সেকেলে কলকাতা। যে কলকাতায় রাত নামলেই শুরু হত শরীরী খেলা। হাতে বেলফুলের মালা জড়িয়ে পতিতাদের সঙ্গে যে খেলায় মেতে উঠতেন শহরের তথাকথিত বাবুরা। একদিকে যখন ভুতুড়ে শহরে পরিণত হত কলকাতার একাংশ, তখনই আরেক অংশ রঙিন হয়ে উঠত শরীর-মদ আর উন্মত্তদের দাপাদাপিতে।
সময়টা বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে। কেমন ছিল সেকেলে কলকাতার রাত? কী চলত সেখানে? কারাই বা মজেছিলেন সেই রহস্যময় খেলায়? তার বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায় শ্রী হেমেন্দ্রকুমার রায় প্রণীত ‘কলকাতার রাত্রি রহস্য’ বইতে।
তিনি নিজেই রাতের পর রাত সরেজমিনে খুঁটিয়ে দেখেছেন কলকাতার বিখ্যাত সব গণিকাপল্লি।
তখন নাকি সোনাগাছি, রুপোগাছিতে গিয়ে হঠাৎই খালি হয়ে যেত গাড়ি। তারপর গাড়ির ভেতর থেকে নেমে আসত মাড়োয়ারি বা হঠাৎ বাবুরা। শুধু কি তাই- রাত নামলেই এসব বিখ্যাত পতিতা পাড়ার দিকে পা বাড়াতেন বিখ্যাত জজ, ম্যাজিস্ট্রেট, ব্যারিস্টার, উকিল, ডাক্তার, পণ্ডিত সম্পাদক এবং সাহিত্যিকদের মত নামীদামী মানুষরাও।
সেকেলে শহরে এমনও কিছু সাধু ব্যক্তি ছিল, যারা দিনের আলোতে শহর থেকে পতিতাদের উঠিয়ে দেওয়ার জন্য প্রকাশ্য সভায় ভাষণ দিতেন, আর রাত নামলেই ঢুকতেন সেসব পতিতাদেরই ঘরে।
তখনকার জনপ্রিয় সোনাগাছি তো আজও মানুষের কাছে অত্যন্ত পরিচিত। অনেকের কাছে বিখ্যাত আবার অনেকের কাছে কুখ্যাতও বটে।
কিন্তু রুপোগাছি? এ কোন গণিকাপল্লী? শহরের কোন প্রান্তে এর অবস্থান? সোনাগাছির সঙ্গেই কি রুপোগাছির কোনো যোগসূত্র ছিল?
যোগসূত্র ছিল কিনা সেটা বলা বেশ মুশকিল। তবে এটুকু বলাই যায়, সোনাগাছির সঙ্গে নাম মিলিয়ে গরানহাটা এলাকার পতিতাপল্লীর নাম রাখা হয়েছিল রুপোগাছি। এখানকার পতিতারা সংখ্যা এবং কৌলীন্যে সোনাগাছির পরেই। তাই সোনাগাছির সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই গরানহাটার পতিতাপল্লীর নাম হয় রুপোগাছি। যার বর্তমান নাম নিমতলা স্ট্রিট।
ভিডিও ভাল লাগলে আমাদের ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন। এমন আরও নিত্য নতুন স্টোরি আসবে।





Post a Comment