ডলফিনকে মানুষের বন্ধু বলা হয় যে কারণে
ODD বাংলা ডেস্ক: মানুষের পর ডলফিনই পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী! এ নিয়ে অবশ্য বিতর্কও আছে। সে তর্কে আমরা না-ই গেলাম। জলে দাপাদাপি করে বেড়ানো প্রাণীটি বেশ মজার! ডলফিন কিন্তু মাছ না, এরা স্তন্যপায়ী প্রাণী। তারা মাছের মতো জলে বসবাস করে, সাঁতার কাটে কিন্তু মাছের মত ডিম পাড়ে না। মা ডলফিন ছোট্ট বাচ্চা ডলফিনের জন্ম দেয়। সেই ছোট্ট ডলফিন মায়ের দুধ খেয়ে বড় হতে থাকে। আর এজন্যই এদের স্তন্যপায়ী বলা হয়ে থাকে। অনেকে ধারণা করেন, একসময় ডলফিন ডাঙায় বাস করত। পরবর্তী সময়ে ডাঙায় প্রতিকূল পরিবেশ আর জলে খাদ্যের প্রাচুর্য দেখে এরা জলের সঙ্গেই খাপ খাইয়ে নিয়েছে। যদিও এর পেছনে খুব একটা যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই।
মানুষের সঙ্গে যদি কোনো প্রাণীর সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্য থাকে, তাহলে সেই প্রাণী হলো ডলফিন। গবেষকরা নিশ্চিত করেছেন, সামাজিক সেতুবন্ধনের অংশ হিসেবে সামুদ্রিক এ স্তন্যপায়ী প্রাণী তাদের মধ্যে কে শত্রু আর কে মিত্র-তা শনাক্ত করতে নিজেরা স্বতন্ত্র নাম ব্যবহার করে থাকে। তবে যাই হোক ডলফিনকে সমুদ্রে মানুষের বন্ধু বলা হয়। এর নানা কারণ রয়েছে। আজ জেনে নেই সেসব কারণ।
১ ডলফিনের বুদ্ধিমত্তা মানুষের পরে। এজন্য ডলফিনকে মানুষের বন্ধু বলা হয়।
২ সমুদ্রের যেসব প্রাণী মানুষের বসে এসেছে বা মানুষের সঙ্গে যাদের বন্ধুত্ব হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত প্রাণীটির নাম ডলফিন বা শুশুক।
৩ ডলফিন মানুষের আশপাশে থাকে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, মানুষের মতো ডলফিনও একে অপরকে নাম ধরে ডাকে। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, 'বটলমুখো' ডলফিনরা তার সন্তানকে, এক বন্ধু অন্য বন্ধুকে নাম ধরে ডাকে।
৪ পেশাদার জেলেদের মাছ ধরতে সাহায্য করার মধ্য দিয়ে ইরাবতী ডলফিন মানুষের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক তৈরি করেছে। ডলফিন নানারকম খেলায় পটু এবং দারুণ বন্ধু স্বভাবের।
৫ জলতলের সংবাদ পৌঁছানো, আহত ডুবুরিদের উদ্ধার ও তাদের হাঙ্গরের শিকার থেকে রক্ষা এবং ডুবোজাহাজ খোঁজার জন্যও ডলফিন ব্যবহৃত হচ্ছে।
৬ ডলফিনরা খুব কেয়ারিং। যখন কারো সাহায্যের প্রয়োজন হয় সে সাহায্যে আবেদন করে ডাক দেয়। তার এই ডাক যারাই শুনতে পায় তারাই ছুটে আসে সাহায্য করার জন্য।
৭ যখন কোন ডলফিন আহত হয় বা অসুস্থ হয় তখন সঙ্গীরা তাকে ভেসে থাকতে সহায়তা করে যাতে সে ডুবে না যায়। এই সহযোগিতা অনেক ডলফিন মানুষকেও করেছে। এই ধরণের উদাহরণ আছে অনেক, জাহাজডুবির পর ডলফিনরা দলবেঁধে মানুষদের উদ্ধার করে পাড়ে তুলে দিয়েছে।
৮ প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে বানরের মত এরাও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে পারে। এমনকি সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে বয়স্ক ডলফিন থেকে বাচ্চা ডলফিন জ্ঞান আহরণ করতে পারে, ঠিক যেমনটা মানুষের ক্ষেত্রে দেখা যায়।
৯ সাম্প্রতিককালে ডলফিনদেরকে ব্যবহার করা হচ্ছে মনোচিকিৎসা দেওয়ার কাজে। অত্যন্ত মিশুক এবং চঞ্চল এই প্রাণীটি মানসিক প্রতিবন্ধকতা, “ডাউন সিনড্রোম” এবং অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সেরে উঠতে সাহায্য করে।
কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হলো, একদিকে যেমন ভারতের মত পৃথিবীর অন্যান্য দেশে এদের অভয়াশ্রম গড়ে উঠছে তেমনি এই প্রাণীটির সংখ্যা দিনে দিনে কমেও যাচ্ছে। জলদূষণ, খাদ্যাভাব এমনকি প্রতি বছর বড় বড় জাহাজের ধাক্কায়ও প্রচুর ডলফিন মারা যাচ্ছে। এ ছাড়াও ডলফিনদের প্রাকৃতিক বসবাসের এলাকাগুলোতে মানুষের অনধিকার প্রবেশের কারণে ডলফিনদের অস্তিত্ব হয়ে পড়ছে বিপন্ন। মানুষের হস্তক্ষেপের ফলে কমে আসছে এদের বাসস্থান এবং খাদ্য সংগ্রহের এলাকা। জল দূষণের ফলে এরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এ ছাড়া অসাধু লোকদের অবৈধ শিকারের জন্য ডলফিন দিনে দিনে সংখ্যায় কমছে। যা খুবই উদ্বেগজনক!





Post a Comment