নরওয়ে জীবন যেখানে প্রকৃতির মতোই সুন্দর
ODD বাংলা ডেস্ক: নরওয়ে-দর্শনীয় প্রকৃতি, বন্যপ্রাণী আর অরোরার এক মনোমুগ্ধকর রাজ্য। পাশাপাশি এখানকার মানুষেরা এক অনন্য জীবন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। নরওয়ের প্রায় ৯৮ শতাংশ বিদ্যুৎ আসে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে। ১৯৯১ সালে প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে নরওয়ে কার্বন ট্যাক্স আইন প্রণয়ন করে।
যা ছিল বৈশ্বিক উষ্ণতা প্রশমনে এক অসাধারণ উদ্যোগ। নরওয়েতে জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ। যদিও দেশটি পৃথিবীর বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর একটি। নরওয়েজিয়ান সরকার তেল-গ্যাসের উপর উচ্চ করারোপ করেছে।
উদ্দেশ্য নাগরিকদের নিজস্ব গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন বেশি ব্যবহার অভ্যস্ত করে তোলা। নরওয়ের ট্রন্ডহেইম ইউরোপের প্রথম তারবিহীন শহর। মানব সভ্যতার বিকাশে নরওয়েজিয়ানদের ব্যাপক অবদান রয়েছে। আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন নরওয়ের বাসিন্দাদের হাতেই ৮৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
গ্রিনল্যান্ডে প্রথম বসতি স্থাপন করে এরাই। ১৯৯০ সালে নরওয়ে অ্যান্টার্কটিকায় গবেষণাগার স্থাপন করে। নরওয়েজিয়ান অভিযাত্রী রোয়াল্ড আমুন্ডসেন প্রথম মানুষ হিসেবে দক্ষিণ মেরু জয় করেন। আমুন্ডসেন এবং তার চার সঙ্গী ১৯১১ সালে দক্ষিণ মেরুতে পৌঁছাতে সক্ষম হন।
নরওয়ের মানুষ পৃথিবীর যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি বই পড়েন। মানব সম্পদ উন্নয়ন সূচকে নরওয়ের অবস্থান সবার উপরে। এক্ষেত্রে ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত দেশটি নয় বার প্রথম স্থান অর্জন করে। বাকি দুই বছর অর্জন করে দ্বিতীয় স্থান।
সন্তানের যত্ন নিতে নরওয়ের পুরুষরা ১৫ সপ্তাহের পিতৃত্বকালীন ছুটি পান। নরওয়ের অধিকাংশ কারাবন্দীদের রাখা হয় বাস্তয় দ্বীপে। এখানে তারা জঙ্গল এবং সমুদ্র সৈকতে ঘুরে বেড়াতে পারেন। নরওয়েতে রয়েছে পৃথিবীর দীর্ঘতম সুড়ঙ্গপথ। যার দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে ২৪ কি.মি.।
সুড়ঙ্গটিতে নীল এবং হলুদ আলো ব্যবহার করে ভোরের আলো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যা গাড়ি চালকদের শান্ত রাখার জন্য সহায়ক। নরওয়ের মতো উন্নত দেশ পৃথিবীতে অনেক রয়েছে। তবে এই অসাধারণ রাষ্ট্র ব্যবস্থা পৃথিবীতে বিরল। অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি জীবন ব্যবস্থার উন্নয়ন অতীব জরুরি।





Post a Comment