প্রাচীন নারীদের মেধায় সৃষ্টি হয় যেসব প্রযুক্তি

 


ODD বাংলা ডেস্ক: পরিবার ও সমাজ তো বটেই, শিক্ষাব্যবস্থাও অনেক শিশুকে নানা ধরনের পশ্চাৎপদ চিন্তার আদলে গড়ে তোলে। ফলে নারীকে যোগ্য ভাবার মানসিকতা ছোটবেলা থেকেই গড়ে ওঠে না। এটা তো হরহামেশাই বলা হয়, ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের মস্তিষ্ক ছোট। তাই তারা যুক্তি-বুদ্ধিতে পিছিয়ে। অথচ গবেষণা কিন্তু বলছে ভিন্ন কথা।

নারী-পুরুষের মস্তিষ্কের গঠনে উপাদানগত কোনো পার্থক্য নেই। তবে অধিকাংশ নারী যেহেতু আকারে পুরুষের তুলনায় ছোট, ফলে তাদের মস্তিষ্কের আয়তনও ছোট। গবেষণায় আরও উঠে আসে, মানব শিশু যখন ছোট থেকে ধীরে ধীরে বড় হয়, তখন সামাজিকীকরণের মাধ্যমে নারী-পুরুষ সম্পর্কিত ইতিবাচক বা নেতিবাচক ধারণাগুলো গড়ে ওঠে।


তবে প্রাচীন যুগ থেকে আজকের আধুনিক যুগ অবধি যত উন্নয়ন তার অনেক কিছুই সূত্রপাত ঘটেছে নারীর মেধা থেকেই। বঙ্গীয় বা বাংলা অঞ্চলের নারীদের মেধার প্রমাণও মিলবে নানা উপায়ে। ইন্টারনেট দুনিয়ায় একটু ঘাটাঘাটি করলেই আপনিও জানতে পারবেন সেসব নারীদের বুদ্ধিমত্তার কিছু পরিচয়।  


চলুন আজ জেনে নেই, প্রাচীন বাংলার নারীদের বেশ কিছু বুদ্ধিমত্তা ও আবিস্কারের কথা।


পিঠেপুলির ছাঁচ


সন্দেশ, পিঠাপুলি বা আমসত্ত্ব তৈরির কাজে ব্যবহৃত হত ছাঁচ। প্রথম দিকে এঁটেলমাটি দিয়ে তৈরি হত ছাঁচ। মাটি দিয়ে বানিয়ে রোদে শুকিয়ে পুড়িয়ে নেওয়া হত। পোড়ামাটির মতো লাল রঙের দেখতে হত ছাঁচ। পরবর্তীকালে, নরম পাথর ও কাঠ দিয়ে ছাঁচ তৈরি হলো।  দুপুরের অলস সময়ে বাড়ির মহিলারা এই ছাঁচ তৈরি করতেন। নারীদের হাত ধরেই এই ছাঁচ পরিচিত হয় মানব সমাজে।


জাঁতা


জাঁতা হল ডাল ভাঙ্গার এক প্রকার হস্তচালিত যন্ত্র। বর্তমানে এটি ইঞ্জিল চালিত যন্ত্রের সাথে লাগিয়ে ডাল, চাল, হলুদ-মরিচ বা অন্য যে কোন কিছু গুঁড়া করতে ব্যবহার করা হয়। তবে গ্রামাঞ্চলে জাঁতা বলতে এখনো হাতে এক খণ্ড কাঠি দিয়ে গোলাকৃতির চাকার মতো পাথরের যে যন্ত্রটি ঘুরিয়ে ডাল বের করা হয় তাকেই বোঝায়। হাতে চালিত ডাল জাতীয় শস্য ভাঙ্গার যন্ত্রটি আজ উপমহাদেশে বিলুপ্তির পথে। গ্রাম বাংলার বধূরা জাঁতা ব্যবহার করতেন সেই প্রাচীন আমল থেকে। জাঁতা দিয়ে ভাঙানো হতো মশুর, খেসারি, মাশ কালাইসহ প্রভৃতি রকমের ডাল। এই জাঁতার আবিষ্কারকও নারীরা।


নিড়ানী


নিড়ানী বা হ‍্যাচড়া নামের অঙ্গন চাষের যন্ত্রটি আপনি অবশ্যই চেনেন। পশুরা পায়ে করে মাটি আঁচড়ায়, মানুষও হাত দিয়ে মাটি আঁচড়ায়, গর্তও খোড়ে। এই আঁচড় বা হাঁচড় থেকেই এই যন্ত্রটির উদ্ভব। এই যন্ত্র দিয়ে মাটি খুঁড়ে সাধারণত শাক-সব্জি লাগানো হয়। ভাবতে পারেন, এই যন্ত্রের উদ্ভভের পিছনে লুকিয়ে ছিল এক বা একাধিক নারীর চিন্তা ও ব্যুৎপত্তি! পাঁচটি আঙুলের মতো দেখতে যন্ত্র। সোজা লোহার ছোটো ছোটো রডের প্রান্তভাগগুলি বেঁকিয়ে, মাথা ছুঁচালো করে দেওয়া হয়। এবং অপরদিকে, পাঁচটি রডকে একত্রে একটি মোটা রডের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়। ব্যাস, তৈরি হয়ে গেল নিড়ানী। এটির উচ্চতা এক ফুটের মতো। শেষপ্রান্তে হাতে ধরার কাঠের হাতল লাগানো থাকে। বাংলায় এই যন্ত্রটি নারীদের বুদ্ধিমত্তার প্রমাণ।


ডালা- ঝুড়ি


ডালা বা ঝুড়ি বোনার মূল উপাদান বাঁশ ও বেত। ডালা ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের হয়ে থাকে। হাল্কা ধরনের জিনিস বহন করতে সাধারণত ছোট-খাট ডালা ব্যবহার করা হয়। ক্ষেত থেকে সংগ্রহ করা অল্প পরিমাণে শাক-সব্জি বা ফল-মূল বহন করা যায় এরকম ডালায়। মাটি কাটার কাজসহ নির্মাণ শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদেরকেও ডালা ব্যবহার করতে দেখা যায়। এই ক্ষেত্রে ডালা ব্যবহৃত হয় মাটি, বালি প্রভৃতি বহনের জন্য। একসময় অতিকায় আকৃতির ডালায় করে মানুষ বহন করার চল ছিল। বৃদ্ধ বয়সী বা অসুস্থ ব্যক্তিকে ডালায় করে কর্দমাক্ত পথ বা পথের জলমগ্ন অংশবিশেষ পার করে দেয়া হত পারিশ্রমিকের বিনিময়ে। অসুস্থ বা বৃদ্ধ ছাড়া বিত্তবানেরাও ক্ষেত্রবিশেষে এধরনের সুবিধা ভোগ করতেন। তবে মজার বিষয় এই ডালার উদ্ধাবক নারীরা।


ডালকাটা


ডাল কাটার সঙ্গে বাংলার ও বাঙালির সম্পর্ক অনেক পুরনো। ডাল সেদ্ধ করার সময় দানা ভাব না থাকার জন‍্যে ডাল কাটার ব‍্যবহার করা হয়। যাতে ভালো ভাবে মিশে যায় ডাল। এই ডাল কাটার গঠন কিন্তু ভারি মজার। কাঠের তৈরি এই যন্ত্রটির। কোনো আধুনিকীকরণ আজ পর্যন্ত হয়নি। বরাবর এই যন্ত্রটি মায়েদের রান্নাঘরেই থেকে এসেছে এবং রয়েওছে। এই যন্ত্রটিও নারীদের মস্তিষ্ক প্রসূত!

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.