হার না মানা একজন অর্ধমানব জিয়ন ক্লার্ক

 


ODD বাংলা ডেস্ক:  মানুষ কঠোর পরিশ্রম, অধ্যাবসায় আর মনোবল দিয়েই পৃথিবী জয় করেছে। এর অনেক প্রমাণ রয়েছে আমাদের সমাজে। এমনকি জন্মগতভাবে কিংবা দুর্ঘটনাজনিতভাবে অনেকেই শরীরের একটি অঙ্গ হারিয়ে জয় করেছেন পৃথিবী। স্বাভাবিক মানুষের চেয়েও তারা ভালোভাবে জীবনযাপন করেন। এমন অনেকের কথাই তো জেনেছেন। আজ এমন একজন অদম্য মনোবলের মানুষের কথা জানাবো যিনি মনের জোড়েই নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে বিশ্ব জয় করেছেন। নাম তার জিয়ন ক্লার্ক।

জীবনের এমন সারকথা বুঝে ফেলা মানুষটি কিন্তু বেশি বয়স নয়। ২১ বছর বয়সী আফ্রিকান-আমেরিকান রেসলার এর জীবনের মূল মন্ত্র 'নো এক্সকিউজেস' কোনো পরিস্থিতিতেই কোনো অজুহাত নয়। সর্বক্ষণ এই মন্ত্রই মনে প্রাণে জপ করতেন। তাই নিজের পিঠেও সেই ট্যাটু করিয়েছেন নো এক্সকিউজেস। আমাদের আত্মবিশ্বাসের অভাব আসে আমাদের অক্ষমতা থেকে। তবে সত্যি কি আমরা এতটাই অক্ষম? চেষ্টা করে দেখার আগেই তো ভয় পেয়ে পিছিয়ে যাই।


জিয়ন ক্লার্ক জিনগত ব্যাধির কারণে পা ছাড়াই জন্মগ্রহণ করেন। তবে তার পরিচয় ফ্রিস্টাইল কুস্তিগীর হিসেবে। এই অসম্ভব সম্ভব হয়েছে কেবল তার ইচ্ছাশক্তি,মনোবল, অদম্য জেদের কারণে। পা না থাকায় তার শারীরিক গঠন স্বাভাবিক ছিল না। তাই ব্যাঙ্গ বিদ্রূপ ছিল নিত্যসঙ্গী। তবে প্রতিটা বিদ্রুপকে তিনি তার লড়াইয়ের অস্ত্র বানিয়েছেন। ক্লার্ক কাউডাল রিগ্রেশন সিনড্রোমে ভোগেন, এটি এমন ব্যাধি যা নীচের দিকে মেরুদণ্ডের বিকাশ ব্যাহত করে। লাখে পাঁচ জন এই রোগে আক্রান্ত হন।


তিনি যখন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়েন তখন থেকে অ্যাথলেটিক্স এর প্রতি আগ্রহী হন। কুস্তির প্রতি তার গভীর আগ্রহ জন্মায়। উত্তর-পূর্ব ওহিওর ম্যাসিলন ওয়াশিংটন উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ার সময়, স্কুলের রেসলিং টিমে সদস্য পদ প্রাপ্ত করেন। তার শিক্ষক শিল্পকলা চর্চার পাশাপাশি একজন কুস্তি প্রশিক্ষকও ছিলেন। জিওন সেই শিক্ষকের পরামর্শে কুস্তি শুরু করেন৷ জিয়ন বলেছেন, পা না থাকায় লোকেরা তাকে নিয়ে উপহাস করত।


তিনি বলছেন, ' কিন্তু যারা তোমাকে উপহাস করে ঘৃণা করে তারাই তোমার সর্বোত্তম অনুরাগী' ঘৃণাটি নিজের শক্তিতে পরিণত করতে পারলেই জিত নিশ্চিত। তিনি যখন কুস্তি শুরু করেছিলেন তখন প্রতিপক্ষের সঙ্গে মোকাবেলা করার উপায় তার জানা ছিল না। তবে প্রচুর ভুল এবং ত্রুটির পর পেরেছিলেন। হার মানেন নি। হাল ছাড়েন নি। তাই কয়েক বছরের মধ্যে তার দক্ষতাও বৃদ্ধি পায়। এখন তিনি একজন পেশাদার ফ্রিস্টাইল কুস্তিগীর, আজ আর সমাজের চোখে নিজেকে প্রমাণ করার দায় তার নেই, তবুও সপ্তাহে ছয় দিন প্রশিক্ষণ দেন তার শরীর আগের মতোই শক্তিশালী আছে কি না, সেই পরীক্ষা প্রতিনিয়ত নিজের কাছে দিয়ে চলেছেন। 


জিয়নের একটি কথা অক্ষরে অক্ষরে সত্যি। সময় আমাদের বশে থাকে না সবসময়। তবে খারাপ সময়ে ঘুরে দাঁড়াতে না পারলেও পালাতে নেই, রাস্তা ছেড়ে না দিয়ে মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে হয়। জিয়ন বলছেন, 'আপনি যা পেয়েছেন তা নিয়ে আপনাকে কাজ করতে হবে।' যেটুকু আপনার আছে সেটুকু নিয়েই চেষ্টা করুন। সাহস করে শুরুটা করুন।


পথ নিজে থেকেই প্রসারিত হবে। সকলে উপেক্ষা করলেও তার মা ছিল তার শক্তি। জীবনে ভুল করা অপরাধ নয়। একাধিক ভুল ঠিক পথ বাতলে দেয়। আমি ভুল সিদ্ধান্ত থেকে শিখি এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার দিকে মনোনিবেশ করি। তবে অজুহাত দিয়ে নিজেই নিজের কাছে অক্ষম হয়ে ওঠা নয়। যাই করব অজুহাত দেব না। অজুহাত দেয়া বন্ধ করলেই জীবনে যা করতে চান, যা পেতে চান তাই পেতে পারেন। রাস্তা কঠিন হলেও আপনার লক্ষ্য যদি থাকে স্থির, ইচ্ছে থাকে প্রবল, তাহলে সফলতা আসবেই।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.