বৃদ্ধাঙ্গুলেই ঠাঁই মিলবে নতুন প্রজাতির ক্ষুদ্র ব্যাঙের
ODD বাংলা ডেস্ক: এটি ছোট্ট ব্যাঙ। চাইলেই বৃদ্ধাঙ্গুলে এর জায়গা করে দিতে পারেন! এতোটাই ক্ষুদ্র এক ব্যাঙের প্রজাটির সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
সম্প্রতি একদল গবেষক এই নতুন প্রজাতির ব্যাঙের উপস্থিতি নির্ধারণ করেছেন। ব্যাঙটি এতটাই ছোট যে এটি আপনার আঙ্গুলের উপর স্বাচ্ছন্দ্যে বসতে পারে। এর নাম রাখা হয়েছে রাওরচেটিস রেজাখানি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই তরুণ গবেষক হাসান আল রাজি ছায়ান এবং মারজান মারিয়া এ ব্যাঙটিকে আবিষ্কার করেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক সাবির বিন মুজাফফারের নির্দেশনা ও নেতৃত্বে তারা এ গবেষণাটি পরিচালনা করেন।
এই গবেষণা দলটি গত বছর ভারতের বিভিন্ন বনে গিয়ে ব্যাঙের এই নতুন প্রজাতির সন্ধান পান। যদিও এটি বিজ্ঞানের পক্ষে নতুন ছিল না। তবে দেশের ৫০ তম রেকর্ড প্রজাতির প্রাণী এটি। চীনে এই প্রজাতির ব্যাঙের দেখা মিললেও ভারতে এই প্রথম এর উপস্থিতি চোখে পড়ল।
তবে এদেশে ঠিক কতটি রাওরচেটিস লংচুয়ানেনসিস রয়েছে তা বের করতে পানেনি গবেষকরা। কারণ এদের আকার অতি ক্ষুদ্র। এছাড়াও এদের গায়ের রং এবং ছদ্মবেশ ধারণের ক্ষমতা যে কারো নজর এড়িয়ে যেতে পারে। এজন্য এর সঠিক পরিসংখ্যান মেলেনি।
গত বছরের এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যে গবেষকরা আদমপুর রিজার্ভ ফরেস্ট এবং লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান থেকে ছোট ব্যাঙের নমুনা সংগ্রহ করে। জেনেটিক পরীক্ষা চালানোর পর এবং কয়েকশ বৈজ্ঞানিক কাগজপত্র পর্যবেক্ষণ করে গবেষকরা বুঝতে পারেন এই ছোট্ট ব্যাঙটি একেবারেই নতুন। ব্যাঙ প্রজাতির মধ্যে অন্যতম ক্ষুদ্র আকারের এটি।
এভাবেই শুরু হয়েছিল তাদের গবেষণা যাত্রা। সম্ভাব্য নতুন তথ্যের সন্ধানে গবেষকরা গত বছর দেশের পাঁচটি বনাঞ্চলে জরিপ চালায়। লাউয়াছড়া, সাতছড়ি, রেমা-কালেঙ্গা, আদমপুর এবং লাঠিটিলা বনাঞ্চলে রাওরচেটিস প্রজাতির ব্যাঙের সন্ধান করা হয়।
দলটি এই ব্যাঙ আবিষ্কারের উপর একটি বিশদ বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র লেখার কাজ শেষ করে। অতঃপর গত সপ্তাহে এই ব্যাঙের প্রজাতি সম্পর্কে জনসমক্ষে খবর প্রকাশিত হয়। ব্যাঙ সম্পর্কিত এই গবেষণাপত্রটি শিগগিরই বিখ্যাত আমেরিকান জার্নাল জুকিস-এ প্রকাশিত হবে।
গবেষকরা এখন এই ব্যাঙ প্রজাতির প্রাকৃতিক ইতিহাস এবং পরিবেশগত গুরুত্ব নির্ধারণের জন্য আরো বিস্তর গবেষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা এমন এক সময়ে এসে গবেষণাটি করেছেন, যখন এসব বন্যজীবন বেশ বিপর্যয়ের মুখে। তবে আশা করা যাচ্ছে নতুন প্রজাতির এই আবিষ্কার বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পাবে।
অন্যদিকে এর তথ্য গবেষণার জন্য স্মারক হয়ে থাকবে। আর এসব বিপর্যস্ত এবং বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এদের আবাসস্থল সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। আমাদের সবাইকে বন রক্ষা করা এবং বন্যজীবন রক্ষায় এগিয়ে আসা উচিত।





Post a Comment