ট্রেনের পেছনে ক্রস চিহ্ন থাকে কেন?

 


ODD বাংলা ডেস্ক:  যারা ট্রেন ভ্রমণ করেছেন বা ট্রেন দেখেছেন, কমবেশি সবার চোখেই পড়েছে ট্রেনের পেছনে থাকা একটি ক্রস চিহ্ন। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, এই চিহ্নের মানে কি? আবার কেউ মনে করে এই চিহ্ন দ্বারা বিপজ্জনক কিছু বোঝানো হয়েছে। চিহ্নটি দ্বারা বিপজ্জনক কিছু না বুঝালেও বিপদের কথা ভেবেই এর ব্যবহার শুরু হয়েছে। ট্রেনের পেছনে এই চিহ্নটি ব্যবহার করা হয় যাত্রী সুরক্ষার কথা ভেবে। 


অনেক সময় দুর্ঘটনার ফলে ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। আর মূল ট্রেন থেকে আলাদা হয়ে যায়। কখনো কখনো আবার ট্রেনের বগিগুলো যে হুকের মাধ্যমে একটির সঙ্গে আরেকটি লাগানো থাকে সেগুলো ভেঙে যায়। যার ফলে ট্রেনের সেই বগি মাঝপথেই থেমে যায়, যা অনেক সময় ট্রেন চালক বা কর্তব্যরত অনেক কর্মীরা বুঝতেও পারে না। আর এই থেমে যাওয়া বগিগুলো একই রুটে চলাচলকারী অন্য ট্রেনের জন্য মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এসব কথা ভেবেই ট্রেনের শেষ বগিতে ক্রস চিহ্ন বসানো হয়। যাতে সহজেই বোঝা যায় ট্রেনের সবগুলো ঠিকঠাক আছে কিনা। 


কোনো কারণে যদি ট্রেনের শেষ বগির পেছনের ক্রস চিহ্নটি না থাকে, তবে স্টেশন মাস্টাররা বুঝে যান কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং তৎক্ষনাত রেল বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেন

কোনো কারণে যদি ট্রেনের শেষ বগির পেছনের ক্রস চিহ্নটি না থাকে, তবে স্টেশন মাস্টাররা বুঝে যান কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং তৎক্ষনাত রেল বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেন


প্রতি স্টেশনে মাস্টাররা প্রত্যেকটি ট্রেনকে চেক করেন। কোনো কারণে যদি ট্রেনের শেষ বগির পেছনের ক্রস চিহ্নটি না থাকে, তবে স্টেশন মাস্টাররা বুঝে যান কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং তৎক্ষনাত রেল বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। রেল বিভাগ থেকে তখন ইমারজেন্সি ঘোষণা করে দেয়া হয় এবং একই লাইনে আসা সব ট্রেনকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। দিনের বেলায় পরিষ্কারভাবে দেখা গেলেও রাতের বেলায় ক্রস চিহ্নটি দেখা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। এজন্য রাতে ট্রেনগুলোতে ক্রস চিহ্নের নিচে লাল রঙের আলো লাগিয়ে দেয়া হয়।


এছাড়া অনেকেই লক্ষ্য করেছেন, রেললাইনের প্রতি ১০ মিটার অন্তর অন্তর ফাঁকা রাখা হয়। এর কারণ তাপীয় প্রসারণ। আমরা সবাই জানি, তাপ প্রয়োগের ফলে তাপমাত্রা বাড়লে যেকোনো পদার্থের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পায়। লাইনের উপর দিয়ে যখন ট্রেন চলাচল করে, তখন লাইনের সঙ্গে চাকার ঘর্ষণ মাত্রাতিরিক্ত তাপের সৃষ্টি করে। এছাড়া অতিরিক্ত সূর্যের তাপের ফলেও প্রসারণ ঘটতে পারে। চাকার ঘর্ষণের ফলে উৎপন্ন তাপে রেললাইনের পারিপার্শ্বিক তাপমাত্রা যখন বেড়ে যায়, তখন এর দৈর্ঘ্য সামান্য হলেও বেড়ে যায়। আর ফাঁকা রাখার কারণে লাইনগুলো তখন প্রসারণের জন্য যথেষ্ট জায়গা পায়। এমন ফাঁকা না রাখলে ট্রেন চলাচলের সময় লাইন বেঁকে গিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। তাই লাইনের মাঝে মাঝে এমন ফাঁকা রাখা হয়। 


এছাড়া যারা ট্রেন ভ্রমণ করেছেন, তারা হয়তো লক্ষ্য করেছেন। ট্রেন স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকলেও এর ইঞ্জিন কখনো বন্ধ হয় না। এর কারণ ট্রেনের ইঞ্জিনগুলোতে এয়ার কম্প্রেসার ব্রেক থাকে, যা সঠিকভাবে কাজ করানোর জন্য বাতাস প্রয়োজন। যদি ট্রেনের ইঞ্জিন বন্ধ থাকে, তবে এই এয়ার কম্প্রেসার কাজ করে না। আবার চাইলেও সঙ্গে সঙ্গে ট্রেন চালু করা সম্ভব হয় না। কারণ একটি ট্রেনের ইঞ্জিন চালু করতে পাঁচ থেকে ছয় মিনিট সময় লেগে যায়। এজন্য ট্রেন লাইনে থাকলেও ইঞ্জিন বন্ধ করা হয় না।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.