যেসব কারণে নারী সেনাদের যুদ্ধে পাঠায় না ইসরায়েল
ODD বাংলা ডেস্ক: ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসরায়েল। রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর নারীদের সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ করা হয়। প্রথম আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে অংশ নেয় নারী সেনা। পরে নানা কারণে যুদ্ধে নারীদের অংশগ্রহণ রহিত করে ইসরায়েল সরকার। তবে প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক পদে নারীদের নিয়োগ দেয়ার পথ খোলা রাখা হয়।
ইসরায়েলি নারীরা সেনাবাহিনীতে নিয়োগের পর অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতেন। সেনাবাহিনীতে ‘ক্যাডার’ থেকে শুরু করে রান্নার কাজ, সামরিক বাহিনীর উচ্চপর্যায়ে কাজ, গোয়েন্দা নজরদারি চালানো, সৈন্যদের পড়াশোনা, শারীরিক প্রশিক্ষণের জন্য দায়িত্বশীলতা, অস্ত্র পরিচালনার প্রশিক্ষক, যোগাযোগ ব্যবস্থায় কাজসহ নিরাপত্তা ক্যামেরাগুলো পর্যবেক্ষণ করতে পারতেন নারীরা।
সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলে গেছে। ইসরায়েলি নারীবাদীরা শুধু অধিকারের জন্য নয়, দায়বদ্ধতার জন্যও লড়াই করেছেন। তাই অনেক বার ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেসের (আইডিএফ) বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তারা। পুরুষরা যেমন পদে নিয়োগ পান তেমন পদে নারীদের নিয়োগ আর নারীদের সামরিক অভিযানে অংশ নেয়ার জোর দাবি উঠে।
ফলে নারীদের ট্যাঙ্কক্রু ও বিমান চালক হিসেবে নিয়োগের অনুমতি দেয়া হয়। এছাড়াও বিশেষ পদাতিক ইউনিট যেমন, ‘কারাকাল’ ও ‘লায়ন্স অব দ্য জর্ডান ভ্যালি’ তৈরি করা হয়। ওই ইউনিটগুলোতে সৈন্যদের এক তৃতীয়াংশই পুরুষ ও বাকি সবাই নারীরা থাকতেন।
ইসরায়েলের সেনাবাহিনীতে নারীদের ভূমিকার খবর বিদেশি মিডিয়া ও দেশটির স্থানীয় মিডিয়া অতিরঞ্জিত করে প্রকাশ করে। এ জাতীয় আলোচনাগুলো লিঙ্গ সমতা দেখাতে বেশি ব্যবহৃত হয়। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তখন জর্ডান ও মিশরের সঙ্গে সীমান্তে শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থান রয়েছে বলে জানানো হয়।
ওই সময় বলা হয়, ইচ্ছাকৃতভাবে নারীরা যুদ্ধে নামবে না। কারণ তাদের নিম্নমানের প্রশিক্ষণ রয়েছে। ‘কারাকাল’ ইউনিটের সৈন্যদের কম অস্ত্র রাখার অনুমতি দেয়া হয়।
যেসব ইউনিটগুলোতে নারীরা রয়েছে সেসব ইউনিটের পুরুষদের বা নারীদের একসঙ্গে বিছানায় যাওয়া নিষেধ করা হয়। সহিংসতা রোধে এ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। কিন্তু দমে থাকেনি নারী ও পুরুষ সৈনিকেরা। ১৮ থেকে ২০ বছরের তরুণেরা সেনাবাহিনীতে প্রবেশ করে মরুভূমিতে একাই কাজ করেন। সুযোগ পেয়ে শৃঙ্খলা ভেঙ্গে অবাধে মেলামেশা শুরু করে তরুণ-তরুণীরা।
এদিকে নিয়মিত যুদ্ধে লিপ্ত থাকা আইডিএফ-এর কর্মকর্তারা অনেক অভিজ্ঞ। তারা এক একজন ‘ডগস অব ওয়ার’। তারাই চায় না নারীরা সেনাবাহিনীতে নিয়মিত কাজ করুক। যুদ্ধ ইউনিটে নারীদের ভর্তি ও নারী ক্রুদের মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম গ্রহণ কাজের তীব্র বিরোধিতা করে আইডিএফ।
আইডিএফ-এর মত, একজন নারীকে পদাতিক সদস্য বা ট্যাঙ্কার হিসেবে নিয়োগ দিলে শারীরিক গঠনের কারণে দুর্বলতম পুরুষ সৈনিকের চেয়ে কম কাজ করবে। নারীদের আরো বেশ কয়েকটি দুর্বল পয়েন্ট বের করে আইডিএফ। যেমন, নারীরা কম পরিমাণে গোলাবারুদ বহন করতে পারবে, দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়বে, আর বেশি বেশি চোট পাবে। এমনকি নারীদের শরীরের ক্ষত সারাতে সময় লাগবে। যুদ্ধে একজন শক্তিশালী মানুষও কুকুরের মতো ক্লান্ত হয়। আর একজন নারী যুদ্ধের মতো কাজ করা কঠিন হবে। তাই নারীদের যুদ্ধে অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ করা হয়।
ইসরায়েলি নারীদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করতে আরো যুক্তি তুলে ধরেছিল আইডিএফ। সেগুলো হলো, পুরুষদের তুলনায় নারীরা কম সামরিক তত্ত্ব জানেন। নারীরা একটি ট্যাঙ্ক কিভাবে ফায়ার করতে হবে তা জানবেন। কিন্তু যুদ্ধের ময়দানে ইউনিটগুলোর মিথস্ক্রিয়া সম্পর্কে তার কোনো ধারণা থাকবে না। যা আরবদের ওপর ইহুদিদের প্রধান সুবিধা।





Post a Comment