হিমবাহ গলার পর মিললো গ্রানাইটের দ্বীপ
ODD বাংলা ডেস্ক: হিমবাহ গলার হার ২০০০ সাল থেকে দ্বিগুণ হয়েছে, নতুন এক গবেষণায় এমনটাই উঠে এসেছে। এ পর্যন্ত হিমবাহ যতখানি গলেছে, তার এক-চতুর্থাংশ গলেছে গত চার দশকে। হিমবাহ গলার হার খুব দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। অ্যান্টার্কটিকায় বরফ গলতে গলতে এমন অবস্থা হয়েছে যে, উন্মোচিত হয়েছে এক লুকোনো দ্বীপ।
থুয়েটস অফশোর রিসার্চ (থর) প্রকল্পের একদল মেরু গবেষক অ্যান্টার্কটিকার পাইন আইল্যান্ড দিয়ে যাওয়ার সময় এই দ্বীপটিকে চিহ্নিত করেছেন। দ্বীপটি এতটাই বড় যে মহাকাশ থেকেও দেখা যায়। এতদিন বরফের তলায় ঢাকা ছিল বলে স্যাটেলাইটের মাধ্যমেও দেখা যায়নি। নতুন দ্বীপটি গ্রানাইটের হওয়ায় বিজ্ঞানী মহলে এটি নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে।
দ্বীপের নামকরণ করা হয়েছে ‘সিফ’ নামে, যিনি থরের স্ত্রী। গবেষকরা উল্লেখ করেন, দেবীদের মাঝে অনন্য সুন্দরী ছিলেন থরের স্ত্রী সিফ। নীল চোখ, লাবণ্যময়ী চেহারা ও লম্বা সোনালী চুলের জন্য সবাই তার দিকে তাকিয়ে থাকতেন। এ দ্বীপটির দিকে যার চোখে একবার যাবে, তার চোখও আটকে যাবে। অন্তত একবার হলেও এটি ঘোরার ইচ্ছেপোষণ করবেন।
থর এর অভিযাত্রী জুলিয়া স্মিথ ওয়েলনার টুইট করেছেন, প্রথম দর্শনার্থী হওয়ার পর এখন নিশ্চিত করতে পারি যে সিফ দ্বীপটি গ্রানাইট দিয়ে তৈরি। এটির ওপর একসময় বরফের অনেকগুলো স্তর ছিল। হিমবাহ গলার হার খুব দ্রুত বেড়ে যাওয়ার কারণে এটি সামনে এসেছে।
ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক লরেন সিমকিন্স বলেন, যখন আমরা প্রথম নতুন দ্বীপটি চিহ্নিত করতে পারি, তখন আমাদের মধ্যে প্রচুর হইচই হয়েছিল। প্রথমে মনে করেছিলাম, এটি শুধুই পাথর। যখন জাহাজ নিয়ে মাইলের পর মাইল ছুটে এলাম দেখি দ্বীপ। মানচিত্রের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পেরেছিলাম যে এই দ্বীপ সম্ভবত আগে কখনও দেখা যায়নি। এরপর থেকে গ্রানাইটের দ্বীপটি নিয়ে গবেষণা চলছে। নতুন নতুন অনেক তথ্য পাচ্ছি প্রতিনিয়ত।
ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক জরিপের কার্টোগ্রাফারদের অনুমান, ইংল্যান্ডের রানীর সরকারি বাসভবন উইন্ডসর ক্যাসলের সমান আকার এটির। গ্রানাইটের এ দ্বীপটি প্রায় ছয় লাখ ৩৪ হাজার চারশ’ বর্গফুটের হতে পারে। তবে দ্বীপটিতে আর কী আছে এবং এর রহস্য এখনো পুরোপুরি বের করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। তারা আশা করছেন, মার্চেই দ্বীপটি সম্পর্কে আরো বেশি তথ্য জানাতে পারবেন।
বৈশ্বিক তাপমাত্রা যেভাবে বাড়ছে, তাতে অ্যান্টার্কটিকার হিমবাহের জন্য হুমকি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে যাচ্ছে। ২১০০ সাল নাগাদ অসংখ্য হিমবাহের অর্ধেক গলে নিঃশেষ হবে। এর ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্ভরশীল ১৬৫ কোটি মানুষের জীবন ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। তবে এর পাশাপাশি এমন অদ্ভুত কিছু দ্বীপেরও দেখা মিলতে পারে বলে ধারণা গবেষকদের।





Post a Comment