হারিয়ে যাচ্ছে কেশবতী এই বানরের প্রজাতি

 


ODD বাংলা ডেস্ক:  পৃথিবীতে বর্তমানে ১৯ প্রজাতির বানর রয়েছে। এদের মধ্যে এক প্রজাতি বানর হলো তুলামাথা টামারিন বানর। কলোম্বিয়ায় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জঙ্গল পৃথিবীর অন্যতম বিরল বানরের বসবাস। এরা আকারে খুবই ছোট এবং গড় ওজন মাত্র ৪৫২ গ্রাম। হাতের আর পায়ের পাতা ছাড়া সারা শরীর সাদা আর বাদামি তুলার মতো পশমে আবৃত থাকে।    


অনিন্দ্য সুন্দর এই বানরেরা বর্তমানে মহাবিপন্ন প্রাণীদের তালিকায় রয়েছে। পৃথিবীতে এদের মাত্র কয়েকশ পরিবার টিকে আছে। এরা সাধারণত ফলমূল খেয়ে জীবনধারণ করে। মাঝে মাঝে গাছের রস পান করে। গাছের রসে রয়েছে প্রচুর শর্করা, যা পোকামাকড়দের আকৃষ্ট করে। তবে পোকামাকড়ও টামারিনদের প্রিয় খাবার। 


একসময় এদের ৫০ হাজার প্রজাতির পোকামাকড় থেকে বাছাই করার সুযোগ ছিল। তবে বনভূমির সংখ্যা কমায় অনেক প্রজাতির পোকামাকড় উধাও হয়ে গেছে। দক্ষিণ আমেরিকা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। কলোম্বিয়ায় নিম্নভূমির প্রায় ৯৫ ভাগ জঙ্গল এরই মধ্যে উধাও হয়ে গেছে। তুলামাথা টামারিনরা হারিয়েছে ৯৮ ভাগ বাসভূমি। জঙ্গলের বেশিরভাগই রূপান্তরিত হয়েছে কৃষিজমিতে। টামারিনদের বেশিরভাগ বাসস্থান হয়ে পড়েছে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। এদের  দ্বীপের বাহিরে তৈরি হয়েছে এক এলিয়েন জগত।


বর্তমানে দক্ষিণ আমেরিকায় দুই হাজারেরও বেশি প্রজাতির প্রাণী চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। পুরো মহাদেশ জুড়ে বিপুল হারে জঙ্গল কৃষিজমি ও গরুর খামার পরিণত হচ্ছে। স্যাটেলাইটের ছবি দেখলে ধ্বংসমাত্রার পরিমাণ বোঝা যায়। শুধুমাত্র দক্ষিণ আমেরিকাতেই প্রতি সেকেন্ডে একটি ফুটবল মাঠের সমান বনভূমি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। বনভূমি ধ্বংস হওয়া শুধুমাত্র এখানকার প্রাণীদের জন্যই ক্ষতিকর নয়, চরম মুল্য দিতে হবে মানুষকেও। বন্যপ্রাণীরা আজ যে ভয়াবহতার সম্মুখীন, অদূর ভবিষ্যতে তা মোকাবিলা করতে হবে আমাদেরও।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.