ওজন বাড়াতে মেনে চলুন পাঁচ নিয়ম

 


ODD বাংলা ডেস্ক: অতিরিক্ত ওজন যেমন ভালো নয়, স্বাভাবিকের চেয়ে কম ওজন থাকাও ঠিক নয়। বয়স এবং উচ্চতা অনুযায়ী সঠিক ওজন থাকাটাই সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ। ওজন কমানোর জন্য যেখানে বহু মানুষ শরীরচর্চা করে ঘাম ঝরাচ্ছেন, তেমন অনেকেই আছেন যারা ওজন বাড়াতে চাইছেন। তবে ওজন বাড়াতে গিয়ে কোনো অসুখ যেন আপনার শরীরে বাসা না বাঁধে সেই দিকটাও নজরে রাখতে হবে।

আপনার ‘বডি মাস ইনডেক্স’ (বিএমআই) যদি ১৮.৫ এর নিচে থাকে, তাহলে মনে করা হয় আপনার ওজন স্বাভাবিকের থেকে কম। বিএমআই যদি ২৫ এর বেশি হয় তাহলে আপনার ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বলে মনে করা হয়। বিএমআই ৩০-এর বেশি হয়ে গেলে তা ওবেসিটির লক্ষণ বলে গণ্য করা হয়।


বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে যাদের ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় কম তাদের সময়ের আগে মৃত্যুর আশঙ্কা ওবেসিটি রয়েছে এমন মানুযের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি। এক্ষেত্রে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাদের মধ্যে হাড়জনিত অসুখের প্রবণতাও বেশি। এমনকি অনেকের ক্ষেত্রে বন্ধ্যাত্বের সমস্যাও দেখা যায়।


চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক কোন নিয়মগুলো মানলে দ্রুত ও স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন বাড়বে- 


একসঙ্গে অনেকটা খাবার না খাওয়া


ওজন বাড়ানোর সময়ে একসঙ্গে অনেক খাবার খাওয়া উচিত নয়। একসঙ্গে অনেকটা খাবার খাওয়ার পরিবর্তে অল্প অল্প করে খাবার বেশিবার খেতে থাকুন। তাতে খাবার হজমও হবে সঠিক ভাবে।


ক্যালোরিযুক্ত খাদ্য গ্রহণ


দ্রুত ওজন বাড়ানোর পরিকল্পনা করলে তা মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়। সারা দিনে আপনি যত ক্যালরি ঝরাচ্ছেন তার তুলনায় ৩০০-৫০০ ক্যালরি বেশি গ্রহণ করতে হবে। ওজন বাড়াতে চাইলে অবশ্যই খাদ্যতালিকায় উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার রাখতে হবে। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, আখরোট, পেস্তা, চিনাবাদাম, খেজুর, কিসমিস, আলুবোখারা, ফুলক্রিম দই, পনির, ক্রিম, মুরগির মাংস, আলু, মিষ্টি আলু, চকলেট, কলা, আ্যভোকাডো, পিনাট বাটার ইত্যাদি রাখতে পারেন। 


শর্করার আধিক্য


অনেকেই শর্করা একেবারে কম গ্রহণ করেন। এটা একেবারেই ঠিক নয়। যাদের ওজন কম, তাদের অবশ্যই মোট ক্যালরির শতকরা ৫০-৬০ ভাগ শর্করা গ্রহণ করতে হবে। দিনে তিন বার প্রধান খাবার হিসেবে শর্করা গ্রহণ করতে হবে। এ ধরনের খাবারের মধ্যে আলু, আটা, চাল, পাস্তা রাখতে পারেন।


কম ফ্যাট ও বেশি প্রোটিন


ফ্যাট জাতীয় খাদ্যের তুলনায় প্রোটিন বেশি পরিমাণে খাওয়ার চেষ্টা করুন। প্রোটিন আপনার পেশির ওজন বাড়াতে সাহায্য করবে। ফলে পেশি মজবুত হবে। কর্মদক্ষতা বাড়বে। বেশি ফ্যাট খেলে আপনার শরীরে মেদ জমবে যা স্বাস্থ্যের পক্ষে একেবারেই ভালো নয়।


দই ও দুধ খাওয়া


ওজন বৃদ্ধির জন্য দারুণ উপকারী দই এবং কলা। অনেকেরই দুধের সঙ্গে কলা খেতে নানা সমস্যা দেখা দেয়। সেক্ষেত্রে পুষ্টিবিদরা সকালে দইয়ের সঙ্গে কলা মিশিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। স্বাভাবিক পদ্ধতিতে ওজন বাড়ানোর জন্য দুধ খুবই উপকারী। প্রতিদিন খাবারের তালিকায় অবশ্যই দুধ রাখা প্রয়োজন। এছাড়াও তার মধ্যে সামান্য অশ্বগন্ধা গুঁড়া মিশিয়ে প্রতিদিন খেলে তা ওজন বাড়াতে সাহায্য করবে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.