বিলুপ্তপ্রায় প্রকৃতির বন্ধু ‘শকুন’



ODD বাংলা ডেস্ক:  প্রকৃতি থেকে মরদেহ পরিষ্কার করে পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা একটি পাখি শকুন। পাখি হিসেবে শকুন মোটেই আদৃত না হলেও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখে বলে মানবসমাজে তাদের উপযোগিতা ভালোভাবেই স্বীকৃত। তবে এ পাখিটি আজ বিলুপ্তির পথে। 

শকুন (Vulture) সাধারণত অসুস্থ ও মৃতপ্রায় প্রাণীর চারদিকে শিকারি পাখির মতো তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিয়ে উড়তে থাকে। প্রাণীটি মরার জন্য অপেক্ষা করে। প্রাণীটি মারা গেলেই তাকে খাওয়ার জন্য শকুনরা হামলে পড়ে। খুব  প্রয়োজন না হলে জীবন্ত প্রাণী এরা শিকার করে না। ১৯৭০ এবং ১৯৮০-এর দশকে শকুনের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে, ভারত, পাকিস্তান বা এই ভূখণ্ডে শকুনকে একটা উপদ্রব বলে গণ্য করা হতো। তবে, আজ সেই পাখিটি দেখাই যেন কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।  


এদের গলা, ঘাড় ও মাথায় কোনো পালক থাকে না। তাদের পাকস্থলীর জারণ ক্ষমতা অসাধারণ। মৃত পশুর দেহ তো বটেই, তাদের হাড় পর্যন্ত হজম করে ফেলতে পারে শকুন। এরা ময়লার ভাগাড় থেকে খাবার খুঁজে খায়। প্রশস্ত ডানায় ভর করে আকাশে ওড়ে। বিশালাকার গাছে সাধারণত লোকচক্ষুর অন্তরালে শকুন বাসা বাঁধে। গুহায়, পর্বতের চূড়ায়  বা গাছের কোটরে এরা এক থেকে তিনটি সাদা বা ফ্যাকাসে ডিম পাড়ে।


সারা বিশ্বে প্রায় ১৮ প্রজাতির শকুন দেখা যায়। বাংলাদেশে প্রায় ছয় প্রজাতির শকুন রয়েছে। চার প্রজাতি স্থায়ী আর দুই প্রজাতি পরিযায়ী। এগুলো হলো—রাজ শকুন, গ্রিফন শকুন বা ইউরেশীয় শকুন, হিমালয়ী শকুন, সরুঠোঁট শকুন, কালা শকুন ও ধলা শকুন। সব প্রজাতির শকুনই সারা বিশ্বে বিপন্ন। স্থায়ী প্রজাতির মধ্যে রাজ শকুন অতি বিপন্ন।


শকুনই একমাত্র প্রাণী,যা রোগাক্রান্ত মৃত প্রাণী খেয়ে হজম করতে পারে। এর মাধ্যমে তারা অ্যানথ্রাক্স, যক্ষ্মা, খুরারোগের সংক্রমণ থেকে অবশিষ্ট জীবকুলকে রক্ষা করে। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ অব ভেটেরিনারি পশু চিকিৎসায় ডাইক্লোফেনাকের ব্যবহার শকুন বিলুপ্তির অন্যতম কারণ। ডাইক্লোফেনাক দেওয়া হয়েছে, এমন মৃত পশুর মাংস খেলে কিডনি নষ্ট হয়ে দুই-তিন দিনের মধ্যে শকুনের মৃত্যু ঘটে। ডাইক্লোফেনাকের যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে গত তিন দশকে উপমহাদেশে শতকরা ৭৫ ভাগ শকুন মারা গেছে। ১৯৮০-এর দশকে সার্কভুক্ত দেশে প্রায় চার কোটি শকুন ছিল যা বর্তমানে ৪০ হাজারের এসে দাঁড়িয়েছে।


শকুন আমাদের পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সহানুভূতি, আমাদের ভালোবাসা তাদের দরকার। যাতে তারা আকাশে উড়ে বেড়াতে পারে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.