স্টাইল থেকে আন্দোলন, সবখানেই জনপ্রিয় বাংলার শাড়ি
ODD বাংলা ডেস্ক: বাংলার সুতি বা ছাপা শাড়ি অনেক আগেই দেশের সীমানা পেরিয়ে জনপ্রিয়তা কেড়েছে বিশ্ব গণ্ডিতে। এখন তা পৌঁছে গিয়েছে বিশ্বের বড় সব ফ্যাশন ডিজাইনারদের ডেরায়। বর্তমানে বাংলার শাড়িকে প্রাধান্য দেয় বিশ্বের অনেক অঞ্চল। এমনকী বিতর্কিত মেক্সিকান শিল্পী ও অ্যাক্টিভিস্ট ফ্রিদা কাহলোকেও একটি ছবিতে ছাপা সুতির শাড়ি পরে দেখা গেছে।
হ্যাঁ,ঠিকই ধরেছেন। সেই ফ্রিদা কাহলো, যাকে বেশিরভাগ সময়ই টিপিক্যাল ব্লাউজ এবং স্কার্ট পরতে দেখা যেত। স্টাইল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পছন্দ করতেন ফ্রিদা। তার বাসস্থান মেক্সিকোর লা কাসা আজুল হলো পণ্যদ্রব্যের খনি। ফ্রিদার আইকনিক তেহুয়ানা-স্টাইলের মাটি-ছোঁয়া পোশাক থেকে শুরু করে গেরলাইন পারফিউমের শালিমার, রেভলন নেলপলিশ, ক্যাট-আই সানগ্লাস, ফুলের সুন্দর মুকুট, লাল লিপস্টিকসহ একাধিক পণ্যের উৎপত্তিস্থল এটি। এত কিছু থাকা স্বত্বেও প্রায় ছয় দশক আগে তাকে শাড়ি পরতে দেখা যায়।
সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি দেখা যাচ্ছে, যেখানে ফ্রিদা এবং তার দুপাশে দুই নারীকে দেখা গেছে। সম্ভবত, তারা ভারতীয় কূটনীতিক এবং রাজনীতিবিদ বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিতের মেয়ে। ছবিটি প্রকাশিত হয়েছিল একটি কফি টেবিল। ছবিটিতে ফ্রিদা পরনে দেখা যায় সাদা ব্লাউজসহ হ্যান্ডলুম ছাপা শাড়ি।
নেট দুনিয়ার বিভিন্ন খবর থেকে জানা যায়, ইউরোপীয় ও আমেরিকান সুন্দরীদের সবসময়ই বাংলার শাড়ির প্রতি বিশেষ আকর্ষণ ছিল।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার মতাদর্শের বিরুদ্ধে ‘প্রতিরোধের ১০০ দিন’ উদযাপন উপলক্ষ্যে অ্যাক্টিভিস্ট স্টেসি জ্যাকবসকে বাংলার তাঁতের শাড়ি পরতে দেখা গেছে। প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে শাড়িকে বেছে নেওয়ার কারণ প্রসঙ্গে স্টেসি লেখেন, ‘একজন শ্বেতাঙ্গ মহিলার জন্য এমন পোশাক পরা খুবই অস্বাভাবিক ব্যাপার। আমি আশা করেছিলাম যে, আমেরিকানরা মন্তব্য করবে কেন আমি এই পোশাক বেছে নিলাম! শুধুমাত্র দক্ষিণ এশিয় পরিবারের মানুষ নয়, এর মাধ্যমে সব বর্ণের মানুষদের সঙ্গেই একাত্মতা বোঝাতে চেয়েছিলাম আমি।’
শাড়ি পরা এবং বাংলায় স্টাইল কনসেপ্ট প্রচলনের নেপথ্যে ছিল জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির মেয়েরা। পার্সি পদ্ধতিতে শাড়ি পরার চটকদার শৈলী মুগ্ধ করেছিল বোম্বের এক নতুন বাসিন্দাকে। ভারতের প্রথম ভারতীয় সিভিল সার্ভিস অফিসার সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী জ্ঞানদানন্দিনীকে।
যদিও তখনও,বাংলার নারীরারা সম্ভ্রান্ত বা সাধারণ ভঙ্গিতেই শাড়ি পরতো । ব্লাউজ ছাড়া, পা পর্যন্ত ঢাকা, আঁচল বুকে জড়ানো, শুধু হাত দুটো দেখা যেত। তখনকার শাড়ি ছিল এখনকার শাড়ির থেকে কম দৈর্ঘের। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর সেসময় প্রার্থনা সভায় অংশগ্রহণ করা নারীদের জন্য পোশাক নির্ধারণ করেছিলেন সুসজ্জিত ব্লাউজ, পেটিকোট, শাড়ি এবং আলাদা ভেল (ওড়না)। অবিবাহিত মেয়েরা পরতেন পাজামার উপর বেখাপ্পা ফ্রক, সালোয়ার কামিজের একটি অভিনব সংস্করণ। জ্ঞানদানন্দিনীই প্রথম পার্সি স্টাইলে ব্লাউজের উপর সিঙ্গেল প্লিটেড শাড়ি পরার রীতি প্রবর্তন করেন। যে স্টাইল ভালোবেসে ফেলেছিলেন মেক্সিকান শিল্পী ফ্রিদা কাহলোও। তাই ধরা হয়েছে সর্বকালের অন্যতম আইকনিক সেই ছবিতে।





Post a Comment