ভ্রমণের জন্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক এই দেশগুলো!
ODD বাংলা ডেস্ক: অনেকেই আছেন যারা ভ্রমণ করতে খুব ভালোবাসেন। দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানোই এদের একমাত্র সখ। তাদেরকে ভৌগলিক সীমারেখার বাইরের দুনিয়াটা দূর্বার আকর্ষণে টানে। একটি সুন্দর স্থান যেমন বারবার দেখার জন্য মনকে ব্যাকুল করে তেমনি বিশ্বের কিছু খারাপ দেশে ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এই খারাপ দেশ সমূহের তালিকা মূলত জনমত জরীপ, নিরাপত্তা, খাদ্য, পরিবহন ব্যবস্থা এবং সুযোগ ও অপরাধ এই সব উপাদানের উপর ভিত্তি করে তৈরী করা হয়েছে। কারণ আপনার আনন্দময় ভ্রমণটি কখনোই নষ্ট হওয়া ঠিক নয়। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক সেই বিপজ্জনক দেশগুলো সম্পর্কে-
সোমালিয়া
আফ্রিকার সব দেশে স্ফটিক-স্বচ্ছ সৈকত, উষ্ণমগুলির অঞ্চলের বৃক্ষহীন তৃণভূমি কিংবা বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ নেই। বাস্তবতা হচ্ছে এই যে আফ্রিকা তাদের দারিদ্রতা এবং দূর্বল ব্যবস্থাপনা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। সোমালিয়া এর আদর্শ উদাহারণ। শুধুমাত্র দারিদ্র্য-ই একমাত্র কারণ নয়, সোমালিয়ার শহরগুলো মানব পাচার, জলদস্যুতা, অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা এবং ড্রাগ চোরাচালানের মতো কাজের জন্য প্রসিদ্ধ। বিশ্বের অন্যান্য যেকোন দেশের তুলনায় সোমালিয়ায় অপরাধের হার অনেক বেশি। তাই সোমালিয়ায় ভ্রমণের আগের আরেকবার ভেবে দেখবেন?
গায়ানা
গায়ানা দক্ষিণ আমেরিকা ক্যারিবীয় উপকূলবর্তী একটি ছোট দেশ। যদিও দেশটি ভ্রমণে তেমন ক্ষতির আশংকা নেই, কিন্তু তবুও এটি একটি বাড়তি সতর্কতা কারণ গায়ানার জর্জটাউন মতো শহর পর্যটকদের জন্য বেশ বিপজ্জনক বিশেষ করে রাতের বেলায়। এছাড়াও ভেনেজুয়েলা এবং সুরিনাম সাথে সীমান্তে বিরোধ জন্য গায়ানা পরিচিত। যদিও দেশটিতে কিছু সুন্দর জলপ্রপাত, জাতীয় উদ্যান, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রয়েছে কিন্তু এসবের বিকল্প দক্ষিণ আমেরিকান ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে খুঁজে নেয়াই বুদ্ধিমান কাজ হবে।
আফগানিস্তান
অন্য সব দেশ থেকে আফগানিস্থান আলাদা। শ্রেষ্ট নাটুকে রাস্তা এবং অনিন্দ সুন্দর পর্যটকদের আকর্ষণ করতে বাধ্য। খেলাধুলার কিছু কিছু শাখায় আফগানদের সাফল্য ও আফগানিস্থানের খাঁটি কাবাব পৃথিবী সমাদৃত। কিন্তু আফগানিস্থানের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অবস্থা মোটেও ভ্রমণকারীদের জন্য সহায়ক নয়। যুদ্ধপরবর্তী সময়ের ধাক্কা এখনো দেশটি সামলিয়ে উঠতে পারেনি বরং দেশটির স্থানীয় বাসীন্দারা পর্যন্ত আতঙ্কে দিনাতিপাত করে। নিরাপত্তার ব্যাপারে আপোষ করে দেশটিতে ভ্রমণ করা মোটেও সুখকর হবে না।
টুভালু
আপনি এই দেশর নাম কখনো শুনে থাকতে পারেন। টুভালু ছোট্ট এক দেশ এবং বিশ্বের ক্ষুদ্রতম জাতিগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই দেশ সমুদ্রতল থেকে মাত্র ৭ ফুট উচ্চতায় আছে। যার কারণে ভৌগলিক ও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে এই দেশ আগামী ৩০ বছরের মধ্যে তলিয়ে যাবে। টুভালুতে পরিবহন এবং সুযোগ-সুবিধা খুবই খারাপ। এছাড়াও, এই ছোট দেশে পৌঁছানোর জন্য ফিজি থেকে বিমানে চড়তে হয় এবং সপ্তাহে মাত্র দুটি ফ্লাইট আছে। টুভালুতে কোন পর্যটন কেন্দ্র, চমৎকার সৈকত কিংবা আরামপ্রদ হোটেল এর কিছুই আপনি পাবেন না। আপনি যদি সৈকতে ভ্রমণের জন্য টুভালুকে বেছে নিয়ে থাকেন তবে অন্য কোন দেশ দেখুন।
রাশিয়া
অত্যন্ত রক্ষণশীল এ দেশটি ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকাই ভালো হবে। রাশিয়া তার নিজস্ব সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক ব্যাপারে খুবই সংকোচনশীল। আর আপনি যদি রাশিয়ায় চলেই যান তবে সেন্ট পিটার্স রাজপ্রাসাদ দেখতে ভুলবেন না।
জ্যামাইকা
জ্যামাইকা বালুকাময় সৈকত এবং বব মার্লে জন্য প্রসিদ্ধ। তবে অপ্রতিরোধ্য দারিদ্র্য, ডাকাতি এবং ছুরিকাঘাতের অসংখ্য ঘটনা পর্যটকদের কাছে জ্যামাইকাকে বিপজ্জনক করে তুলেছে। জ্যামাইকা ভ্রমণের ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই বস্তিতে ছোট বাজার এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে এড়িয়ে চলতে হবে তবেই আপনি Ocho Rios এর ব্লু হোল, সেভেন মেইল বীচ, ওয়াইএস ফলস, ডলফিনের সাতার ইত্যাদি উপভোগ করতে পারবেন। তবে অবশ্যই গ্রুপ বা দল বেধে ভ্রমণ করা অনেক নিরাপদ হবে আর সঙ্গে গাইড নিতে ভুলবেন না।
সিরিয়া
সিরিয়াতে অনেক ঐতিহাসিক জায়গা ও স্থাপনা আছে। কিন্তু সিরিয়ার রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনাটি বাতিল করে দেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এছাড়াও কিছু এলাকার উপর দিয়ে বিমান উড্ডয়ন নিষিদ্ধ এবং সিরিয়ায় ভ্রমণ করাকেও সীমাবদ্ধ করে দেয়া হয়েছে।
উত্তর কোরিয়া
রাজনৈতিক উত্তেজনা না থাকলে উত্তর কোরিয়া একটি আদর্শ ভ্রমণ স্থান হতে পারতো। রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আমেরিকান মুর্খতা পশ্চিমা দেশগুলোর থেকে উত্তর কোরিয়াকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। আপনি যদি উত্তর কোরিয়া ভ্রমণ করতে চান তাহলে অন্তত ৩টি স্থান না দেখা বোকামি হবে। উত্তর কোরিয়ানদের জাতীয়তাবাদ খুবই তীব্র তাই লক্ষ্য রাখুন আপনার কিংবা আপনার কোন সঙ্গী যেন কোন রাজনৈতিক আলোচনায় যোগ না দেয় আর অবশ্যই যেকোন ধরনের অপরাধ থেকে দূরে থাকুন। এত সীমাবদ্ধতার মধ্যে ভ্রমণ তালিকা থেকে আপাতত উত্তর কোরিয়ার নাম বাদ দেয়াটাই অনেক সহজ হবে।
থাইল্যান্ড
থাইল্যান্ড বিখ্যাত তার অপরুপ দৃশ্যাবলী, রন্ধনশীল্প এবং প্রমোদের জন্য। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে থাইল্যান্ডে সহিংসতা, অপরাধ এবং পুলিশ দুর্নীতি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পর্যটকদের দূর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বেড়েছে আবার এসব ঘটনা অপ্রকাশিত থেকে যাচ্ছে। আপনি নিজেই ভাবুন কেন আপনি নিজেকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবেন।
ভেনেজুয়েলা
আপনি যদি মনে করেন আপনি যেখানেই যান না কেন আপনার কপালে শুধুই বিপদ লেখা আছে তবে আপনি ভেনেজুয়েলায় যেতে পারেন। এটি জলপ্রপাত, মহিমাম্বিত পর্বত এবং আদিম সৈকত সমৃদ্ধ দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর উপকূলবর্তী একটি সুন্দর দেশ। ভেনেজুয়েলা গ্যালাপ দ্বারা ২০১৩ সাল থেকে বিশ্বের সবচেয়ে অনিরাপদ জাতি হিসাবে পরিচিত। এছাড়াও পৃথিবীর নিকৃষ্টতম কাজ অপহরণ ও যৌন পাচারের ঘটনা গুলো এখানে হরহামেশাই ঘটছে। এমনকি স্থানীয় বাসিন্দারাও রাতে কাজ রাখতে ভয় পায়।
হন্ডুরাস
মধ্য আমেরিকার দেশ হন্ডুরাসের রয়েছে সুন্দর সৈকত, সাজানো উদ্যান, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সমৃদ্ধ প্রকৃতি। আপনি জেনে চমকৃত হবেন বিশ্বে খুনের হার সবচেয়ে বেশী এখানে। যদি ভেবে থাকেন রিসোর্টে আপনি নিরাপদ তবে ভুল ভাবছেন। অপরাধ ও সহিংসতার জন্য পর্যটকদের সেখানে ভ্রমণ বিপদ সম্পর্কে সর্বোচ্চ সতর্ক করা হয়।
ব্রাজিল
ব্রাজিল দক্ষিণ আমেরিকা মধ্যে বৃহৎ, চমৎকার আবহাওয়ার দেশ। বিশ্বের সেরা সৈকত, রেইনফরেস্ট, জলপ্রপাত, ঐশ্বরিক রন্ধনপ্রণালী এবং ৬২ জাতীয় উদ্যান ব্রাজিলকে করেছে আকর্ষণীয়। যদিও ব্রাজিল ভ্রমণ করার আগে সম্ভাব্য বিপদ বিবেচনা করা উচিত। এই শহরের রয়েছে সর্বোচ্চ অপরাধের হার, মাদকের আগ্রাসন এবং গ্যাং সহিংসতার অন্ধকার দৃষ্টান্ত। ব্রাজিল দরিদ্র দেশ গুলোর মধ্যেও অন্যতম ফলে অপহরন, ছিনতাই এখানকার গুরুতর সমস্যা। তাই ভ্রমনের জন্য এই দেশটি মোটেও নিরাপদ নয়।





Post a Comment