গাড়ির চেয়ে ব্যাটারির দাম বেশি!

 


ODD বাংলা ডেস্ক: খাজনার থেকে বাজনা বেশি— মার্সিডিজ কিনে এক ব্যক্তির দশা এখন অনেকটা এই রকমই! ব্যাটারি পালটাবেন, নাকি গাড়ি বিক্রি করে দেবেন তা নিয়ে উভয় সঙ্কটে পড়েছেন গাড়ির মালিক।

ব্রিটেনের লেস্টারের বাসিন্দা রঞ্জিৎ সিংহ। মার্সিডিজের গুণমুগ্ধ ভক্তও বটে। তাই আট বছর আগে ২৭ হাজার পাউন্ড দিয়ে মার্সিডিজের হাইব্রিড গাড়ি কিনেছিলেন। সে সময় তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল গাড়ির ব্যাটারির মেয়াদ আট বছর। তারপর তা বদলাতে হবে।


কিন্তু সেই ব্যাটারিই যে রঞ্জিতের বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে আট বছর পর সেটা তিনি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। ব্যাটারি বদলাতে গিয়ে তার দাম শুনে প্রায় ভিরমি খাওয়ার অবস্থা রঞ্জিতের। তাকে বলা হয় ব্যাটারির দাম ১৫ হাজার পাউন্ড।


এর পরই রঞ্জিৎ তার গাড়ির বর্তমান বাজারদরের খোঁজ নেন। দেখা যায়, সেই গাড়ির দাম সাড়ে ১২  হাজার পাউন্ড। মাথায় যে বজ্রাঘাত হয় রঞ্জিতের। এ তো গাড়ির থেকে ব্যাটারির দাম বেশি!


ব্যাটারির দাম ১৫ হাজার পাউন্ড। তার উপর গাড়ির মেকানিক প্রতি ঘণ্টায় চার্জ নেবেন ২০০ পাউন্ড। এরপরই রঞ্জিৎ হাইব্রিড গাড়ির একজন বিশেষজ্ঞের কাছে ছুটে যান পরামর্শ নেওয়ার জন্য। কিন্তু সেখানে গিয়েও তাকে হতাশ হতে হয়।


ওই বিশেষজ্ঞ জানান, এই গাড়ির সস্তায় সারনোর কোনো উপায় নেই। হয় ব্যাটারি পাল্টাতে হবে, না হয় গাড়িটি বেচে দিতে হবে। আবার শখ করে কেনা মার্সিডিজকেও হাতছাড়া করতে চাইছেন না রঞ্জিৎ। ফলে গাড়ির ব্যাটারি পাল্টাবেন, নাকি বিক্রি করে দেবেন তা নিয়ে উভয় সঙ্কটে পড়েছেন তিনি।


রঞ্জিতের মেয়ে রামনিক কউর একটি গাড়ি সংস্থায় কাজ করেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাবা খুবই হতাশ। গাড়িটি নিয়ে কী করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। তিনি অবসরপ্রাপ্ত। ফলে এই বিপুল টাকাও তার কাছে নেই।’ ফলে শখ করে কেনা গাড়ি এখন বাংলার সেই প্রবাদটার মতোই ঠেকছে রঞ্জিতের কাছে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.