বিশ্বের এসব দেশে নতুন বছরের শুরু হয় বিশেষ খাবার দিয়ে
ODD বাংলা ডেস্ক: বিদায়ী ২০২১ সাল। আজ ৩১ ডিসেম্বর, বছরের শেষ দিন। এই দিনে নতুন বছরকে বরণের জন্য ঘরে ঘরে বিরাজ করে উৎসবের আমেজ। এবার ২০২০ ও ২০২১ সালটি মহামারির জন্য ওলটপালট হয়ে গেলেও ২০২২ সালে যেন এর প্রভাব না থাকে সেই আশা বিশ্ববাসীর।
নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয় বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রীতি মেনে। নিউ ইয়ার ইভের পার্টিকে ঘিরে থাকে অনেক রকম খাবারের আয়োজন। মজার সব রেওয়াজ ও প্রচলিত বিশ্বাস মেনে নতুন বছরে সৌভাগ্য আনতে এসব খাবার পরিবেশন করা হয়। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক কোন দেশ কোন খাবার খেয়ে নতুন বছর শুরু করে-
কোরিয়া
আমাদের মেড়া পিঠার মতো কোরিয়ায় চালের গুঁড়া দিয়ে ভাপে বানানো হয় রাইস কেক। এই রাইস কেক মাংস, ডিম, সামুদ্রিক শেওলা ও সবজি দিয়ে বানানো সুস্বাদু তেওকগুক স্যুপ নববর্ষের দিন পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে খাওয়াটাই কোরীয় রীতি। নতুন বছরে এই স্যুপ খেয়েই আরেক বছর জীবন পাওয়ার আশা রাখেন কোরীয়রা। এমনকি সে দেশের বয়োবৃদ্ধ মানুষেরা এই বলে গর্ব করেন যে আমি এই এতবার তেওকগুক খেয়েছি জীবনে!
ব্রাজিল
ব্রাজিলে সামাজিকভাবে ইউরোপীয় প্রভাব অনেকটাই বেশি। স্প্যানিশ ও পর্তুগিজদের মতো তাই এখানেও নববর্ষের ১২টি ঘণ্টাধ্বনির সঙ্গে ১২টি আঙুর বা আনারদানা খাওয়া হয়। এ ছাড়া নববর্ষের দিন চাল-ডাল থাকে সবার খাবার টেবিলে। কারণ, তাঁদের ধারণা, চাল ও ডাল অর্থনৈতিক উন্নতির প্রতীক। এ ছাড়া এদিন সন্ধ্যায় সবাই মিলে বিভিন্ন রকমের ফলের রস দিয়ে তৈরি ককটেলসহ পানীয় পান করা হয় সাম্বা নাচের তালে তালে সমুদ্রসৈকতে।
জার্মানি
চিনি ও বাদাম দিয়ে তৈরি ‘সুগার পিগস’ খেয়ে নতুন বছরকে বরণ করে জার্মানির অধিবাসীরা।
মেক্সিকো
কলাপাতায় মোড়া এক বিশেষ ধরনের খাবার খেয়ে মেক্সিকোতে শুরু হয় বর্ষবরণ উৎসব। ‘টামালেস’ নামের এই খাবারে থাকে কর্ন, মাংস, পনিরসহ আরো কিছু আইটেম। এক ধরনের স্যুপের সঙ্গে পরিবেশন করা হয় এই খাবার।
ইরান
ইরানের নিউ ইয়ার পার্টিতে থাকে ‘কুকু সবজি’ নামের এক ধরনের খাবার। ডিম ও সবজি দিয়ে প্রস্তুত করা হয় এটি।
জাপান
জাপানের নিউ ইয়ার পার্টিতে যে খাবারটি অবশ্যই থাকে তার নাম হচ্ছে ‘সোবা নুডলস।’ জাপানি ঐতিহ্য অনুযায়ী এই খাবারকে বছর শেষের বিশেষ খাবারও বলা হয়। লম্বা সোবা নুডলস খেয়ে লম্বা ও সুখী জীবনের প্রত্যাশা জানানো হয়।
স্পেন
স্পেনে বারোটি আঙুর খেয়ে নতুন বছর শুরু করার ঐতিহ্য রয়েছে। থার্টি ফার্স্টে টাইম স্কয়ারের সামনে বিশাল জনসমাগম হয়। রাত ঠিক বারোটার সময় ১২ বার ঘড়ির ঘণ্টাধ্বনি শোনা যায়। প্রতিটি ঘণ্টাধ্বনির সঙ্গে সঙ্গে একটি করে আঙুর খেয়ে নতুন বছর শুরু করে স্পেনের নাগরিকরা।





Post a Comment