অবসরের পর মানুষ মিথ্যা বলে কেন, জানেন কি?
ODD বাংলা ডেস্ক: ইন্টারনেটে রিটায়ারমেন্ট লিখে সার্চ দিলেই দেখা যায় সাদা চুলের একদল লোক। তারা হাস্যকর ইয়োগা পোজ দিচ্ছে, শরীরচর্চা করছে কিংবা নাতি-নাতনীদের সঙ্গে খেলা করছে-এমন সব ছবি আসবে। কিন্তু বাস্তব অবস্থা অনেকের জন্য ভিন্ন হতে পারে। কারণ এসময় সবাই দুশ্চিন্তাগ্রস্থ থাকেন। হয়ে বসে আছেন অনেকের জন্য অবসর গ্রহণের প্রথম কয়েক মাস অস্তিত্বে সংকট তৈরি হতে পারে- এমনটাই বলছেন হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক টেরেসা আমাবিল।
চার বছর ধরে অধ্যাপক টেরেসা আমাবিল এবং তার দল ১২০ জন পেশাজীবীর সাক্ষাতকার গ্রহণ করেছেন, যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে তিনটি কোম্পানি থেকে অবসর নিয়েছেন। তারা সাক্ষাতকার-দানকারীদের কর্মজীবনের নানা দিক এবং সময় সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। প্রাথমিক ফলাফল ছিল বেশ কঠিন।
মানুষ অবসরের ব্যাপারে অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে ভেবে থাকে। কিন্তু এটার জন্য মানসিক এবং সম্পর্কের দিকগুলো বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। আমাদের চিন্তা করা দরকার আমি কী হবো, আমার আনুষ্ঠানিক কর্মজীবন যখন শেষ হবে তখন আমি কী হতে চাই। আমাদের গবেষণা বলছে, যারা এই বিষয়গুলো আগে থেকে চর্চা করে তাদের জন্য পরিবর্তনের সময়টা সহজ হয়।
গবেষণার একটা বড় বিষয় উদঘাটন করা হয় যখন তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয় তারা নিজেদেরকে কীভাবে বর্ণনা করে। তারা সাধারণত বলে, আমি অবসরপ্রাপ্ত লাইব্রেরিয়ান, অথবা আমি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ বা আমি অবসরপ্রাপ্ত রসায়নের গবেষক। তারা এখনো নিজেদেরকে আগের পেশার সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করে পরিচয় দেয়, বলছিলেন অধ্যাপক আমাবিল।
কেউ-কেউ আবার অস্বীকার করে যে তারা অবসর নিয়েছে, যেটা বেশ মজার। তবে কেন তারা এমনটা করে? একজন উত্তর দিয়েছিল, আমি আগের দিনের খবর হিসেবে নিজেকে দেখতে চাই না। আমি এখনকার খবর হিসেবে থাকতে চাই। অবসরের বয়সের সময়সীমা অনেক দেশে বাড়ছে এবং এটা মানুষকে নানা দিক দিয়ে প্রভাবিত করছে।
যদি আপনি একজন লেখক বা অর্থনীতিবিদ হন তাহলে আপনার কর্মজীবন দীর্ঘ হতে পারে। আবার আপনি যদি শারীরিক পরিশ্রমের কোন কাজ করেন তবে সময়টা সে তুলনায় কম। হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ এর অধ্যাপক ডেভিড ব্লুম বলছেন, যদি সরকার বা কোম্পানি সিদ্ধান্ত নেয় যে পেনশন বা অবসরের পর অন্যান্য সুবিধা দেবে না তখন মানুষের মধ্যে একটা অস্থির অবস্থা বিরাজ করতে পারে। যারা শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করে তারা ষাট বা সত্তর বছর বয়সে একই রকম সুযোগ নাও পেতে পারে। কিন্তু যারা মাথা খাটিয়ে কাজ করে তারা সে সুযোগটা পেতে পারে।
অবসর নেয়ার বিষয়টা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। সেটা সরকারি বা বেসরকারি কোম্পানিই হোক না কেন। উভয়েই নতুন পলিসি তৈরি করছে বয়ষ্ক জনসংখ্যার জন্য। আবার আমাদের মধ্যে অনেকে আছে যারা ব্যক্তিগত এবং পেশাগতভাবে সেটা করছি। যতদূর মনে হয়, অবসর গ্রহণের এই সমস্যার খুব কম সমাধান পাওয়া গেছে।





Post a Comment