বিশ্বের মূল্যবান বিলাসী গাড়ির চমকপ্রদ তথ্য
ODD বাংলা ডেস্ক: যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ আর সময় সাপেক্ষ করতেই প্রথম চাকার আবিষ্কার। এরপর তৈরি হয় গাড়ি। প্রথম চার চাকার গাড়ি আবিষ্কার করেন কার্ল বেঞ্জে। জানেন তো? প্রথম গাড়ি চালক ছিলেন কিন্তু একজন নারী। এমনকি তিনিই ছিলেন প্রথম গাড়ি মেকানিকও।
গাড়ি হচ্ছে চাকাযুক্ত এক প্রকার মোটরযান, যা যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। এটি যাত্রী পরিবহনের সঙ্গে সঙ্গে নিজের ইঞ্জিনও পরিবহন করে। বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬০ কোটি যাত্রীবাহী গাড়ি রয়েছে। ২০০৭ সালে বিশ্বের রাস্তাগুলো দিয়ে প্রায় ৮০ কোটি ৬০ লক্ষ গাড়ি ও হালকা ট্রাক চলাচল করেছে।
তবে বর্তমানে গাড়ি প্রয়োজনীয়তার চেয়ে বিলাসিতাই প্রকাশ করে বেশি। মানুষের কাছে গাড়ি এখন হয়ে উঠেছে অনেকটা বিলাসিতার বস্তু। প্রতিবছরই বাজারে আসে নতুন গাড়ি। রীতিমতো ঘোষণা দিয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জায়গা নিয়ে লড়াইয়ে নামে বিশ্বের নামিদামি গাড়ি নির্মাতা কোম্পানিগুলো। আজকের লেখায় থাকছে বর্তমানে বিশ্বের নামীদামী গাড়ির খবর। এর একেকটির দাম আর জনপ্রিয়তা শুনলে চোখ কপালে উঠবে আপনার। চলুন জেনে নেয়া যাক সেসব গাড়িগুলো সম্পর্কে-
বলার অপেক্ষা রাখে না, জাপানের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটাই হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। যারা শুধু গাড়ি তৈরি না গাড়ি বিক্রিতেও সবার শীর্ষে। প্রায় ৯.৯৮ মিলিয়ন পরিমাণ গাড়ি বিক্রি করেছে তারা। আর বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে মাত্র ৩ শতাংশ, কিন্তু এই তিন শতাংশ বিক্রিই তাদেরকে তালিকার সেরাদের সেরা করে তুলেছে।
২০১২ সালে কোম্পানিটি বিশ্বের বৃহত্তম অটোমোবাইল প্রস্তুতকারী কোম্পানিতে পরিণত হয়। আয়ের দিক থেকে বিশ্বের নবম বৃহত্তম কোম্পানি এটি। ১৯৩৭ সালে কিয়েচিরো টয়োটা তার বাবার কোম্পানি টয়োটা ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে আনুষাঙ্গিক লাভের আশায় এই মোটরগাড়ি প্রস্তুতকারী কোম্পানিটি প্রস্তুত করেন। তাদের সবচেয়ে পরিচিত ও সর্বাধিক বিক্রিত গাড়িটি হচ্ছে টয়োটা করোল্লা।
জেনারেল মটর কোম্পানির নাম শুনে অনেকেই একটু অবাক হচ্ছেন। অনেকের কাছে হয়তো অপরিচিত লাগছে নামটা। তবে এটিও আমেরিকার বিখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। যারা কিনা ভক্সওয়াগেনকে পেছনে ফেলে অবস্থান নিয়েছে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে। তারা বিক্রি করেছে ৯.৭ মিলিয়ন গাড়ি। যাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে তাদের আরেকটি ব্র্যান্ড শ্রেভোলেট এর গাড়ি, যার পরিমাণ ৫.১ মিলিয়ন। পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি হওয়া গাড়িগুলোর মধ্যে ৫ম অবস্থানে রয়েছে শ্রোভেলেটের শেভি মডেলটি। বর্তমানে এই কোম্পানিতে কাজ করছেন দুই লাখের বেশি মানুষ।
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গাড়ি নির্মাতাদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ভক্সওয়াগেন গ্রুপ। যাদের জন্মস্থান জার্মানি হলেও এটি বর্তমানে অডি, পোর্শে, ল্যাম্বোরগিনির মতো গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কর্তা হিসেবে কাজ করে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, তারা প্রায় ৯.৭ মিলিয়ন গাড়ি বিক্রি করেছে। আর বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে ১৬ শতাংশ। তাদের বেশি বিক্রি হওয়া গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে জেট্টা, বোরা ও ভেন্টো মডেল। ১৯৩৭ সালের ২৮ মে অ্যাডলফ হিটলারের নেতৃত্বে জার্মানির এই বিলাসবহুল গাড়ির কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি জনগনের জন্য গাড়ি নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন। এমনকি ভক্সওয়াগেন শব্দটির অর্থ জার্মান ভাষায় জনগনের গাড়ি।
দক্ষিণ কোরিয়ার দুটি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হুন্দাই ও কিয়া, যারা একইসাথে জায়গা করে নিয়েছে তালিকার ৫ম অবস্থানে। শেষ তথ্য অনুযায়ী, তারা প্রায় ৭.৫ মিলিয়ন গাড়ি বিক্রি করতে পেরেছে। যদিও তাদের বিক্রির লক্ষ্য ছিল ৮ মিলিয়ন পর্যন্ত। গত বছর তাদের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া গাড়ির মডেলটি হচ্ছে ইলানট্রা, যা প্রায় ৮ লক্ষ ৬৬ হাজার ইউনিট বিক্রি হয়। আর পৃথিবীর সেরা কোম্পানিদের মধ্যে তাদের অবস্থান চতুর্থ।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকাভিত্তিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফোর্ড তাদের গাড়ি বিক্রির হার ১১ শতাংশ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে আর প্রায় ৬.৩ মিলিয়ন গাড়ি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিক্রি করতে পেরেছে। যদিও এই তালিকায় আসার জন্যে আরেকটি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে আর সেটি হচ্ছে লিংকন মটরস। যদিও ফোর্ডের যশখ্যাতির জন্যে কাছেই ভিড়তে পারেনি লিংকন মটরস। শুধু তাই নয়, টয়োটা করোল্লাকেও পেছনে ফেলে সেরাদের সেরার তালিকায় অবস্থান নিয়েছিল এই ফোর্ড মটরস।
তালিকায় নবম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্সের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পেগাট। যদিও গত বছর তাদের গাড়ি বিক্রিতে ৫ শতাংশ পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল। তবুও তারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ মিলিয়ে প্রায় ২.৮ মিলিয়ন গাড়ি বিক্রি করত্তে সক্ষম হয়েছিল। প্রথমে যদিও তারা শুধুমাত্র ইউরোপের মার্কেটে গাড়ি বিক্রির জন্য উৎসাহী ছিল কিন্তু লোকসানের পরেই তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গাড়ি বিক্রির কথা চিন্তা করে এবং বিশ্ব মার্কেটে জায়গা দখল করে নেয়।
জাপানের বিখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হোন্ডা, যাদের নাম বাদ পড়েনি এই তালিকা থেকেও। তবে শুধু হোন্ডা নয়, প্রতিযোগিতার তালিকায় রয়েছে আরো দুটি জাপানের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান: নিসান ও টয়োটা। যদিও তারা সামান্য কিছু পিছিয়ে রয়েছে বিক্রির দিক দিয়ে।
শেষ তথ্য অনুযায়ী, হোন্ডার বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ। আর প্রায় ৪ মিলিয়নেরও বেশি গাড়ি ও ট্রাক বিক্রি হয়েছে হোন্ডার। আর তাদের এক বড় মার্কেট হিসেবে দখলে রয়েছে আমেরিকা, যেখানে তারা হোন্ডা ও অ্যাকুরার বিভিন্ন মডেল বিক্রি করে থাকে আর প্রতিবছর প্রায় ১.৫ মিলিয়ন হোন্ডার গাড়ি বিক্রি হয় আমেরিকাতে। তবে তাদের তুলনা যদি বিশ্বব্যাপী করতে হয় তবে সিআর-ভি মডেলের নামটা সবার আগেই আসবে, কারণ বিশ্বব্যাপী এই মডেলটি বেশি প্রচলিত।
যদিও ইতালির গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফিয়াট এবং আমেরিকার ক্রাইস্লার দুটি ভিন্ন ভিন্ন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। তবুও তাদের অবস্থান একই স্থানে। কারণ, এখন তারা বর্তমানে পার্টনারশিপে কাজ করে যাচ্ছে। এবং সর্বশেষ সময় পর্যন্ত তারা প্রায় ৪.৩ মিলিয়ন গাড়ি বিক্রি করেছে। আর আগের বছরের তুলনায় ৩.৬ শতাংশ বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আমেরিকার বাজারে তার পরিমাণ শতাকরা ১৪ ভাগ। শুধু তা-ই নয়, একই তালিকায় আসার জন্যে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে ডজ ও এসআরটি নামক আরো দুটি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।
জার্মানির এই গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি সেরাদের সেরার তালিকায় রয়েছে ২০১২ সাল থেকে। ২০১৩ সালে কোম্পানিটি ২০১২ সালের রেকর্ড ভেঙে ৬ শতাংশ বেশি গাড়ি বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছিল। শুধু তাই নয়, তাদের সাথে পাল্লা দিচ্ছে আরো দুটি কোম্পানি সেগুলো হচ্ছে রোলস-রয়েস ও মিনি। তবে সেরা বিক্রেতার খেতাব জুটেছিল বিএমডব্লিউর ভাগ্যেই। গত বছরও কোম্পানিটি প্রায় ৩ লক্ষ ৫০ হাজার গাড়ি বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছিল।
মার্সিডিজ বেঞ্জ বিশ্বখ্যাত জার্মান গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। তারা বিলাসবহুল সব গাড়ি, বাস, ট্রাক, লড়ি ইত্যাদি মোটরগাড়ি তৈরির জন্য বিখ্যাত। জার্মানির ব্যাডেন-ওর্টেনবার্গের স্টুটগার্টে তাদের হেডকোয়ার্টার অবস্থিত। তবে শুরুতে মার্সিডিজ এবং বেঞ্জ দুটি আলাদা কোম্পানি ছিল। তাদের উভয়ের জন্ম জার্মানিতে এবং নতুন কিছু করার তাগিদ থেকেই যাত্রা শুরু কোম্পানি দুটির। ১৯২৬ সালে ডেইমলার- বেঞ্জের অধীনে আসার পর নামটি প্রকাশিত হয়। ১৯৯৮ সালে মার্সিডিজ- এএমজি, মার্সিডিজ- বেঞ্জের সর্বাধিক মালিকানাধীন সম্বলিত বিভাগ হয়। ১৯৯৯ সালে ডেইমলার ক্রিসল্লারে কোম্পানিটির সঙ্গে একত্রিত করা হয় এবং পহেলা জানুয়ারি তারিখে মার্সিডিজ- বেঞ্জ এএমজি এর যাত্রা শুরু হয়।





Post a Comment