙ্গেরও প্রয়োজন পড়ে না। এসব যৌক্তিক কারণেই মানব প্রজাতির লেজ নেই। প্রাচীন মানব প্রজাতির লেজ ছিল বলে অনেকেই মনে করেন। তার প্রমাণও আমাদের শরীরের মেরুদণ্ড থেকে গিয়েছে, এমনটাই দেখানো হয়।
মানুষের মেরুদণ্ডের শেষে কয়েকটি হাড় একত্রে আংশিকভাবে জোড়া লাগানো। এটাই মানুষের লেজ হাড় বলে অভিহিত করা হয়। যার অস্তিত্ব বহু পূর্বে বিলীন হয়ে গেছে। বিরল ক্ষেত্রে, লেজের মতো অঙ্গ নিয়ে দুই একজন শিশু জন্মগ্রহণ করে থাকে। তবে আদৌ তা লেজ নয়।
লেজের মতো দেখতে এই অঙ্গগুলো প্রায়শই টিউমার, সিস্ট, এমনকি পরজীবী আঁকারে থাকা যমজ মেরুদণ্ডের বর্ধিত অংশ হিসেবে থেকে যায়। কিছু সময় জন্মগত ত্রুটির কারণে মেরুদণ্ডের বর্ধিত অংশ হিসেবেও এমনটি শিশুর শরীরে থেকে যায়। তবে তা কোনোভাবেই লেজ নয়, এগুলো মূলত সম্পূর্ণ হাড়হীন, একটি নরম কোষের মেদের নলের মতো।
কোনো শিশুর এমন অঙ্গ থাকলে চিকিৎসকরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে শিশুর কোনো ক্ষতি ছাড়াই অস্ত্রপাচার করে সরিয়ে ফেলে। বাস্তবে লেজ ছাড়াই মানব জাতি শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ। ভারসাম্য রক্ষায় মানুষের লেজের কোনো প্রয়োজন নেই।





Post a Comment