জলে ও স্থলে সমান বিচরণ এই মাছের, হেঁটে গিয়ে ডিম ফুটায় গর্তে!
ODD বাংলা ডেস্ক: প্রাণীকূল বৈচিত্র্যতায় ভরপুর। ্এদের বৈচিত্র্যতা প্রকৃতির সর্বত্রই লক্ষণীয়। মাছ জলে বাস করে এটাই স্বাভাবিক। তবে এর যে ব্যতিক্রম নেই তা নয়। বিরল প্রজাতির কয়েকটি মাছ আছে যা জলে স্থলে উভয় জায়গায় বসবাস করতে পারে। এমনই একটি মাছের নাম মাডস্কিপার।
এই মাছটি ক্রান্তীয়, উপ-ক্রান্তীয় এবং উষ্ণ অঞ্চলে দেখা যায়। ইন্দো-প্যাসিফিক এবং আফ্রিকার আটলান্টিক উপকূলীয় অঞ্চলেও মাডস্কিপার মাছের দেখা মেলে। মাডস্কিপার মাছের বিশেষ শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কারণে জল ছাড়া স্থলেও কোনো সমস্যা ছাড়াই বসবাস করতে পারে। মাছটির জলে চলার মত পাখনা এবং স্থলে চলার মত বিশেষ পাখনা দুটোই আছে।
এছাড়া মাডস্কিপার মাছ শরীরের ত্বকের মাধ্যমে শ্বাস গ্রহণ করতে পারে। সম্ভবত মাডস্কিপারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো জলে ও মাটিতে উভয় জায়গায় বেঁচে থাকার সক্ষমতা। জল থেকে বেরিয়ে শুষ্ক পরিবেশে যাওয়ার পরে তারা তাদের বৃহৎ গিল চেম্বারের ভিতরে আটকে থাকা জল ব্যবহার করে শ্বাস নেয়। তারা নিজেদের মুখ এবং গলার আস্তরণ থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে থাকে। এ কারণেই মাডস্কিপার দীর্ঘ সময় জল ছাড়া বাঁচতে পারে।
প্রকৃতপক্ষে, মাছটি তাদের জীবনের তিন-চতুর্থাংশ সময় স্থলে বাস করে। বেশ কয়েক প্রজাতির মাডস্কিপার আছে। এরা লম্বায় ১২ ইঞ্চি পর্যন্ত হতে পারে। এদের শরীরের রং বাদামি সবুজ বর্ণের হয়ে থাকে। প্রজনন মৌসুমে পুরুষ মাডস্কিপার মাছের শরীরে উজ্জ্বল রঙের বিভিন্ন আকারের গোলাকার দাগের সৃষ্টি হয়। এই রঙিন দাগের কারণেই পুরুষ মাছটি নারী মাডস্কিপারকে আকর্ষণ করে। দাগগুলো সাধারণত লাল, সবুজ কিংবা নীল রঙের হয়ে থাকে।
মাডস্কিপার মাছের চোখগুলো তাদের সমতল আকৃতির মাথার উপরের দিকে অবস্থিত এবং শরীর থেকে অনেকটা বাইরে। যা মাছটির শরীরের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। মাডস্কিপারের শরীরের সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট হলো বক্ষের পাখনাগুলো অনেকটা সামনের দিকে এবং তাদের শরীরের বর্ধিত অংশের নিচে অবস্থিত। এই পাখনাগুলোই মূলত মাডস্কিপার পা হিসেবে ব্যবহার করে যা তাদের স্থলে হাঁটতে সহায়তা করে। মাডস্কিপার মাছের হাঁটতে পারার বৈশিষ্ট্যই অন্যান্য মাছ থেকে তাদের পৃথক করেছে।
শরীরের নিচের পাখনা দিয়ে এরা কাঁদামাটি পার হয়ে যেতে পারে এমনকি নিচু গাছেও উঠতে পারে। বিশেষ পাখনার সাহায্যে তারা দুই ফুট পর্যন্ত লাফ দিতে পারে। যে কোনো পরিবেশের সঙ্গে মাডস্কিপার মাছ খুবই দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারে। জোয়ার ভাটার সময় এদের বিশেষ কোনো সমস্যা হয় না। জোয়ারের সময় জলে থাকে এবং ভাটার সময় খুব সহজেই কাঁদামাটি কিংবা শুষ্ক স্থলে থাকতে পারে। জোয়ার ভাটার পরিবর্তন থেকে নিজেদের স্বাভাবিক রাখতে তারা কাদামাটিতে গর্ত খুঁড়ে এবং তার মধ্যে অবস্থান করে।
পুরুষ মাছগুলো বেশ পরিশ্রমী স্বভাবের হয়। সাধারণত পুরুষ মাডস্কিপার গর্ত খুঁড়ে থাকে। প্রজনন প্রক্রিয়া, ডিম ফুটানো সবই এই গর্তের মধ্যে করে থাকে তারা। প্রজনন মৌসুমে পুরুষ মাডস্কিপার গর্ত প্রস্তুত করার পর মাটির উপর উঠে আসে। এরপর নারী মাডস্কিপারকে আকর্ষণ করার জন্য বিশেষ ধরণের অঙ্গভাঙ্গ বা নাচ করতে থাকে। নারী মাডস্কিপার আকর্ষিত হলে পুরুষ মাছটিকে অনুসরণ করে গর্তে ঢুকে যায়।
সেখানেই প্রজনন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নারী মাছটি শত শত ডিম দেয়। ডিম দেয়ার পর নারী মাছটি চলে যায়। পুরুষ মাছটিই বাচ্চা ফুটানো পর্যন্ত ডিমগুলো দেখে রাখে। ডিম থেকে মাছের বাচ্চা ফুটে গর্তেই। মাডস্কিপার মাছের স্বাদ খুব একটা বেশি নয়। তবে মানুষ এটা খাবার হিসেবে খায়। জেলেরা প্রতিনিয়ত মাডস্কিপার শিকার করে। চীনা ওষুধ শিল্পে মাডস্কিপার মাছ ব্যবহার করা হয়।





Post a Comment