ভারতের প্রথম নারী জকি, জিতেছেন ৭২০টিরও বেশি রেস

 


ODD বাংলা ডেস্ক:  পরিস্থিতি যতই প্রতিকূল হোক না কেন, টিকে থাকার জন্য চালিয়ে যেতে হয় সংগ্রাম। না হলেই ছিটকে যেতে হবে জীবনের রেসের মাঠ থেকে। আর অন্যদিকে মেয়েরা আজও যতই এগিয়ে যাক না কেন, তবু কোথাও যেনো তাদের এক আসনে বসানো হয় না সমাজে।

এখনও বেশকিছু কাজের ব্যাপারে মনে করা হয় যে মেয়েদের দ্বারা সে কাজ হবে না। মেয়েরা আজ যতই ট্রেন বা প্লেন চালাক কিন্তু রেসের মাঠের জকি হিসেবে মেয়েদের এখনও কল্পনা করতে খানিকটা কষ্টই হয়। মেয়েদের সাধারণত রেসের মাঠে দেখা গেলেও জকি হিসেবে এখনও কল্পনা করা মুশকিল। তবে পরিস্থিতি যতই প্রতিকূল হোক না কেন, চালিয়ে যেতে হবে সংগ্রাম।


না হয় ছিটকে যেতে হবে রেস থেকে। ছোটবেলা থেকে ঘোড়াদের মাঝে থেকে এই শিক্ষা ভালোই রপ্ত করেছিলেন রূপা। পুরো নাম রূপা কনোওয়ার সিং। কোথাও লেখা না থাকলেও রেসের মাঠে ঘোড়া ছোটানোর কাজটা পুরদস্তুর পুরুষতান্ত্রিক। কখনো শুনেছেন বা দেখেছেন যেকোনো নারী রেসের মাঠে ঘোড়দৌড়ে অংশ নিয়েছেন? 


চেন্নাইনিবাসী রূপা কনোওয়ার সিং এই কাজটিকেই বেছে নিয়েছিলেন নিজের পেশা এবং স্বপ্ন হিসেবে। এখন তিনি ভারতের প্রথম এবং একমাত্র নারী জকি। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও ইতিমধ্যে গড়েছেন বহু কীর্তি। রূপা কনোওয়ার সিং এর ঠাকুরদাদার নাম ডি উগাম সিং রাঠৌর এক সময় ব্রিটিশ সেনার ঘোড়-প্রশিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। রূপা কনোওয়ার সিং এর বাবা নরপৎ সিং রাঠৌর ঘোড়া চালনার ব্যাপারে এক প্রকার ওস্তাদ। 


ঘোড়ার প্রতি রূপার প্রেম তার বাবা এবং ঠাকুরদাকে দেখে হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এই প্রেমে কোনো বাঁধা দেয়া হয়নি রূপাকে। বরং বাড়তে দেয়া হয়েছিল স্বপ্নের বীজ। মেজাজি ঘোড়ার থেকেও রূপা ভয় পান তার বাবাকে। কারণ তিনিই ছিলেন প্রথম প্রশিক্ষক। কীভাবে ঘোড়ায় চড়তে হয়, বসতে হয়, রেসের মাঠে ঘোড়া ছোটাতে হয় এসব তিনিই শিখিয়েছিলেন। 


ছাত্রী ভুল করলেই রাগী স্যারের মতো শাসন করতেন পিতা নরপৎ সিং রাঠৌর। তখন হয়তো একটু ভয় পেতেন রূপা। তবে এখন এই দিনগুলোর কথা ভাবলেই হয়তো মুচকি হাসেন রূপা। দাদু ডি উগাম সিং রাঠৌরের কাছ থেকে জেনে নিয়েছিলেন ঘোড়াকে কীভাবে ভালোবাসতে হয়, ঘোড়ার গলা এবং ঘাড় জড়িয়ে যে স্ট্র্যাপ থাকে সেটাকে কীভাবে ধরতে হয়, ঘোড়ার পিঠে বসার ভঙ্গি কেমন হওয়া দরকার ইত্যাদি।


বিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও সামাজিক এবং পারিবারিক ক্ষেত্রে রয়ে গিয়েছে বহু বিধিনিষেধ। বিশেষত মেয়েদের ক্ষেত্রে। রূপা সে দিক থেকে অনেকটাই ভাগ্যবতী। পরিবারকে পাশে পেয়েছেন। ঘোড়ার পিঠে ছুটে বেড়ানো কন্যা যে বাড়ির লক্ষ্মী হতে পারেন, সেটা তিনি প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। রেসের মাঠের পুরুষরাও নাক সিঁটকেছিলেন রূপাকে দেখে। সবাই বলে মেয়ে হয়ে নাকি জকি হবে! 


কেরিয়ারের প্রথম দিকে ভালো মানের ঘোড়াও দেয়া হতো না তাকে। বড়জোর মাঝারি মানের কোনো ঘোড়া। তাতেও হার মানেননি রূপা। ছুটিয়েছেন ঘোড়া। হয়েছেন চ্যাম্পিয়ন। একবার নয়, প্রায় ৫০ বার। অবশেষে টনক নড়ে সকলের। রূপা যে মাঠে স্রেফ হাওয়া খেতে আসেননি তা সকলে বুঝলেন এবার। মাঝারি মানের পরিবর্তে এবার রূপাকে দেয়া হল ভালো মানের ঘোড়া।


আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছোলেন রূপা কনোওয়ার সিং। ইনিই ভারতের প্রথম এবং একমাত্র নারী জকি। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মিলিয়ে জিতেছেন ৭২০ টিরও বেশি রেস, ৭ টি চ্যাম্পিয়নশিপ। ভারতীয় নারীদের জকির পেশায় আসার পথ দেখাচ্ছেন চেন্নাইয়ের এই সুন্দরী কন্যা।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.