প্রাণীর পরী গোলাপী আরমাডিলো
ODD বাংলা ডেস্ক: প্রাণী জগতে গোলাপী পরী হিসেবেই তার পরিচিতি। তার নাম আরমাডিলো বা গোলাপী আরমাডিলো। অত্যন্ত দুর্লভ এই প্রাণীটি আর্মাডিলো পরিবারের ক্ষুদ্রতম সদস্য। মরুভূমি-অভিযোজিত এই প্রাণীটি মধ্য আর্জেন্টিনায় বালুকাময় সমভূমি, টিলা এবং তৃণভূমিতে বসবাস করতে দেখা যায়।
এদের বৈজ্ঞানিক নাম Chlamyphorus truncates। ১৮২৫ সালে আর্জেন্টিনায় আবিষ্কার হওয়া সবচেয়ে ক্ষুদ্র প্রজাতির এই আরমাডিলোর আকার মাত্র সাড়ে তিন থেকে সাড়ে চার ইঞ্চি। পিঠের শক্ত আবরণ দিয়ে বেষ্টিত। এই স্তন্যপায়ীটির প্রধান খাদ্য পিঁপড়া এবং লার্ভা।ৎ
গোলাপী পরী আরমাডিলো সাধারণত প্রায় ১২০ গ্রাম (৪.২) ওজন হয়। আরমাডিলোর ছোট চোখ, রেশমী হলুদাভ সাদা পশম এবং একটি নমনীয় ডোরসাল শেল রয়েছে। শুধুমাত্র একটি পাতলা পৃষ্ঠীয় ঝিল্লি দিয়ে তৈরি এদের দেহ। এরা আকারে এত ক্ষুদ যে হাতের তালুতে এদের রাখা যায়। নিশাচর প্রাণীটি দিনের পুরাটা সময় মাটিতে গর্ত তৈরি করে কাটিয়ে দেয়। রাতের বেলায় উপরে উঠে আসে।
এদের বাচ্চারা কোমল ত্বক নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। এদের ত্বক শক্ত হতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যায়। বর্তমানে প্রায় ১০টি গণে (জাত) ২০ প্রজাতির আরমাডিলো টিকে আছে। এরা এদের ধারালো নখ দ্বারা বসবাসের জন্য গর্ত এবং খাবারের জন্য মাটি খোঁড়ে। আরমাডিলোর দর্শন ক্ষমতা খুবই দুর্বল। এদের পা খাটো হলেও এরা দ্রুত দৌড়াতে পারে। এদের সামনের পায়ে তিন থেকে পাঁচটি এবং পেছনের পায়ে পাঁচটি নখযুক্ত আঙুল রয়েছে। এদের দেহের বেড় বরাবর বলয় রয়েছে। বলয়ের সংখ্যা প্রজাতিভেদে বিভিন্ন। নয় বলয়যুক্ত আরমাডিলো নদীর ধারে আর্দ্র মাটিতে গর্ত খুঁড়তে পছন্দ করে। এদের দেহের উপরিভাগে বর্মসদৃশ শক্ত ত্বক বা খোল রয়েছে। কিন্তু দেহের নিচের অংশের ত্বক কোমল ও লোমযুক্ত। বর্মের মতো শক্ত ত্বক এদের আত্মরক্ষার কাজে লাগে।
বিপদে পড়লে এরা দেহকে পাকিয়ে বলের মতো করে। আরমাডিলো জলের নিচে প্রায় ৬ মিনিট ডুব দিয়ে থাকতে পারে। এদের বর্মের মতো শক্ত ত্বকের কারণে এরা জলে ডুবে যায়। তবে এরা পাকস্খলীকে বায়ু দ্বারা ফুলিয়ে দ্বিগুণ করে জলে সাঁতার কাটতে পারে।
আরমাডিলো কখনো অন্য প্রাপ্তবয়স্ক আরমাডিলোর সঙ্গে গর্ত ভাগাভাগি করে না। আরমাডিলোর খাবার প্রধানত নানারকম কীট এবং অন্যান্য অমেরুদণ্ডী প্রাণী। এদের কিছু প্রজাতি পিঁপড়া খেয়ে জীবন ধারণ করে। আরমাডিলোর গর্ভধারণ সময় ৬০ থেকে ১২০ দিন এবং অধিকাংশ আরমাডিলো একত্রে চারটি বাচ্চা প্রসব করে। ৩ থেকে ১২ মাস বয়সে এরা প্রজনন ক্ষমতা অর্জন করে।





Post a Comment