ওজন কমাতে ডায়েট নাকি ব্যায়াম, কোনটি বেশি কার্যকর?

 


ODD বাংলা ডেস্ক: অনেকেরই বাড়তি ওজন নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। এটি যেমন বাহ্যিক সৌন্দর্য নষ্ট করে, তেমনি বয়ে আনে মারাত্মক সব রোগ। তাই এই বাড়তি ওজন কমাতে চেষ্টার কোনো কমতি রাখেন না সবাই। অনেকেই ওজন কমানোর জন্য ডায়েট করেন, আবার কেউ কেউ ব্যায়াম করেন। অনেকেই আবার ডায়েট এবং ব্যায়াম দুটোই করেন। কারণ ডায়েট এবং ব্যায়াম ছাড়া ওজন কমানো অসম্ভব।

তবে ডায়েট এবং ব্যায়াম, এই দুই পদ্ধতির মধ্যে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে কোনটি বেশি কার্যকর তা অনেকেরই প্রশ্ন। 


প্রবাদে আছে ‘অনিয়মিত ডায়েটের মাধ্যমে কখনোই ওজন হ্রাস করা সম্ভব না’। শরীরচর্চার তুলনায় আপনি যা খান তা আপনার ফিটনেসে অনেক বেশি প্রভাব ফেলে। এমনকি অনুশীলন না করেও স্বাস্থ্যকর এবং সময় মতো খাওয়ার দ্বারা আপনার শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরিয়ে ফেলতে পারবেন।


প্রথমত, ক্যালোরি ঘাটতি তৈরি করতে আপনার প্রতিদিনের ক্যালোরি গ্রহণ সীমাবদ্ধ করুন। ডায়েটে আরো প্রোটিন অন্তর্ভুক্ত করুন। কার্ব এবং ফ্যাট গ্রহণ সম্পর্কে সতর্ক হন। এই সাধারণ পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করলে সহজেই আপনি বাড়তি ওজন ঝরিয়ে ফেলতে পারবেন।


গবেষণা যা বলে


আপনার নেয়া সমস্ত ক্যালোরি খাবার এবং পানীয় থেকে আসে। ব্যায়াম করা সত্তেও ক্যালোরি গ্রহণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন তবে আপনি যে ক্যালোরিগুলো গ্রহণ করেছেন কেবল তারই একটি অংশ ঝরবে। বেসাল বিপাকের হার শরীরের দ্বারা উৎপাদিত মোট শক্তির ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ খরচ করে। আমাদের খাওয়া খাবার হজম করতে প্রায় ১০ শতাংশ ক্যালোরি ব্যবহার করা হয়। যার সহজ অর্থ হলো শারীরিক ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে শুধুমাত্র ১০ থেকে ৩০ শতাংশ ক্যালোরিই হারাতে পারে।


অনুশীলন ছেড়ে দেওয়া উচিত কিনা?


ওজন কমানোয় পুষ্টির ভূমিকা ৮০ শতাংশ এবং ফিটনেস ২০ শতাংশ । আপনি কেবল ডায়েট করেই ওজন কমাতে পারেন। তবে অনুশীলনের নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। প্রথমত এটি আপনাকে আরো ক্যালোরি পোড়াতে সহায়তা করবে এবং ওজন হ্রাস প্রক্রিয়াটি দ্রুততর করবে। দ্বিতীয়ত, এটি আপনার পেশীগুলোকে বলিষ্ঠ করতে এবং পেশী ভর তৈরি করতে সহায়তা করবে। এছাড়াও, প্রতিদিনের অনুশীলন হার্টের স্বাস্থ্যে ঠিক রাখে। খিটখিটে মেজাজ নিয়ন্ত্রণ এবং হাড়কে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। এমনকি ওজন হ্রাস করার ইচ্ছা না থাকলেও আপনাকে অবশ্যই ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের জন্য প্রতিদিন অনুশীলন করতে হবে।


শক্তি তৈরি এবং নমনীয়তা উন্নত করতে প্রতিটি ব্যক্তির জন্য অনুশীলন গুরুত্বপূর্ণ। যদিও ওজন হ্রাসের জন্য ডায়েট সর্বজনীন। তবে আপনার রুটিনে অবশ্যই শারীরিক ক্রিয়াকলাপ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তার জন্য নিজেকে জিমে ভর্তি করা গুরুত্বপূর্ণ নয়। সাধারণ দৌড়াদৌড়ি, যোগব্যায়াম বা হাঁটা সহায়ক হতে পারে। ডায়েট এবং ব্যায়াম ছাড়াও আপনার জীবনযাত্রার অভ্যাস এবং ঘুমের ধরণও ওজন হ্রাসকে প্রভাবিত করে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.