মধু ছেড়ে আজকাল মিষ্টি খাচ্ছে মৌমাছি, প্রকৃত কারণটা কী?

 


ODD বাংলা ডেস্ক: প্রাণিদের মধ্যে পরিশ্রমী ও উপকারী পতঙ্গ ‘মৌমাছি’। ফুলের সঙ্গে মৌমাছির অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের কথা সবারই জানা। ফুলের মধু চুরি করে নিজের ঘরে জমা করাই যেন ওদের হাজার বছরের স্বভাব। তবে এই স্বাভাবিকতার মধ্যেই সম্প্রতি দেখা যায় ছন্দপতন। সম্প্রতি মধুর বদলে মিষ্টি খাচ্ছে মৌমাছি। এ দৃশ্য যেন ভাবনার জন্ম দেয়। কেন? কি কারণে এমন হচ্ছে?

ক্ষুদ্র জীবন মৌমাছির। এই জীবনের অন্যতম কাজ মধু সংগ্রহ করা। এজন্য এরা অক্লান্ত পরিশ্রমও করে। ফুলের মধু আনতে গিয়ে মৌমাছির গায়ে জড়িয়ে যায় রেণু। সেই রেণু অন্য ফুলে ছড়িয়ে পড়ে মৌমাছি বা বাতাসের মাধ্যমে। ঘটে পরাগায়ন। রক্ষা পায় প্রকৃতির ভারসাম্য। তবে মৌমাছির এমন পরিশ্রমের ফল পুরোটাই ভোগ করে মানুষ ও পরিবেশ।


তবে আজকাল মধুময় ফুল ছাড়াও অন্যত্রও দেখা যায় মৌমাছিকে। শহর- উপশহর বা গ্রামেও মিষ্টির দোকানগুলোতে ক্রেতাদের যেমন ভিড় থাকে, তেমনি মৌমাছিদেরও দেখা মেলে দিনভর। মৌমাছিরা হুমড়ি খেয়ে পড়ে মিষ্টির ওপর। এ নিয়ে প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে নানান প্রশ্ন। মিষ্টির মান বা দোকানদারের কারসাজি বলে অশঙ্কাও করছেন কেউ কেউ।


মিষ্টির দোকানে মৌমাছির ঝাক দেখে ক্রেতারা অবাক হচ্ছে। অনেকেই ভাবছেন এ মিষ্টিতে বুঝি মধু দেয়া হয়েছে, তাই এসেছে মৌমাছিরা। আবার অনেকেই বুঝে উঠতে পারছে না, মৌমাছি ফুলের বাগান ছেড়ে মিষ্টির দোকানে কেন উড়ে বেড়াচ্ছে? মৌমাছি কী মিষ্টি থেকে মধু খাচ্ছে?


এ বিষয়ে একাধিক মিষ্টি বিক্রেতাদের দাবি, মিষ্টির দোকানে মৌমাছি আসবেই। এটা নতুন কিছু নয়। তবে ঝাকে ঝাকে মৌমাছি আসছে এখন। নরম মিষ্টি চুষে চুষে খায়। কোনোভাবেই এদের ঠেকানো যাচ্ছে না। তবে মৌমাছি খাদ্যের ক্ষতি করে না। বিরক্ত না করলে কাউকে হুলও ফোটায় না। তাই দোকান থেকে তাদের তাড়ানো হয় না।


তবে প্রকৃতিপ্রেমী ও প্রাণিবিজ্ঞান সংশ্লিষ্টদের যুক্তি, শহরের প্রকৃতিতে ফুলের পরিমাণ কম। তাই হয়তো ফুল না পেয়ে মিষ্টির দোকানে আসছে মৌমাছি। আগেও মিষ্টির দোকানে মৌমাছি যেত। তবে এখন একটু বেশিই দেখা যায়। আর এই সুযোগে মৌয়ালদের মাধ্যমে মৌমাছি সংগৃহ করে শহরের মিষ্টির দোকানিরা। জীবন্ত মৌমাছি গ্লাস বন্দী মিষ্টির উপর ছেড়ে দিয়ে তারা মিষ্টির স্বাদকে প্রমাণের চেষ্টা করে।


তবে আসল সত্যিটা কী? বিষয়টি জানতে চাইলে কীটতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, মৌমাছি ফুলে ফুলে ঘুরে মধু সংগ্রহ করে। তবে খাদ্যসংকট দেখা দিলে তখন মৌমাছি খাবার খুঁজতে চিনি জাতীয় দ্রব্যের কাছে যায়। এটা প্রাকৃতিক। তাই খাদ্যের তাগিদেই ওরা মিষ্টির উপর হুমড়ি খেয়ে পড়তে পারে।


তিনি আরো বলেন, যখন মৌ চাষিরা মধু সংগ্রহের জন্য খাঁচা স্থাপন করে, তখন প্রথম দিকে তারাও কিন্তু মিষ্টির শিরা বা চিনি ব্যবহার করে। মৌমাছি খুবই বুদ্ধিদীপ্ত পতঙ্গ। ফুল এবং মধু সংগ্রহের প্রাকৃতিক উৎস কমে যাওয়ায় মৌমাছি হাটবাজার, মিষ্টির দোকানে মধু সংগ্রহের জন্য যেতে পারে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.