উপকূলীলে জনপ্রিয় হচ্ছে খাঁচায় মাছ চাষ

 


ODD বাংলা ডেস্ক: দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় দিনকে দিন জনপ্রিয় হচ্ছে খাঁচায় মাছ চাষ পদ্ধতি। ইদানিং বেকার যুবক, জেলে ও মাছ চাষিদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে পদ্ধতিটি। কম পুঁজিতে বেশি লাভজনক হওয়ায় ভাসমান এ পদ্ধতিতে মাছ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন চাষিরা। এতে করে বেকারত্ব দূরীকরণের পাশাপাশি মৎস্য উৎপাদনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে অনেকের। এতে দেশে এসেছে সম্ভাবনার নতুন পথ।

খাঁচায় মাছ চাষে রয়েছে কিছু সুবিধাও। দেশের নদী প্রধান জেলাগুলোতে, কিংবা নিজ বাড়ির পাশেই যাদের নদী-খাল রয়েছে তারা চাইলেই এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে পারেন। ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষ করলে পুকুরের ন্যায় জলাশয়ের প্রয়োজন হয় না। প্রবাহমান নদীর জলকে যথাযথ ব্যবহার করে মাছ উৎপাদন বাড়ানো যায়। মাছের বর্জ্য প্রবাহমান জলের সঙ্গে অপসারিত হয় বিধায় জলকে দূষিত করতে পারে না। মাছের উচ্ছিষ্ট খাদ্য খেয়ে নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজাতির প্রাচুর্য্য বৃদ্ধি পায়। প্রবাহমান থাকায় প্রতিনিয়ত খাঁচার অভ্যন্তরের জল পরিবর্তন হতে থাকে ফলে পুকুরের চেয়ে অধিক ঘনত্বে মাছ চাষ করা যায়। পুকুরে চাষকৃত মাছের চেয়ে খাঁচায় চাষকৃত মাছ বেশি সুস্বাদু।


মাছ চাষিদের দেওয়া তথ্য মতে, গভীরতা ছয় ফুট, প্রস্থ ১০ ফুট ও দৈর্ঘ্য ২০ ফুট এমন খাঁচার মাছ চাষ করেন অধিকাংশরাই। একটি হিসেব বলছে এমন প্রতিটি খাঁচা তৈরিতে খরচ হয় ১৫ হাজার টাকা। মাছের পোনা ও খাবার কিনতে আরো ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। পরে খাঁচায় পোনা ভরে তা ভাসিয়ে রাখা হয় নদীতে। ছয় মাস পর এই মাছ বড় হয়। পরে তা কমপক্ষে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি হয় স্থানীয় বাজারে। এভাবে অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে লাভ থাকে অন্তত ৩০ হাজার টাকা। ফলে সম্প্রতি বিভিন্ন নদ-নদীতে এই পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে স্বাবলম্বী হচ্ছেন স্থানীয় বেকার যুবকেরা।


কয়েক বছর ধরেই উপকূলের বিভিন্ন নদ-নদীতে ভাসমান পদ্ধতিতে খাঁচায় মাছ চাষ শুরু হয়েছে। বর্তমানে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহটি, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালীসহ নানা অঞ্চলে এই পদ্ধতিতে মাছ চাষ হচ্ছে।


এসব খাঁচায় মূলত তেলাপিয়া, কইসহ বিভিন্ন জাতের মাছ চাষ করা যায়। স্রোত থাকায় মাছের রোগ হয় না। প্রাকৃতিকভাবেই মাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে।


সরকারের কৃষি তথ্য সার্ভিস বলছে, এই ধারণাটি এসেছে মূলত থাইল্যান্ড থেকে বিভিন্ন ধরনের জলাশয়ে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ উপযোগী আকারের খাঁচা স্থাপন করে অধিক ঘনত্বে বাণিজ্যিকভাবে মাছ উৎপাদনের প্রযুক্তিই হলো খাঁচায় মাছ চাষ। ভারতের বিজ্ঞানীরা দু দশকেরও আগে থাইল্যান্ড ও চীন থেকে খাঁচায় মাছ চাষের ধারণাটি পান এবং তারা সেটি নিয়ে ভারতে কাজ করতে শুরু করেন। ভারত কৃষি তথ্য সার্ভিস সূত্র বলছে, ২০০২ সালের দিকে চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদীতে খাঁচায় মাছ চাষ শুরু করতে দেখা যায় যা পরে লক্ষ্মীপুর, ভোলা ও আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.