‘স্বামী ফের বিয়ে করলে মহিলাদেরও তালাক দেওয়ার অধিকার রয়েছে’, জানালো হাইকোর্ট
ODD বাংলা ডেস্ক: বৈধ স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও স্বামী যদি একাধিকবার বিবাহ করতে পারেন,তবে একজন মুসলিম মহিলারও বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকার থাকা উচিত। যদিও বাস্তবে কখনওই তা হয় না। মুসলিম সমাজে মহিলাদের সঙ্গে পুরুষদের সমানভাবে বিবেচনা করা হয় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মুসলিম মহিলারা স্বাধীন জীবন যাপনের নূন্যতম সুযোগটুকু পান না। যদিও পবিত্র কোরান-শরিফে স্ত্রীর সমানাধিকারের কথা বলা হয়েছে। বিবাহ বিচ্ছেদের একটি মামলায় রায় দিতে গিয়ে এমনটাই বলেছে কেরল হাই কোর্ট। বিচারপতি এ মুহামেদ মুস্তাক এবং বিচারপতি সোফি টমাসের ডিভিশন বেঞ্চ এরকমটাই জানিয়েছে।
সম্প্রতি কেরলের থালাসসারির এক মহিলা কেরল হাই কোর্টে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য মামলা করেন। ডিভিশন বেঞ্চকে তিনিজানান, তাঁর স্বামী পুনর্বিবাহ করেছেন এবং বর্তমানে আলাদা সংসারও পেতে ফেলেছেন। সে সঙ্গে তিনি জানান, তাঁর মহিলার পরিবার তাঁকে আদালতে বিচ্ছেদের মামলা করা থেকে বিরত থাকতে বলেছেল। তবে নিজের অধিকারের দাবিতে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।শনিবার এই মামলার দুই বিচারপতি বলেন, ‘মুসলিম ডিভোর্স অ্যাক্ট সেকশন ২(৮) (এফ) অনুযায়ী বলা হয়েছে, স্বামী যদি স্ত্রীকে অবহেলা করেন ও পুনর্বিবাহ করেন তবে স্ত্রীও বিচ্ছেদের অনুমতি পাবেন। অভিযোগকারী মহিলার ক্ষেত্রে গত দুই বছর ধরে তাঁকে দেখাশোনা করেননি স্বামী।
জানা গিয়েছে, ২০১৪ সাল থেকে অপর এক মহিলাকে নিয়ে আলাদা সংসার করছেন স্বামী। এরপর ২০১৯ সালে বিবাহ বিচ্ছেদের দাবি করে কেরল হাই কোর্টে মামলা করেন অভিযোগকারী মহিলা। যদিও স্বামীর দাবি, আলাদা থাকলেও প্রথম স্ত্রীকে সবরকম ভাবে সাহায্য করে আসছেন তিনি।তবে কেরল হাই কোর্ট জানিয়েছে, প্রথম পক্ষের স্ত্রীকে ছেড়ে দীর্ঘদিন ধরে আলাদা রয়েছেন স্বামী আর এর থেকেই প্রমাণ হয় যায় যে, তিনি তাঁকে যোগ্য সম্মান দেননি বা নিজের কর্তব্য পালন করেননি। তাছাড়া ২০১৪ সালের পর থেকে আজ পর্যন্ত প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে সংসার করার কোনও ইচ্ছেও প্রকাশ পায়নি তার মধ্যে। নিজের কর্তব্য পালন না করা মানে কোরানের বক্তব্যকেই খণ্ডন করা। শেষপর্যন্ত কেরল ডিভিশন বেঞ্চ অভিযোগকারীর সমর্থনেই রায় জানিয়ে বিবাহ বিচ্ছেদের আইনত অনুমতি দিয়েছে।





Post a Comment