পৃথিবীর ৮ অস্বাভাবিক প্রাণী আপনাকে হতবাক করবেই
ODD বাংলা ডেস্ক: পৃথিবীর দৈত্যকার প্রাণীকে স্মরণে করলেই চোখে ভেসে উঠে প্রাগৈতিহাসিক যুগের ডাইনোসোরের প্রতিচ্ছবি। সেই প্রাণীটির অস্তিত্ব না থাকলেও সারাবিশ্বে অস্বাভাবিক রকমের প্রাণী রয়েছে যা দেখে আপনার-আমার চোখ ছানাবড়া হয়ে যাবে। যেসব প্রাণীকে স্বাভাবিক আকৃতিতে দেখে আমরা অভ্যস্ত, সেসব প্রাণীর আকৃতিই সবাইকে হতবাক করে দেবে। ডেইলি ভারতের পাঠকদের জন্য সেই হতবাক করা আটটি প্রাণী সম্পর্কে তুলে ধরা হলো:-
‘মুজ’ ঘোড়া (আমেরিকা):
দক্ষিণ-পূর্ব ফ্রান্সে ব্রিড করা ‘পারচেরন’ প্রজাতির ঘোড়া হচ্ছে ‘মুজ’। অনান্য পারচেরন প্রজাতির ঘোড়াদের হেলায় হারিয়ে ‘পারচেরন সুপ্রিম ওয়ার্ল্ড চাম্পিয়ন শিপ’ জিতে নিয়েছে দৈত্যাকৃতি মুজ। মুজের আসল নাম ‘নর্থ আমেরিকান মেড’। কিন্তু সে বিখ্যাত মুজ নামেই। ঘোড়াটির মালিক উইন্ডারমেয়ার ফার্ম জানান, মুজ উল্কাগতিতে ছুটতে পারে। সে উত্তর আমেরিকার বহু রেস জিতেছে। অত্যন্ত সুঠাম চেহারার মুজের উচ্চতা সাতফুট। তার ওজন ওজন ৫০০ কেজির কাছাকাছি। রোজ সকালে মর্নিং ওয়াকের পর পাঁচ কেজি আপেলের সঙ্গে কয়েক কেজি ব্রকোলি হলে ভালো হয়।
‘চিলি’ গরু (ইংল্যান্ড):
দৈত্যাকৃতি গরু ‘চিলি’ ইংল্যান্ডের সমারসেটের ফার্নে আনিম্যাল স্যাংচুয়ারিতে বসবাস করে। কয়েক বছর আগে একটি অতিকায় ও চারটে স্বাভাবিক আকৃতির গরুকে সমারসেটের রাস্তাঘাটে ঘুরতে দেখা যায়। তখন মালিকের খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাই গরুগুলোকে ফার্নে স্যাংচুয়ারিতে নিয়ে আসা হয়। অতিকায় গরুটির নাম দেয়া হয় চিলি। স্যাংচুয়ারিতে যত্ন পেয়ে কয়েক বছরের মধ্যেই অস্বাভাবিক বেড়েছে চিলি। ৬ ফুট ৬ইঞ্চি লম্বা চিলির ওজন এক ২৫০ কেজি।
চিলিকে দেখাশুনার দায়িত্বে রয়েছেন জেনি হুইডন। তিনি জানান, অনান্য গরুদের মতোই ঘাস খেতে পছন্দ করে চিলি। তবে দিনে একবার অন্তত পাঁচ কেজি গাজর সাবাড় করে সে। মাঠে চরাকে বেশ ভালোবাসে চিলি। তাই সন্ধ্যার পরও মাঠ থেকে ফেরার কোনো লক্ষ প্রকাশ পায় না। এ নিয়ে মুশকিলে রয়েছেন জেনি।
‘ওকলাহোমা স্যাম’ গাধা (আমেরিকা):
২০১২ সালে ‘ওকলাহোমা স্যাম’ নামে গাধাকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গাধা আখ্যা দেয় গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড। ৩০০ কেজি ওজনের গাধার উচ্চতা সাড়ে পাঁচ ফুট। আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার ফার্মে বন্ধুদের সঙ্গে থাকে চার বছরের গাধাটি। গাধাটির বন্ধুরা হলো. একটি ম্যাকাও, একটি রাজহাঁস, একটি পাতিহাঁস ও চারটি বেড়াল।
গাধাটির মালিক লিন্ডা ডেভিস জানান, ‘স্যাম’ খুব একটা বেশি খায় না। সারাদিনে কয়েক কেজি পালং শাক ও টমেটো খায় সে। বাড়ির বাইরে বন্ধুদের সঙ্গে খেলার সময় মাঝে মাঝে জানালার বাইরে থেকে টিভি দেখে সে। কার্টুন দেখতে খুব ভালোবাসে স্যাম।
‘দারিউস’ খরগোস (ইংল্যান্ড):
ইংল্যান্ডের ব্রুমসগ্রুভে বাস করে বিশাল আকৃতির খরগোশ ‘দারিউস’। এরইমধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় খরগোশ হিসেবে গিনেসেও নাম তুলেছে খরগোশটি। ৩০ কেজি দারিউস চার ফুট চার ইঞ্চি লম্বা। দারিউসের ছেলে জেফও বাবার মতোই লম্বা প্রায়। তবে দারিউসের মেয়ে এনা সম্ভবত কয়েক বছরের মধ্যেই বাবা ও দাদাকে ছাড়িয়ে যাবে।
দারিউস আকৃতি এতোটাই বড় যে তাকে কুকুরের খাঁচায় রাখতে হয়। প্রতিদিন দশটি আপেল ও দুই কেজি গাজর খায় সে। দারিউসের খুব পছন্দের জিনিস হলো আইসক্রিম। এছাড়াও খোলা মাঠে ঘুরে বেড়ানো তার খুব পছন্দ। একবার খোলা মাঠে যাওয়ার সুযোগ পেলে ঘরে ফেরানো মুশকিল।
গোলিয়াথ ব্যাঙ (ক্যামেরুন):
পৃথিবীর বৃহত্তম প্রজাতির ব্যাঙ হলো ‘গোলিয়াথ’। এ প্রজাতির ব্যাঙ আফ্রিকার ক্যামেরুন ও ইকুয়েটোরিয়াল ঘানাতে পাওয়া যায়। এ ব্যাঙের পছন্দের খাবারের তালিকায় রয়েছে সাপ, মাছ, কচ্ছপ, কাঁকড়া, মাকড়শা ও ছোট ব্যাঙ। ‘গোলিয়াথ’ প্রজাতির ব্যাঙ প্রায় ১৫ বছর বেঁচে থাকে। সেই ‘গোলিয়াথ’ প্রজাতির সদস্য ‘সান্ডা’ নামের এ দৈত্যাকৃতি ব্যাঙটি। প্রায় পাঁচ কেজি ওজনের ব্যাঙের দৈর্ঘ্য সাড়ে তিন ফুট।
ক্যামেরুনের এক ব্যক্তি ব্যাঙটিকে পুষেছেন। ব্যাঙটিকে কিনে খাওয়াতে গিয়ে মাথায় হাত। তাই সারাদিন ব্যাঙটি নিয়ে জঙ্গলের আনাচে কানাচে ও নদীর ধারে ঘুরে বেড়ান ওই ব্যক্তি।
‘বালথাজার’ কুকুর (ইংল্যান্ড)
২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের নটিংহামের গ্রেট ডেন ‘বালথাজার’ বিশ্বের সবচেয়ে বড় কুকুরের আখ্যা পেয়েছিল। ১০০ কেজি ওজনের কুকুরটির দৈর্ঘ্য সাত ফুট ও উচ্চতা চার ফুট। পরে ‘বিগ জর্জ’ নামে এক গ্রেট ডেনের কাছে উচ্চতায় কয়েক সেন্টিমিটার পিছিয়ে পড়ে সেটি। তবুও কুকুরদের জগতে বালথাজারের মূল্যায়ন একটুও কমেনি। বালথাজার প্রচুর খেতে পারে। রোজ অন্তত গোটা দুয়েক রোস্ট করা চিকেন খায় সে। এছাড়া সে সোফা ও জুতো চিবাতে ভালবাসে।
‘হারকিউলিস’ লাইগার (আমেরিকা)
সিংহ ও বাঘের সঙ্গমের ফলে জন্ম নেয়া প্রাণীগুলিকে আগে বলা হতো ‘টাইগন’ ( টাইগার + লায়ন)। এখন বলা হয় ‘লাইগার’ ( লায়ন+টাইগার)। লাইগার ‘হারকিউলিস’ আমেরিকার সাউথ ক্যারোলিনার মার্টেল বিচ সাফারি পার্কে থাকে। ৬০০ কেজি ওজনের হারকিউলিসের দৈর্ঘ্য ১১ ফুট ও উচ্চতা সাড়ে পাঁচ ফুট। প্রিয় খাদ্য মহিষের দুধ। তবে দিনে প্রায় সাত কেজি ষাড়ের মাংস খেতে দেয়া হয় তাকে। বাচ্চা লাইগারদের সঙ্গে খেলতে খুব ভালোবাসে হারকিউলিস।
ফিল্ড মার্শাল ষাঁড় (ইংল্যান্ড):
ইংল্যান্ডের সমারসেটের এলস্টোনের ফার্মে থাকে বিশ্বের বৃহত্তম ষাঁড় ‘ফিল্ড মার্শাল’। আট বছরের ষাঁড়টির উচ্চতা ৬ ফুট এক ইঞ্চি ও ওজন প্রায় দুই হাজার কেজি। বছরে দেড়শো কেজি ওজন বেড়েছে তার। মালিক আর্থার ডাকেট ষাঁড়টিকে গোয়ালে বন্দী রাখেন না। তাই ফিল্ড মার্শাল দিনরাত কাটায় ফার্মহাউসের বাইরে। রোজ ১০ কেজি খাবার খায় ষাঁড়টি। এর মধ্যে রয়েছে ওট, বার্লি, আলু, বিট।
বিশ্বের সর্বকালের সর্ববৃহৎ ষাঁড় ছিল ‘ওল্ড বেন’। ১৯১০ সালে ষাঁড়টি মারা যাওয়ার আগে ষাঁড়টির উচ্চতা ছিল ছয় ফুট চার ইঞ্চি। ওজন ছিল দুই হাজার ১৪০ কেজি। তবে সে রেকর্ড অচিরেই ভেঙে যাবে। কারণ বিশ্বের সর্বকালের বড় ষাঁড় হওয়ার লক্ষ্যে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে চলেছে বিশাল আকৃতির ষাঁড় ফিল্ড মার্শাল।





Post a Comment